রাজধানীর একটি হাসপাতালে খৎনা করাতে এসে পাঁচ বছরের শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো চিঠিতে আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত শিশু আয়ানের মৃত্যুর খবর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে এসেছে। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেছেন, খৎনা করার সময় আংশিক অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কথা। কিন্তু আয়ানকে পুরো অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছে। এজন্য হাসপাতাল কোনো অনুমতিও নেয়নি।’
মানবাধিকার কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ‘অভিযোগে বর্ণিত সুন্নতে খৎনার ঘটনায় পরিবারের বিনা অনুমতিতে ভুক্তভোগী শিশুর পুরো শরীরে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ এবং এর ফলে উক্ত শিশুর মৃত্যু ঘটার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক। কমিশন মনে করে, চিকিৎসকের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার কারণে কারও মৃত্যু বা অন্য কোনো ধরনের ক্ষতি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বর্ণিত অভিযোগের নিবিড় তদন্তপূর্বক সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি এবং একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ আদায় করা আবশ্যক।’
গত ৩১ ডিসেম্বর পাঁচ বছরের শিশু আয়ানকে খৎনা করানোর জন্য সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবার। সেদিন বেলা ৯টায় খৎনা করার জন্য তাকে পুরোপুরি অজ্ঞান করা হয়। খৎনা করার পর ১১টায়ও জ্ঞান না ফিরলে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে এনে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় আয়ানকে। রবিবার রাতে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশু আয়ানের মৃত্যু সনদে ‘কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিওর, মাল্টিঅর্গান ফেইলিওর এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখায়।
এদিকে আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেখানকার দুজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার পরিবার। এ ছাড়া এ ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন এক আইনজীবী।
জয়ন্ত/সালমান/