'আবদুন' একটি সুন্দর আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো বান্দা বা গোলাম। আমাদের সংস্কৃতিতে আরবি নামের বেশ প্রচলন রয়েছে। আর এই আবদুন শব্দটি সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। আমরা প্রায়ই এমন নাম শুনি বা দেখি যেখানে আবদুন শব্দটি অন্য একটি আরবি নামের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে। যেমন, আবদুল্লাহ যার অর্থ আল্লাহর বান্দা, আবদুর রাজ্জাক যিনি রিজিক দেন তাঁর বান্দা, আবদুল আজিজ পরাক্রমশালীর বান্দা, আবদুল মান্নান অনুগ্রহকারীর বান্দা এবং আবদুর রব যিনি লালনপালন করেন তাঁর বান্দা।
একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, এই নামগুলোর শেষ অংশে আল্লাহ, রাজ্জাক, আজিজ, মান্নান এই শব্দগুলো মহান আল্লাহতায়ালার বিভিন্ন গুণবাচক নাম। যখন আবদুন এই নামগুলোর আগে বসে, তখন তা একজন মানুষের আল্লাহর প্রতি পরম আনুগত্য ও দাসত্বের সুন্দর প্রকাশ ঘটায়।
আরো পড়ুন: নামের শুরুতে মুহাম্মদ ও মুসাম্মাত ব্যবহারের নিয়ম
আমরা বিশ্বাস করি, একমাত্র আল্লাহতায়ালাই আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং রিজিকদাতা। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁরই অসীম দয়ায় পরিপূর্ণ। তাই যখন আমরা আবদুন যুক্ত কোনো নাম রাখি, তখন প্রকারান্তরে আমরা সেই মহান সত্তার কাছে নিজেদের সমর্পণ করি এবং তাঁর বান্দা হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। আবদুন শব্দটি কখনোই এমন কোনো নামের সাথে যুক্ত করা উচিত নয়, যা আল্লাহতায়ালা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর বান্দা বা গোলাম হওয়ার অর্থ বোঝায়। যেমন, আবদুশ শামস যার অর্থ সূর্যের বান্দা, আবদুল কমার অর্থাৎ চাঁদের বান্দা, আবদুন নাহার নদীর বান্দা অথবা আবদুল বাহার সমুদ্রের বান্দা। এই ধরনের নামগুলো আমাদের একেশ্বরবাদের বিশ্বাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ আমরা কেবলই এক আল্লাহর বান্দা।
আরো পড়ুন: বড় হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করা: ইসলাম কী বলে?
হাদিসের একটি সুন্দর ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়। হানি ইবনে ইয়াজিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি প্রতিনিধিদলের একজনকে আবদুল হাজার নামে ডাকতে শুনলেন, যার অর্থ পাথরের বান্দা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার নাম কী?" সে উত্তর দিল, "আবদুল হাজার।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না, তোমার নাম 'আবদুল্লাহ' (আল্লাহর বান্দা)।" (আল আদাবুল মুফরাদ, ৮১১)। এই ঘটনা থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, আল্লাহতায়ালা ব্যতীত অন্য কোনো সৃষ্টির নামে নামকরণ ইসলামে অনুচিত।
অতএব, আমরা আমাদের সন্তানদের এমন সুন্দর ও অর্থবহ নাম দিই, যা তাদেরকে আল্লাহর খাঁটি বান্দা হিসেবে পরিচয় দিতে সাহায্য করে এবং শিরকের মতো গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখে। সময়ের প্রেক্ষাপটে এই সচেতনতা আমাদের মুসলিম সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক