ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’ রাজবাড়ীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২ উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’ দেশের বাজারে ভিভোর নতুন স্মার্টফোন বাবার মামলায় ছেলের জেল, হাজতেই আত্মহত্যা মাদক ও বিচারহীনতার বিষবৃক্ষ সন্দ্বীপে টর্নেডো, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার রাজনীতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নড়িয়ায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা আটক ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার স্মার্টফোন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ‘ক্লড কোওয়ার্ক’ ওলিসের হলুদ কার্ড বহাল রাখল ফিফা খাদ্য অধ্যায়ের ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী লোহাগাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই পানিবন্দি প্রসূতিকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪২ ধামরাইয়ে ৭৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২৫ বছরের তরুণীর বিয়ে চারঘাটে শিশু ধর্ষণের ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ধর্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের বিপক্ষে মহালড়াইয়ে সাইবারিকে হারাচ্ছে মরক্কো

৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের নতুন বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইইপি) চালু, দালাল ও সাব-এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠনের কথাও জানান মন্ত্রী।

সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে দাফন ও বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এলিস/এএফ

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার আমদানি সহজীকরণ, শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও চালসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি সহজীকরণ, বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুল্ক ও করহার সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি চলমান রয়েছে।

সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে বাংলাদেশের ৮১২টি পণ্য (চার ডিজিট এইচএস কোড) রপ্তানি হয়েছে। প্রধান রপ্তানি পণ্য থেকে আয় হয়েছে ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওভেন পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা এবং প্রকৌশল পণ্য।

এদিকে চা খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি কমেছে। ২০২৫ সালে ৯৪ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়; দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে ১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি রপ্তানি এবং মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি করা হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভর্তুকিতে সার, ক্ষুদ্র চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলিস/এএফ

৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের নতুন বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইইপি) চালু, দালাল ও সাব-এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠনের কথাও জানান মন্ত্রী।

সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে দাফন ও বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এলিস/এএফ

সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব। একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে বড়সড় জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী-ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যে ট্রেন লাইন গেছে, সেখানে কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে, কিন্তু আমি নিজে যাচাই করে দেখেছি সেখানে বড়জোর দুই লাখের মতো গাছ হবে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

তিনি জানান, উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে সমৃদ্ধি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে আমরা ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ’ এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’সহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামী ৫ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

অযৌক্তিকভাবে গাছ না লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছামতো গাছ রোপণ করলে আমাদের লক্ষ্য সফল হবে না। কোন পরিবেশে, মাটিতে ও আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা প্রয়োজন, সেই সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। নব্বইয়ের দশকে লাগানো ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছ পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এর বদলে দেশীয় প্রজাতির ওষুধি, অর্কিড, বাঁশ জাতীয় বনজ, ফলদ বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা বেশি দরকার।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটি শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। 

যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক যুবকের রাস্তায় প্যাকেট ছুড়ে ফেলার কথা উল্লেখ করে তিনি পরিবেশকর্মীদের সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানান।

জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ— এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। কোনো একটি পোকা বা মাকড়সা দেখলে আমরা মেরে দেই। ও তো আপনাকে কামড়াচ্ছে না, কী দরকার ওকে মারার? একটা পাখি দেখলে আমরা ঢিল মারি। এসব জিনিস আমাদের বাচ্চাদের শেখানো উচিত।

উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক এটিই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। দেশ হোক সব প্রাণী এবং প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।

অন্তরা/

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই। ছবি: ইউএনবি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারের এই জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন শোষণ করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমায় এবং পরিবেশকে নির্মল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের সর্বত্র বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সহজ হবে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি বলেন, উন্নত জীবনের জন্য যেমন প্রয়োজন সমৃদ্ধ দেশ ও শক্তিশালী অর্থনীতি, তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বন। সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও সবুজ বন পরস্পর ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত।

একটি গতিশীল ও সম্ভাবনাময় সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে বন ও বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই দেশকে সবুজে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বাড়ির আনাচে-কানাচে, পতিত ও প্রান্তিক জমিতে, খাল ও নদীর পাড়ে, বাঁধে, সড়ক ও সড়কদ্বীপে, বাড়ির ছাদে এবং শহর-বন্দর নির্বিশেষে উপযুক্ত প্রতিটি স্থানে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রমে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বৃক্ষমেলা দেশে সবুজায়ন আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ষরোপণে দেশবাসীকে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ বছরও জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশবাসী বৃক্ষমেলা থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ লাভ করবে।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ এবং তার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বছর যারা ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার, ২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার, ২০২৬’ এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ অর্জন করেছেন, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

আজহার/

আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তবর্তী সরকার থাকবে, সব শ্রেণীর মানুষের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত হবে।’ 

জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যা যা করা দরকার সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘রায়ে ৫৪টি বিষয়ে বলা হয়েছে, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে ৫৪টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া এই রায়ে অন্তত চারটি বিষয়ে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জন আকাঙ্ক্ষা সামনে রেখেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে।’

এর আগে এদিন সকালে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ আদেশের ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়।

রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল করেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন ঊচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি এ রায়ে।

অন্তরা/