ইসলাম প্রদত্ত সামাজিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেহমানদারি বা অতিথি আপ্যায়ন। এটি কেবল একটি সামাজিক রীতিই নয়, একে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়। নবি-রাসুলদের জীবনে অতিথি সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। অতিথি ও তার আপ্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরা হলো —
১. ইমানের পরিচায়ক: অতিথিকে সম্মান ও সমাদর করা একজন মুমিনের ইমানের পরিচয় বহন করে। নবিজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে (বুখারি, ৬০১৮)।
২. সুন্নত: মেহমানদারির মহৎ গুণটি সুন্নত। আমাদের প্রিয় নবি (সা.) ছিলেন আতিথেয়তার সর্বোত্তম নমুনা। তিনি নিজে শত কষ্টের মধ্যে থেকেও অতিথিকে বিমুখ করেননি। নিজের ভাগের খাবারটুকুও তিনি হাসিমুখে অতিথির সামনে তুলে ধরেছেন।
৩. বরকত নিয়ে আসে: অতিথির আগমনে ঘরে রহমত ও বরকত নাজিল হয়। তাই অতিথির সেবায় যথাসাধ্য আত্মনিয়োগ করা উচিত। কারণ, যে মেহমানদারি করে না, তার মাঝে কল্যাণ থাকে না (মুসনাদে আহমাদ, ১৭৪১৯)।
৪. অতিথির রয়েছে নির্দিষ্ট হক: ইসলামে অতিথির অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, মেহমানের হক এক দিন ও এক রাত আর মেহমানদারি হলো তিন দিন। এর পর যা করা হবে, তা সদকা (বুখারি, ৬১৩৫)।
৫. অতিথি নিজের রিজিক নিয়েই আসেন: অনেক সময় মনে হতে পারে, অতিথি বুঝি আমার রিজিকে ভাগ বসাচ্ছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ, প্রত্যেক ব্যক্তির রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং কেউ তার রিজিকের অতিরিক্ত গ্রহণ করতে বা অন্যের রিজিকে ভাগ বসাতে পারে না।
৬. আতিথেয়তা সম্পর্ক দৃঢ় করে: অতিথি আপ্যায়ন শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি সামাজিক সম্পর্ককে মজবুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মান বৃদ্ধি পায়, যা সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
৭. অতিথিকে অবহেলা করা অনুচিত: ইসলামে অতিথির প্রতি যত্নবান হওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। যিনি অতিথির হক সঠিকভাবে আদায় করেন না, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত হন। অতিথিকে অবহেলা করা ইমানের দুর্বলতার লক্ষণ। অতিথি আপ্যায়ন ইসলামের এক মহান শিক্ষা। এটি সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক বিরাট সুযোগ তৈরি করে দেয়।
লেখক: শিক্ষার্থী, টেকেরহাট পপুলার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাদারীপুর