ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ভার্চুয়াল শত্রুতার বলি আমার প্রিয় ঠিকানা হালদা নদীর সব মাছেই মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বর্তমান কোচিং স্টাফ থাকলে দলে ফিরবেন না পেপে গুয়ে! ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ফিনিক্স সামিটে দেশের সেরা জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক আসামি বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সন্তানের সবচেয়ে বড় যা প্রয়োজন রোনালদোর চেয়েও ছোট! পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে কে এই রহস্যময় রেফারি? ব্যাংককে আকিজ সিমেন্টের বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সিলেটে ওসমানী হাসপাতালে ডিউটিরত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর ওয়ার্ড বয়দের হামলা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় বাগ্‌দান, পরে গ্রেপ্তার দম্পতি রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশের লক্ষাধিক মসজিদের মিম্বার থেকে উচ্চারিত হয় বিজয়ের ধ্বনি

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৮ এএম
দেশের লক্ষাধিক মসজিদের মিম্বার থেকে উচ্চারিত হয় বিজয়ের ধ্বনি
৬ খতিবের ছবি

পরাধীনতার দেয়াল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করা ইসলামের মৌলিক চেতনা। শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ইসলামের আদর্শ। ইসলাম কখনো পরাধীনতাকে প্রশ্রয় দেয়নি। মানুষকে স্বাধীন রাখতে চায় ইসলাম। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরাধীনতার শিকল ভেঙে বিজয় ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশিরা। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে এদিন অভ্যুদয় ঘটে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। বিশ্ব মানচিত্রে খচিত হয় বাংলাদেশের নাম। এদিন গর্ব ও গৌরবের দিন। আনন্দ ও সুখের দিন। এদিন নিয়ে দেশের কয়েকজন খতিবের ভাবনা এবং তাদের কাজকর্ম তুলে ধরা হলো—

 

‘মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে মসজিদও এতিমখানা করা হোক’

মুফতি ইয়াহইয়া মাহমুদ

খতিব, বাইতুল মারুফ জামে মসজিদ, রামপুরা

 

১৬ ডিসেম্বর এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিনে পাক হানাদার জালেম বাহিনীর বিরুদ্ধে মজলুম বাংলাদেশিদের সম্মিলিত প্রয়াসে বিজয় অর্জিত হয়। এদিন আমার অন্তরে অন্যরকম একটা আনন্দের অনুভূতি বয়ে যায়। এ বিজয় আমাদের গর্বের। কিন্তু আল্লাহ যে বিজয়ের কথা বলছেন, সে বিজয় যদি আমরা না পাই—আমাদের সবকিছুই বৃথা। ক্ষণিকের এ বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে আখেরাতে মুক্তি বা চিরকালীন বিজয় নিয়েও ভাবতে হবে।

 

যারা দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন—বিজয় দিবসে তাদের স্মরণে দোয়া করা, ইসালে সওয়াব করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু এই দিবসকে কেন্দ্র করে গুনাহের আয়োজন দেখলে বড় কষ্ট লাগে।

 

যারা এই দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন, সরকার যদি তাদের স্মরণে বিশাল মসজিদ নির্মাণ করত এবং সে মসজিদে হাজারও মানুষ নামাজ পড়ত, এর সওয়াব তাদের রুহে পৌঁছত। বা এদের নামে যদি বড় এতিমখানা করত; তাহলে এতিমদের লালন-পালনের সওয়াব আল্লাহ তাদের রুহে পৌঁছাতেন। আমার মন চায়, আমার মন কাঁদে—তাদের জন্য ইসালে সওয়াবের কাজ করতে। এমনটা করা সম্ভব হলে আমার মনটা আনন্দিত হতো। কিন্তু আমার তো ক্ষমতা নেই।

 

‌‘ঈমানের পর অন্যতম বড় নেয়ামত হলো স্বাধীনতা’

মাযহারুল ইসলাম

খতিব, আম্বরশাহ শাহী জামে মসজিদ, কারওয়ান বাজার

 

ঈমানের পর অন্যতম বড় নেয়ামত হলো, স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করা। স্বাধীনতার জন্য বিজয় লাভ করা নেয়ামত। বিজয় দিবস বা কোনো দেশ স্বাধীন হওয়ার ক্ষেত্রে বিজয়োল্লাস করা ইসলাম সমর্থন করে।

 

বিজয় দিবসে গরিব-অসহায়ের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করার পাশপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যারা বিজয় অর্জন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন বা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন—তাদের জন্য মসজিদে মসজিদে দোয়া করা। শুধু বিজয় উৎসবকেন্দ্রিক দোয়া নয়; সব সময় দোয়া করা। তাদের ত্যাগেই আমরা স্বাধীনতা ভোগ করছি।

 

এ ছাড়া খতিবদের জন্য অবশ্য করণীয় হলো—বিজয় দিবসের তাৎপর্য, এর গুরুত্ব, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের আলোচনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং দেশপ্রেমে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে বিজয় পালন করেছেন, তা-সহ আনন্দ-উৎসবের ইসলামের বিধান নিয়ে আলোচনা করা। ইসলামে আনন্দ উদযাপন করা বৈধ, তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন শরিয়তের সীমা লঙ্ঘিত না হয়। মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এত বেশি খুশি হয়েছিলেন, তিনি খুশিতে অনেককে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকনির্দেশনা মেনে ইসলামি বিধান মোতাবেক বিজয় উদযাপন করা। 

 

‘স্বাধীনতা মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়’

মুফতি মিনহাজ উদ্দিন

ইমাম ও খতিব, চকবাজার শাহী মসজিদ

 

মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ এবং জানবাজ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্তম্ভে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। আমার বিশ্বাস, এ নির্ভীক ত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রজন্মের বিবেকের বাতিঘরে আলোর দিশারী হবে। মহান এ মুক্তির সংগ্রাম ও অর্জিত বিজয় বিশ্বব্যাপী আগত-অনাগত সমস্ত জালিমের বিরুদ্ধে হকপন্থি নিপীড়িতদের পক্ষে একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

স্বাধীনতার সংগ্রামে শাহাদাতবরণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না। তবে একজন দায়িত্বশীল মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত—কবরের জগতে মহান আল্লাহ যেন তাদের শান্তির ব্যবস্থা করে দেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন, সে জন্য ইসালে সওয়াব, কোরআনের তেলাওয়াত ও দোয়া-মাগফেরাত করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর নয় এমন সমস্ত কর্মকাণ্ড বর্জন করা।

 

বিজয়ের এই দিনে আমরা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ার ব্যবস্থা করে থাকি। মাদ্রাসার বাচ্চাদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, বক্তৃতার আয়োজন করি। আমরা মানুষের মধ্যে সত্যিকারের দেশপ্রেম জাগ্রত করা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা তৈরির লক্ষ্যে জুমার বয়ানে কথা বলি।

 

‘দেশপ্রেম রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তম আদর্শ’

মুফতি ওসমান গণি সালেহী

খতিব, টাউন হল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর

 

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষের বিজয়ের দিন। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো, তার ভূখণ্ড ও মাতৃভূমিকে সম্মান করা এবং ভালোবাসা। এটা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তম আদর্শ। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মাতৃভূমি পবিত্র মক্কা ছেড়ে হিজরত করে মদিনায় পাড়ি জমাচ্ছিলেন, তখন তার চোখে অশ্রুর বন্যা বয়ে যাচ্ছিল।

 

যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, স্বাধীনতা, মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন; বিজয় দিবসে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা উচিত। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা অভাবগ্রস্ত আছেন, তাদের সহযোগিতা করা উচিত। আমি জুমার দিনে মসজিদে দেশপ্রেম নিয়ে আলোচনা করি এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা বলি। শুধু আমি নই; দেশের লক্ষাধিক মসজিদের মিম্বার থেকে উচ্চারিত হয় বিজয়ের ধ্বনি। 

 

কোরআনে বিজয় দিবসের বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলোর ওপর আমল করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর আট রাকাত নামাজ পড়েছিলেন, শত্রুদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন করেছিলেন, আমরাও যখন পৃথিবীতে কোনো বিজয় লাভ করব, আমরাও এমনটি করব। আমরা প্রতিশোধ নেব না। ইউসুফ (আ.) ভাইদের প্রতি প্রতিশোধ নেননি, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। নবিজিও মক্কা বিজয়ের পর প্রতিশোধ নেননি, ক্ষমা করে দিয়েছেন।

 

‘মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের শান্তি সমৃদ্ধির দোয়া করা উচিত’

মুফতি সফিউল্লাহ আদম

খতিব, আন নুরানী জামে মসজিদ এরশাদনগর, টঙ্গী

 

১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ বিজয় অর্জিত হয়। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ লাভ করি। আমরা মুসলিম হিসেবে বিশ্বাস করি, মানবজীবনে সব অর্জন আল্লাহতায়ালা কর্তৃক প্রদত্ত। যেকোনো সফলতা শুধু তাঁরই দয়া-অনুগ্রহের দ্বারা লাভ হয়। তেমনই পরাধীনতার শিকল ভেঙে জালেমকে পরাজিত করা ও বিজয় লাভ করা—নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালার অনেক বড় নেয়ামত। তাই এই বিজয় যেন আমাদের আরও বেশি আল্লাহমুখী করে; তাঁর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনে সহায়ক হয়। পাশাপাশি বিজয়ের সঠিক চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণসাধনে আত্মনিয়োগ করা। মনে রাখতে হবে, শুধু আনুষ্ঠানিকতানির্ভর বিজয় দিবস পালনের মাধ্যমে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কখনো অর্জিত হবে না। সামগ্রিক সুশাসন ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র পরিচালনা আমাদের বিজয়কে প্রকৃত অর্থে সার্থক করে তুলবে।

 

যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই বিজয়, তাদের জন্য এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য এদিন দোয়া করি। জুমার মিম্বারে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যক্তিগতভাবে সুযোগ হলে ছাত্রদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনাই। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে আলেমদের অবদান এবং ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধ বিষয়ে আলোকপাত করি।

 

‘তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি’

মুফতি মুহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ

খতিব, মধ্য পাইকপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মিরপুর-১

 

দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির অকৃত্রিম ভালোবাসা ইসলামসম্মত বিশেষ সহজাত গুণ। যা আমরা শিখেছি আদর্শিক মহামানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে। একজন ঈমানদার তখনই প্রকৃত মুমিন হতে পারেন, যখন তিনি তার দেশকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতে পারবেন।

 

একজন খতিব হিসেবে বিজয়ের মাসে আমি বিজয়ের শোকস্মৃতি ও রক্তক্ষয়ী দুঃখ-ব্যথাসংবলিত স্বাধীনতাকামী মহান মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনকথা মুসল্লিদের বয়স অনুপাতে তাদের সঙ্গে শেয়ার করি। কিশোরদের সঙ্গে কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প, যুবকদের সঙ্গে যুবক মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণদের সঙ্গে প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকথাগুলো শেয়ার করি।

 

মক্কা বিজয়ের শুকরিয়াস্বরূপ রাসুলুল্লাহ (সা.) আট রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই সূত্র ধরে মহান এই মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, বিজয় যারা ছিনিয়ে এনেছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য আমরা আট রাকাত নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করি, দোয়ার আয়োজন করে থাকি। মহান বিজয় ছিনিয়ে আনতে মুক্তিযুদ্ধে যারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, যারা সেই ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের খোঁজখবর নেওয়া, শহীদ পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা প্রদর্শন—প্রয়োজনে তাদের আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করে থাকি। এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করি।

 

 

আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়
বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাত। চারদিক নিস্তব্ধ, পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানার মোহ ত্যাগ করে পরম তৃপ্তিতে দাঁড়িয়ে যান জায়নামাজে। যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায়, তখনই শুরু হয় বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। দিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়ার এর চেয়ে দারুণ উপায় আর কী হতে পারে?

ইসলামে রাতের এই ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য সুন্নতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা একজন বিশ্বাসীকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়। ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহর কাছে এই সময়ের প্রার্থনার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো, রাতে উঠে নামাজ পড়া।’ (মুসলিম, ১১৬৩)

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হই, তখন রাতের এই শেষ প্রহরে আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হতে পারে সব সমস্যার সমাধান। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন–কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? কে আছো রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এই নামাজ শুধু পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করে মনকে করে তোলে শান্ত ও কোমল। সারা দিনের পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে রাতের এই নির্জন ইবাদত এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন, অলসতা কাটিয়ে অন্তত দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে হলেও রাতের এই সোনালি সুযোগকে কাজে লাগাই, জীবনকে করি সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

অহংকার ও অহংকারীকে চেনার উপায়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
অহংকার ও অহংকারীকে চেনার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

সকালের চায়ের টেবিলে বসে কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা প্রায়ই ভাবি, সমাজটা এত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে কেন? আসলে এই অসহিষ্ণুতার শেকড় লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ব্যাধিতে—যার নাম অহংকার। আমরা ভাবি অহংকার মানেই হয়তো কোটি টাকার দম্ভ। কিন্তু প্রতিদিনের যাপনে, আমাদের খুব চেনা মানুষের আচরণে, এমনকি নিজের অজান্তেই এই আত্মগর্বের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসলামি পরিভাষায় একে কিবির, তাকাব্বুর বা ইস্তিকবার বলা হয়। ইমাম রাগিব আল-আসবাহানির মতে, অহংকার হলো নিজের প্রতি এমন এক মুগ্ধতা, যা মানুষকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবায়। আর এর চূড়ান্ত রূপ হলো সত্যকে অস্বীকার করে স্রষ্টার অবাধ্য হওয়া। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) খুব চমৎকারভাবে বলেছেন, মানুষের সব নিন্দনীয় চরিত্রের মূল উৎসই হলো অহংকার ও হীনতা।

বাস্তব জীবনে একটু লক্ষ্য করলেই অহংকারের নানা রূপ আমাদের চোখে পড়বে। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো সত্যকে মেনে না নেওয়া। পবিত্র কোরআনে সুরা আন-নামলের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ অন্যায় ও অহংকারবশত সত্যকে অস্বীকার করে। আবার সমাজে অনেকে নিজের ক্ষমতা, পদবি বা শক্তির দম্ভ দেখান, যেমনটা করেছিল প্রাচীন আদ জাতি (সুরা ফুসসিলাত: ১৫)। এছাড়া অন্যের সাফল্যে হিংসা করা, অবজ্ঞাভরে পথ চলা (সুরা আল-ইসরা: ৩৭) কিংবা নিজের আমলকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করাও অহংকারের স্পষ্ট রূপ। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, কেউ যদি নিজের সম্মানে অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন অবধারিত করে নেয় (আবু দাউদ, ৫২২৯)।

কিন্তু যাপিত জীবনে একজন অহংকারী মানুষকে আপনি চিনবেন কীভাবে? মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কিছু চেনার উপায় নিচে দেওয়া হলো:

জনসমক্ষে একা চলতে অপছন্দ করা এবং সবসময় পেছনে অনুসারী বা চামচাবৃত দল রাখতে চাওয়া।

গরিব বা সাধারণ মানুষের দাওয়াত এড়িয়ে চলা এবং সমমানের না হলে অন্যের বাড়িতে যেতে অস্বস্তি বোধ করা।

অসুস্থ, দুর্বল বা নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে বসলে নিজের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় পাওয়া।

তর্কে নিজের ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তা মেনে না নেওয়া এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে শত্রু মনে করা।

নিজের সাধারণ কাজ বা বাজার নিজে বহন করতে লজ্জাবোধ করা।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অহংকার হলো এক প্রকার মিথ্যা শ্রেষ্ঠত্বের মরিচীকা, যা মানুষকে মানুষের থেকে এবং পরিশেষে স্রষ্টার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর একমাত্র প্রতিষেধক হলো—নিজের ক্ষুদ্রতা অনুধাবন করা, বিনয়ী হওয়া এবং সত্যকে অবলীলায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক