আসছে রমজান মাসে জিনিষপত্রের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম৷
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত দ্রোহের গ্রাফিতি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘দেশের মুদ্রাস্ফীতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল থাকবে।’
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে থেকে সম্পূর্ণ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনো ব্যাংক অবসায়ন হতে দেইনি। প্রত্যেক গ্রাহক তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন। আমরা কোনো ব্যাংক বন্ধ হতে দেইনি। ব্যাংকগুলো তাদের সম্পূর্ণ সুস্থতা ফেরত পাবে।
রিজার্ভ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, প্রচুর প্রাইভেট কোম্পানি বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট করে তাদের লভ্যাংশ নিতে পারেনি। এর ফলে আদানিসহ বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশের কাছে প্রচুর টাকা পেতো। ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাবসা গুটিয়ে নিয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই টাকাগুলো দেওয়া হচ্ছে। সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের মধ্যে আমরা চার বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছি। এই টাকা দেওয়ার পরও আমাদের রিজার্ভ ২০ মিলিয়নের নিচে নামেনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে দাবি করে প্রেস সচিব বলেন, গত মাসের মুদ্রাস্ফীতি ১ শতাংশ কমেছে। জুলাই নাগাদ ৭ থেকে ৮ শতাংশে নেমে আসবে। জনজীবন স্বস্তিতে ফিরে আসবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও এই স্থিতিশীলতার আবাস দিয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি ক্রমেই কমে আসবে।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘৩২ এর ব্যাপারে আমরা তিন তিনটা স্টেটমেন্ট দিয়েছি। প্রফেসর ইউনুস বলেছেন, সবাইকে শান্ত হওয়ার জন্য এবং অলরেডি জনগণ শান্ত হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে কাজ করছি। আর সাভারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’
এর আগে প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ এবং পতিত স্বৈরাচার, চোরতন্ত্রের জননী, গুমের জননী, তারা বাংলাদেশের এই ন্যারেটিভকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে। আপনি ওদের মেসেজগুলো দেখেন, তিন হাজার পুলিশ মারা গেছে। ওদের মেসেজে ইউনূস হচ্ছে জঙ্গি লিডার, ইউনূসকে ঘিরে যারা আছে তারা জঙ্গি লিডার। এটা কেন করছে জানেন? এটা খুবই ওয়েল কন্সট্রাকটেড ক্যাম্পেইন। এর সঙ্গে ভারতীয় মিডিয়াও জড়িত। হাসিনার অলিগার্কগুলো মিলিয়নস অফ ডলার খরচ করছে।
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/