ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর

গণ-অভ্যুত্থানের সনদের ভিত্তিতেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪০ পিএম
গণ-অভ্যুত্থানের সনদের ভিত্তিতেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

চার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এখন সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে গণ-অভ্যুত্থানের সনদ তৈরি করা হবে। আর সেই সনদের ভিত্তিতে হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, সংবিধান এবং দুদক সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন জমা হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হলো মন্তব্য করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটার মাধ্যমে আমরা আলোচনা শুরু করব সবার সঙ্গে যে সবার মন এর মধ্যে সায় দিচ্ছে কি না; অঙ্গীকারগুলো পূরণ হচ্ছে কি না, সেটার আলোচনা।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আলোচনার রসদ আপনারা (সংস্কার কমিশন) তৈরি করে দিয়েছেন। সে আলোচনার পরবর্তী অধ্যায়টা কী হবে, সেটাও আমরা জেনে রাখি- একটা মতৈক্য প্রতিষ্ঠা হবে। সবাই একমত হবেন না। কিছু অংশে একদম একমত হবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কী স্বপ্ন দেখলাম যে একা একা স্বপ্ন দেখলাম? মানুষের স্বপ্নের অংশ নেই, সেটা তো হতে পারে না। আমরা কতটুকু সে (গণ-অভ্যুত্থানের) স্বপ্ন নিয়ে আসছি, সেটার জন্যই এই আলোচনা। এটা বাইরে থেকে চাপানো জিনিস না; ভেতর থেকে উদ্ভূত একটা জিনিস।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যে আলোচনা হবে, সে আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন আপনারা (সংস্কার কমিশন) মতৈক্য প্রতিষ্ঠার জন্য। যেহেতু আপনারাই তাদের পক্ষ থেকে স্বপ্ন দেখেছেন, কীভাবে তাদের স্বপ্ন, আপনাদের স্বপ্ন একাকার হয়ে যাবে, তার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের একটা চার্টার তৈরি হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘ওই যে নতুন বাংলাদেশের চার্টার, সেই চার্টার মতৈক্যের ভিত্তিতে হবে। নির্বাচন হবে, সবকিছু হবে; কিন্তু চার্টার হারিয়ে যাবে না। এ চার্টার থেকে যাবে ইতিহাসের অংশ হয়ে। এটা আমাদের জাতীয় কমিটমেন্ট। এটা কোনো দলীয় কমিটমেন্ট না। আমরা চাচ্ছি সব দল এই চার্টারে সাইন অন করবে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘ওই যে বললাম ঐকমত্য। আমাদের বাংলাদেশি, বাঙালি জাতির সনদ বুকে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। যত তাড়াতাড়ি পারি, যত বেশি পরিমাণে বাস্তবায়ন করতে পারি, বাস্তবায়ন করতে থাকব। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হবে, এটার ভিত্তিতে, এই চার্টারের ভিত্তিতে।’ 

বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে ধারণা দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। 

তিনি বলেছিলেন, ‘ভোট কবে হবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে কতটা সংস্কার করে নির্বাচনে যাওয়া হবে, তার ওপর। মোটা দাগে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে হতে পারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন।’

বৈঠকে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূস বলেন, ‘যে চার্টার আমরা ধরে রেখেছি, তার যতকিছুই হোক, এটা যেন আমাদের হাত থেকে ছেড়ে না যায়। তাহলে এ স্বপ্নের যে কন্টিনিউটি, সেটা থাকবে কী করে? আমরা সে স্বপ্নের কন্টিনিউটি চাই, বাস্তবায়ন চাই।’

তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন তারই একটা অংশ হবে। চার্টারের একটা অংশ হবে। ঐকমত্যের নির্বাচন হবে। তা না হলে চার্টার তো হারিয়ে যাবে- ঐকমত্য না হলে। সেভাবেই আমরা অগ্রসর হতে চাই। কাজেই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আমাদের সে গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে এবং তার জন্য পরবর্তী অধ্যায় শুরু।’ এই সনদ অনুসরণ করে পরবর্তী সরকার অগ্রসর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে ‘ঐতিহাসিক নোট’ বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা না, এটা একটা ঐতিহাসিক নোট। …এ ঘটনাটা, আজকের ঘটনাটা ইতিহাসের, ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এর কারণটা সবাই আমরা বুঝি, কারণ ইতিহাসের প্রবাহ থেকেই কমিশনগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। এত ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি, এ ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির হঠাৎ পুনরুত্থান হয়েছে। মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শিরদাঁড়া খাড়া করে দাঁড়িয়েছে। সেখান থেকে ইতিহাসের সৃষ্টি। আজকের এ অনুষ্ঠান, সে ইতিহাসের অংশ। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন রিপোর্ট দেওয়ার বিষয় না।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা সেই ইতিহাসকে ধারণ করতে পারছি কি না, সেটা সামনে নিয়ে যেতে পারছি কি না, সেই ইতিহাসের যে অঙ্গীকার ছিল, সে অঙ্গীকারটা আমরা পূরণ করতে পারছি কি না, সেটিই আমাদের প্রশ্ন এবং আত্মবিশ্বাস যে আমরা পারব।’

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তৃতায় বলেন, ‘আজকের যে রিপোর্টগুলো আমরা হাতে নিলাম, ডেফিনেটলি এটা ইন্টেলেকচুয়াল- একটা বড় এক্সারসাইজ দেশের জন্য। কেউ এটা অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু আজকের গুরুত্বটা ইন্টেলেকচুয়াল এক্সারসাইজের জন্য না। আমরা মানুষের মনোভাবকে, মানুষের স্বপ্নকে এর মধ্যে ধারণ করতে পেরেছি কি না, সেটাই প্রশ্ন। কাজেই আমাদের বিচার (মানদণ্ড) হবে, আমরা সেই স্বপ্নকে ধারণ করতে পেরেছি কি না। আজকে তার (সেই স্বপ্নের) যাত্রা শুরু হলো।’

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এর দুই দিন বাদে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা করে। সেই দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের একটা উচ্চাংশে আমরা এসেছিলাম একটা নতুন দেশ, নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার স্বপ্ন নিয়ে। এটার কাঠামো রচনা করার কাজ, দায়িত্ব আপনাদের কাছে দিয়েছিলাম কমিশনের মাধ্যমে। স্বপ্ন আছে, এখন সে স্বপ্নগুলোর রূপরেখা তুলে ধরার জন্য। এটা ক্লাসরুমে পড়া হবে, অনেক শিক্ষণীয় বিষয় থাকবে, এ রকম ব্যাপারটা না। জাতির পুনরুত্থান হলো, যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পুনরুত্থান হলো, সেই পুনরুত্থানকে আমরা ধারণ করতে পেরেছি কি না, সেটিই আমাদের বিবেচ্য বিষয় হবে।’

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামানসহ কমিশনগুলোর সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বিডিনিউজ

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের প্রাথির্তা বৈধ এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সব আইনি বাধা দূর হয়। এরপর আদালতের রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব আইনি বাধা দূর হয়।

এলিস/এএফ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।

শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

এসএন/

‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া নিষিদ্ধের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিল এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’—এই দুটি বেসরকারি বিল উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অনুরোধে তিনি বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিল দুটির উদ্দেশ্য বিদ্যমান আইনেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

এছাড়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মদ্যপান ও মদ্যজাতীয় পানীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই নতুন করে একই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, যেহেতু বিলের প্রস্তাবক আইনমন্ত্রীর অনুরোধে বিল উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, তাই বিল দুটি ভোটে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রত্যাহার হওয়া ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিলে বলা হয়েছিল, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ এবং তরুণ সমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার বিধান করা প্রয়োজন।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়, মদ্যপান ও জুয়ার আসক্তি তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার উন্নয়নে এ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলে ময়নাতদন্তের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। এতে বিশেষ করে নারীদের মরদেহ পর্দার আড়ালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা এবং সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের সুযোগ রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এলিস/এএফ

৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি
খবরের কাগজ ইনেফোগ্রাফিক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় বড় ধরনের সংশোধনী এনে ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ানো, ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা আগেভাগে প্রকাশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপনের বিধান রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়সূচি জানান।

এতে বলা হয়, ৩১ জুলাই ২০০৮ বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী এবং ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ৪ আগস্টের মধ্যে খসড়া তালিকার পিডিএফ মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হবে, ৯ আগস্ট খসড়া প্রকাশ, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি-আপত্তি গ্রহণ, ২৭ আগস্ট নিষ্পত্তি এবং ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন। 

অন্যদিকে, ভোটকক্ষ বরাদ্দের নিয়মে বড় পরিবর্তন এনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্থাটি।

গত ৭ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের যে কোনো সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন— উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। আগে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪০০ এবং ৩০০-৩৫০ জন।  উপনির্বাচনেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।  

সংশোধিত নীতিমালায় ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ দিন। ভোটকক্ষ কমলেও ভোটগ্রহণে গতি বজায় রেখে ভোটারের চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ মৌলিক বিধানগুলো অপরিবর্তিত থাকছে।

এলিস/এএফ

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আদনান আজাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আরিফুল আমিন

দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৬’ (স্বর্ণপদক) পেয়েছেন আদনান আজাদ (ফয়সাল বিন আজাদ)। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কারের ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিপর্যায়ে তিনি এই সম্মাননা লাভ করেন। আদনান আজাদ বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা ২০২৬, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর যৌথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আদনান আজাদের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘রেপটাইল ম্যান অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত আদনান আজাদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে আসছেন। গত ২৮ বছর ধরে লোকালয় ও মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়া অসংখ্য সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বুনো হাতির নিরাপদ করিডোর সংরক্ষণের দাবিতে ২০২১ সালে উচ্চ আদালতে রিট করেন, যা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে হাতি সংরক্ষণ নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি তিনি দেশের একজন অন্যতম বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী হিসেবেও সমাদৃত।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় আদনান আজাদ বলেন, এই স্বীকৃতি দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাঁর কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে। লোকালয়ে চলে আসা বন্যপ্রাণী হত্যা না করে, সেগুলোকে উদ্ধার ও অবমুক্ত করার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

/আবরার জাহিন