দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং নারীদের হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, নারীরা নিজ ঘরে ও পরিবারে থেকেও আজ নিরাপদ নয়, যা দেশের সামগ্রিক নারী নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে স্পষ্ট করছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে মহিলা পরিষদ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের চারটি জেলার নৃশংস ঘটনা নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্রকে আরও মর্মান্তিকভাবে তুলে ধরেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামে গৃহবধূ এবং তার শ্বশুরকে নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ভোলা সদর এলাকায় আরেক ঘটনায় দুই সন্তানের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী এক যুবক ও তার সহযোগীরা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক গৃহবধূকে তার দেবর দেড় বছরের সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ধর্ষণ মামলার বাদীকে মামলা তুলে না নেওয়ায় মারধর করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
মহিলা পরিষদ বলেছে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, সমাজে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েই চলেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সংগঠনটি অবিলম্বে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে নির্যাতিতদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের উচিত এসব ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং দেশের নারী ও কন্যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
তিথি/সুমন/