জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩ কোটি ৬০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯২ টাকা অর্জনের অভিযোগে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাইন উদ্দিন বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর উপপরিচালক মো. ফজলুল বারী বিষষটি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, মনসুর রহমান এমপি ছিলেন মাত্র এক মেয়াদে (পাঁচ বছর)। এমপি হওয়ার আগে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। পরে একাদশ জাতীয় সংসদে এমপি হয়েই এলাকায় নিয়োগ-বাণিজ্য করেই শতকোটিসহ কয়েক শ কোটি টাকা কামানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সেই টাকা রাখার জন্য তিনি নিজের বাড়িতে দেয়ালের সঙ্গে সিন্দুক বানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে নিয়োগ-বাণিজ্য, অর্থ পাচারসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
দুদকের মামলায় বলা হয়, ডা. মনসুর রহমান ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে এমপি থাকাকালে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করেন। তার ব্যাংক হিসাবের বিবরণীর সূত্রে বলা হয়েছে, এই সময়ে ডা. মনসুর রহমান তার নামের তিনটি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৭টি জমা ভাউচারের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ১০ লাখ টাকা জমা করেন। তিনি এসব অর্থ কীভাবে, কোন উৎস থেকে উপার্জন করেছেন তার সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি টিম ডা. মনসুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসার পর প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেন। অনুসন্ধানে তার বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য পায় দুদক। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর উপপরিচালক মো. ফজলুল বারী জানান, প্রাথমিক তদন্তে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ায় ডা. মনসুরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাইন উদ্দিন বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি এখন তদন্ত করা হবে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান ডা. মনসুর রহমান। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছে। তবে আত্মগোপনে থাকায় মামলার বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।