চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদক মামলার আসামি, তালিকাভুক্ত মাদককারবারি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার বাড়িতে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকনের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ওই অডিওতে তাকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ ধরনের অভিযানে না যাওয়ার বিষয়ে ধমক দিতে শোনা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টুটুল তালিকাভুক্ত মাদককারবারি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপে আনোয়ার হোসেন খান খোকনকে বলতে শোনা যায়, ‘শুনলাম আপনি কিছু ছেলেপেলেকে নিয়ে টুটুলের বাসায় গিয়েছিলেন, আইসি সাহেবও ছিলেন। তাদের প্ররোচনায় পড়বেন না। সে আওয়ামী লীগ করে, তাই বলে সে খারাপ, এমন কথা নয়। তবে আমাদের কিছু মানুষজন আছে, যারা তাকে ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। যারা প্রকৃত বদমাশ, তাদের ধরেন, আমার আপত্তি নেই। আর যদি ওসি সাহেব গিয়ে থাকেন, বলেন, আমি দেখছি।’
আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, ‘টুটুলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে যশোরের একটি পক্ষের সঙ্গে ফেনসিডিলের টাকা নিয়ে তার বিরোধ হয়েছিল।’
আরও জানা যায়, টুটুলের বিরুদ্ধে যশোরের কোতোয়ালি থানার এফআইআর নং-১৬, জি আর নং-৯৯২, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪২ ধারায় একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭/৩০ ধারায় হওয়া এফআইআর নং-১, জি আর নং-৬১/১২ মামলায়ও তিনি আসামি।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, টুটুলের বিরুদ্ধে যশোর থানায় একটি মাদক মামলা এবং জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সবাই তো খারাপ না। আওয়ামী লীগের যারা নিরীহ আছে তাদের যেন হয়রানি না করা হয়। আর যার জন্য বলেছি, সে কোনো মাদককারবারি না।’
একই সঙ্গে তিনি ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডকে অবান্তর বলে দাবি করেন।
মিজানুর রহমান/অদিতি/