‘ভাবি, এই বদলিটা যেন হয়ে যায়। আমার আপন চাচাতো ভাই।’
কোনো শ্বশুর তার পুত্রবধূকে এই স্বরে কথা বললে তাকে দোষ দেওয়া যায় না। কিন্তু দেবর, এভাবে ভাবিকে কথা বললে তা কানে লাগে। তবু এ বাড়িতে এভাবেই কথাবার্তা হয়ে থাকে। যারা অন্যের জন্য কোনো কাজ করে না, করবে না, তাদের এভাবে বলা তো দূরের কথা তাদের কাছে ঘেঁষতেও মানুষ সাহস পায় না। আর যারা একবার বললেই কোনো কিছু করার জন্য নেমে পড়ে, তাদের এই কণ্ঠস্বরটি শুনতে হয়। সম্পর্কহীন, বয়সে ছোট এবং মর্যাদায় নিম্নতর নির্বিশেষে অনেক মানুষ তাকে প্রায় হুকুম শুরু করে।
প্রবল জনচাপের এই দেশে ক্ষমতাহীন অসংখ্য মানুষের নানা সমস্যা শোনার কাজটি এড়ানোর জন্য অনেক ক্ষমতাবান মানুষই তাই একটি চমৎকার বুদ্ধি এঁটেছেন। তারা তাদের দপ্তরে একটি গণবিজ্ঞপ্তি সেঁটে নিয়েছেন। তা হলো ‘বহিরাগতের প্রবেশ নিষেধ’। কিন্তু পরার্থপর যারা তারা ‘এই না বলা শিখুন’ রপ্ত করতে পারে না। তাই রুমু, মানে এ বাড়ির পুত্রবধূকে মানুষের নানা কাজে হাত দিতে হয়।
‘বউমা, এই ভদ্রলোক তোমার মামা শ্বশুরের সঙ্গে স্কুলে একসঙ্গে পড়তেন। তার আশুলিয়ার জমিটা সন্ত্রাসীরা দখল করে নিয়েছে, তুমি একটা ব্যবস্থা করো।’
‘ভাবি তোমাদের ডিপার্টমেন্টে অনেক কর্মচারী নিচ্ছে। আমাদের গ্রামের বর্গাদার জারু মিয়ার ছেলে তারা মিয়া একটি দরখাস্ত দিয়েছে। ও মেডিকেলে ফিট, এখন তুমি একটু বললেই হয়ে যাবে...।’
‘আইও ইনকোয়ারি রিপোর্টটায় উল্টোপাল্টা কী সব লিখেছে যেন, রুমু তুমি বললেই ব্যাটা ভয় পাবে। ঠিকমতো চার্জশিট দেবে। বল এমন ভালো ছেলে অস্ত্র আইনে মামলার আসামি হতে পারে বলে তোমার বিশ্বাস হয়?’
এমনি তদবির শুনে অ্যাডিশনাল এসপি রুমু লাবনী যত্ন করে তার ডায়েরিতে নোট করে। এ বিশ্বে যেকোনো বিষয়েরই পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি খাড়া করা যায়। যে আইনজীবী কারও জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করে বসেন তিনিই উপযুক্ত অর্থ পেলে বেকসুর খালাসের যুক্তিও পেশ করতে পারেন। পার্থক্যটা সৃষ্টি হয় ইচ্ছে থেকে। ইচ্ছেটা আবার আসে স্বার্থবোধ থেকে। তাই দেখা যায় আগের ইতিহাস মুছে ফেলে তিন দশকের ঘনিষ্ঠ স্ত্রী ও কন্যাদের ‘না’ বলে তার নতুন বইয়ে, বিরলপ্রজা একজন, তার পাঠকদের জানাচ্ছেন যে একমাত্র তরুণী স্ত্রী ও একটি শিশুপুত্র নিয়ে তার সংসার।
রুমু এর বিপরীত মেরুর মানুষ। বাবার বাড়ির কেউ যখন ওকে এসে বলে, ‘আপু, পুলিশ মামলা নিতে চাচ্ছে না, আপনি একটু বলে দেন না।’ রুমু ভাবে, ‘হায় না বলি কী করে? ছোটকাল থেকে চিনি। কী ভাববে?’ একই যুক্তিবোধ কাজ করে শ্বশুরবাড়ি কিংবা পরিচিতজনের কারও কোনো অনুরোধ এলে।
মানুষের বিশ্বাস পুলিশ পারে না এমন কাজ নাকি নেই। কথাটা পুরোপুরি না হলেও অনেকটা সত্যি বটে। সৎ এবং বিসিএস অফিসার। তার মধ্যে ইউনিফরম আর বেরেট মাথায় ও যখন কোথাও যায় বা নিজের অফিসে বসে তখন ওর হাসিহীন গম্ভীর মুখে যে কর্তৃত্বের ভাব ফুটে ওঠে তা দেখে মানুষ ভয় পায়। জুনিয়র সবাই জানে যে এই মেধাবী অফিসারটি ঠিক তার কাজ বুঝে নেবে। ফাঁকি দেওয়া বা ভূতের গল্প বলে এর থেকে পার পাওয়া যাবে না। যদিও বাসায় এই মানুষটিরই মূর্তি একেবারে অন্য। যেন বৃষ্টিভরা মেঘ।
তাই ভালো ডাক্তারের যেমন সুনাম ছড়াতে থাকে রুমুর কথা লোকের মুখে শোনা যায়। জনমনে বিশ্বাস, বিশেষ মহলের প্রভাব বা বিশেষ দ্রব্যগুণ ছাড়া পুলিশ কেন, প্রায় কোনো সরকারি দপ্তরই নাকি নড়ে না। সেখানে এমনি একজন আপা, ছোট বোন, ভাবি, খালা কিংবা বধূ পেয়ে মানুষ আলোচনা তো করবেই।
রুমুর একটি টেলিফোনে কেউ ফিরে পায় অন্যের দখল করা জমি, কেউবা কানাডায় যাওয়ার নামে আদম ব্যাপারীকে দেওয়া ১২ লাখ টাকা ফেরত। কারও হয়ে যায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ। কেউ বিনা বাক্য ব্যয়ে ফেরত পায় হারিয়ে যাওয়া ডলারসুদ্ধ ব্যাগ কিংবা মলম পার্টির হাতে ছিনতাই হওয়া মানিব্যাগ।
এ দেশে কোনো শাশুড়ির মুখে পুত্রবধূর প্রশংসা আর সুদানে বৃষ্টিপাত একই রকম দুর্লভ ঘটনা। সংসারের বাইরে সুনামের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতরেও সে রকম ঘটনা ঘটতে থাকে। প্রকাশ্যে না বললেও শ্বশুর তার স্ত্রীকে বলেন, ‘ওর রান্না-বান্না দেখছ? ভাবি, এত লেখাপড়ার মাঝে বউমা এমন চমৎকার সব রান্না শেখার সময় পেল কোথায়? আশ্চর্য, মেয়েটার এত গুণ।’ শাশুড়ি মনে মনে ‘পুরুষ লোককে খুশি করা সোজা কাজ, সামান্য স্বাদের খাবারকেই এরা ভাবে দারুণ মজাদার’- বললেও অস্বীকার করতে পারেন না, পুত্রবধূদের সেলাই বা কাপড়ে সুতা নিয়ে ফুল তোলার দক্ষতায় একসময় সুনাম হতো। এখন ওসব উঠে গেছে। হাত দিয়ে, কয়েক ঘণ্টা চোখের কষ্ট করে এবং রাত জেগে কোনো মেয়েই আর রুমাল বা বালিশের কভারে এখন সুই-সুতায় লেখে না-
‘ফুল ফুটে ঝরে যায় দুনিয়ার রীতি, তুমি কিন্তু বন্ধু বটে রেখো মোর স্মৃতি।’
এটি চালু থাকলে রুমুর এ কাজেও সুনাম হতো। অন্যের গুণকে চেপে রাখার চেষ্টা যতই করা হোক একেবারে প্রবল যেগুলো সেগুলো বের হয়ে আসবেই। অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস যদি কেউ পায় তা গোপন থাকবে না। তাই আশপাশের কারও কারও বলা কিছু কথা শাশুড়ির কানে এসে পড়ে।
এত বড় অফিসার, তার পর একটু ডাঁট নেই, মহিলার ধৈর্য আছে, না দেখলে বিশ্বাস করার পথ নেই।’
কত দারোগার সঙ্গে পর্যন্ত আমরা দেখা করতে হিমশিম খেয়েছি, কিন্তু এই মেয়েটার সঙ্গে অন্তত দেখা করতে পারছি।’
এই যুগে কোনো মেয়ে কি শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে রাখে? কত ভালো বংশের মেয়ে। পুত্রবধূর এমন প্রশংসা ভালো লাগার কথা। তবে নারীর মন অতল রহস্যে ভরা। নিজের বিয়ে দেওয়া মেয়ের প্রশংসা শুনতে যে নারীর প্রাণমন উন্মুখ হয়ে থাকে সেই নারীই নিজের ছেলের বিয়ে করে আনা অন্য মেয়ের গুণের কথা শুনে খুব আনন্দিত হন না। রুমু রান্না করার সময়, রান্নাঘর থেকে, একদিন তিনি একটি নারী কণ্ঠে তার একটি প্রিয় গানের কলি শুনতে পান। এ গানটি তিনি চার দশক ধরে শুনে এসেছেন। এ কণ্ঠ কোনোভাবেই কাজের বুয়ার নয়। ও গান ‘কি যে মায়া লাগাইছে’-এর চেয়ে ওপরের কিছু নয়। তিনি কান খাড়া করে শোনেন।-
‘কোন পাড়েতে আছো বন্ধু কোথায় পরবাসে?
পদ্মকলি নয়ন আমার ঝাপসা হয়ে আসে’
ভেতরে তাঁর বেশ একটা ধাক্কা লেগেছে। এমন বউয়ের কাছ থেকে গানের এই রুচি অপ্রত্যাশিত নয় কিন্তু এই গায়কি আর সুরের অবিকল নকল? না মোটেই সোজা জিনিস নয়।
‘বউমা তুমি গান করো? গানটা তো বেশ সুন্দর!’
প্রতিমার গাওয়া আর সুধীন দাশ গুপ্তর সুর দেওয়া গান সুন্দরই হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘গান শিখেছ?’ অনেক জেরার পর জানা গেল, হ্যাঁ রুমু গান শিখেছে এবং ভালো ওস্তাদের কাছে। কলেজ আর ইউনিভার্সিটিতে সংগীত প্রতিযোগিতায় বেশ কবার পুরস্কার পেয়েছে। পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনেও সে মুষ্টিমেয় কণ্ঠশিল্পীদের অন্যতম।
অঙ্কেও ও একজন জাদুকর। বিয়ের পর থেকে এইচএসসির ছাত্র দেবরের ইলেকটিভ ম্যাথ শেখানোর দায়িত্ব রুমু যে খুব ভালোভাবে পালন করছে তা আর গোপন নেই।
বৃদ্ধ মানুষের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করা পুরুষের কাজ নয়। একই কথা অনর্থক তিনবার বলার পরও রুমু শ্বশুরের ওপর এতটুকু বিরক্তি দেখায় না।
‘বুঝেছ বউমা, চার্চিল তখন বলল...।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গল্প। এই গল্প এই বৃদ্ধ এর আগে অন্তত আরও তিনবার শুনিয়েছেন। তবু রুমা বলে হ্যাঁ আব্বা বলেন...।’
‘সততার বিরল দৃষ্টান্ত’ শিরোনামে খবরে যে সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করে সেই সমাজের বিধিবিধান এও ব্যতিক্রম থাকে। এই সহজগম্য নারী পুলিশের কাছ থেকে উপকারপ্রাপ্ত অধিকাংশ মানুষই নারীটিকে এই সহজলভ্য মুঠোফোন এর যুগেও উপকার পাওয়ার সংবাদটি জানিয়ে ধন্যবাদ জানানোর কথা মনে করে না। দু-একজন এর বাইরে সব সময়ই থাকেন। আবুল হায়াত সাহেব তেমনি একজন। তিনি রুমার বরের গৃহ শিক্ষক ছিলেন। এই জেলা শহরে ইংরেজি জানা মানুষদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সে অনেক কাল আগের কথা।
মফস্বল শহর। মানুষ মানুষের খবর রাখে। একসময়ের ছাত্র যে পুলিশকে বিয়ে করেছে সেই খবরটা তিনি শুনেছিলেন ছাত্রের বিয়ের দাওয়াত পেয়ে। তার একটা ভয়ানক বিপদ দেখা দিয়েছিল নিজের ছেলেকে নিয়ে। যদিও পিতা-পুত্র দুজনই নিরেট ভদ্রলোক। তিনি ছাত্রের মাধ্যমে রুমুকে ধরেছিলেন এবং তাতে বড় একটা ফাঁড়া থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি তার ছাত্র হানিফের বাবা-মাকেও দীর্ঘদিন ধরে চেনেন ছাত্রকে পড়ানোর সূত্রেই। কাজটা হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভাবছিলেন টেলিফোনে নয়, শুধু ছাত্রবধূকে নয়, বরং বাসায় গিয়ে ওর বাবা-মাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসবেন। হানিফ শিক্ষা জীবন শেষ করে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার পরও এই বাড়িতে আবুল হায়াত এর যোগাযোগ আছে। তার বাড়িতে হানিফের বাবা মা ও দু-একবার গেছেন।
এক শুক্রবার বিকেলে হায়াত সস্ত্রীক ছাত্রের বাড়িতে এসে উপস্থিত। এসব শহরে কারও বাড়িতে আগে থেকে ফোন করে আসতে হয় না। কাজের ছেলে হায়াত দম্পতিকে বসতে দিল। একটু পর হানিফের মা এলেন।
-কেমন আছেন আপনারা? অনেক দিন পর।
‘ভালো আছি। বয়স হচ্ছে তাই আসা হয় না। ভাইসাব বাসায় নেই?’
‘এসে পড়বেন। আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে গেছেন।’
মিসেস হায়াত বলেন, ‘একটা বিষয়ে এসেছি যদিও ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবার বিষয় এটা না।’
‘বলুন তো কী ব্যাপার?’
‘আপনার বউমার সুনাম এত শুনি চারদিকে যে তাতে খুব ভালো লাগে। এ শহরে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই একেবারে বন্ধ। তারপর এখানকার যে মানুষই ওর কাছে যায় সবার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করে। বলেন সাধারণ লোকের পক্ষে থানায় যাওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু রুমুর জন্য মানুষ খুব আরামে আছে।
‘আমাদের ছোট ছেলে রাসেল যে কী ভেজালে পড়েছিল...।’
‘ও না আমেরিকায় গেছিল স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে? ওর আবার কী সমস্যা হলো?’
‘দুর্ভাগ্য থাকলে কি না হতে পারে। ১৫ দিনের বন্ধে বাড়ি এসেছিল। স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের পাড়ার মধ্যেই একটা কোম্পানির অফিসের রুমে একদিন ক্যারাম খেলছিল। ওই রুমটাতে রাতে থাকে শুধু কেয়ারটেকার। ওদের এক বন্ধু ওই কোম্পানিতেই কাজ করে। সেই সূত্রেই ওদের খেলতে যাওয়া। খেলার পরদিন সকালে ওই রুমে কেয়ারকেটারের গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ খোঁজ করে বের করে কারা ওখানে যেত এবং সবশেষে গিয়েছিল। তার পর বাসায় এসে হাজির। ভাগ্য ভালো ছেলে বাসায় ছিল না। নইলে তখুনি ধরে নিয়ে যেত।’
‘সন্দেহ করলে তো ধরারই কথা।’
তার পর কী হলো?
‘ছেলেকে মোবাইলে বললাম বাসায় যেন না ফেরে। ওর বাবা গেল আপনাদের বউয়ের কাছে। খুলে সব বলল। বউ তখুনি থানায় খোঁজ করল। দারোগা আসামিদের নামের তালিকা লিখে ফেলার পথে। বোঝেন তো। একবার এরকম কেসে নাম ঢুকলে আদালতে গিয়ে বের হয়ে আসা কী রকম ব্যাপার। দোষী নির্দোষ তো পরের ব্যাপার।’
‘তা বউ কী করল?’
-এত বুদ্ধি ওর। বউ প্রথম দারোগাকে ডাকল। বৃত্তান্ত শুনে বলল, ‘লোকটি মারা গেছে কখন? ডাক্তারের রিপোর্ট দেখে দারোগা বলল, ভোর ৪টার আগে নয়। বউ তখন জানতে চাইল এই ছেলের দল ক্যারাম খেলে ওখান থেকে বের হয়েছে কখন? দারোগা বলল দারোয়ান এবং আশপাশের মানুষদের সাক্ষ্যমতে পরের দিন রাত ১১টায় এবং তখুনি দারোগা তার ভুল বুঝতে পারল। বউ দারোগাকে আরও বলল, এভাবে কাজ করেন বলেই তো মানুষ আমাদের বিভাগটাকেই খারাপ মনে করে। শুধু ক্ষমতা দিয়ে কাজ করবেন না। বুদ্ধি দিয়ে কাজ করবেন। লোকটাকে কেউ হয়তো আগে খুন করে এখানে রেখে গেছে অথবা এই অফিসের কে বা কারা কাজটা করেছে। তদন্ত সেভাবেই করেন। সূত্র বের হয়ে আসবেই। সত্যি আপা, কী হয়রানির থেকে যে বেঁচেছি। বলে বোঝাতে পারব না। তাই ভাবলাম দুজনে এসে আপনাদের বিষয়টা বলে যাই।’
পুত্রবধূ সম্পর্কে এত কথা শুনেও রুমুর শাশুড়ি কিছু বলেন না। তিনি বুয়াকে ডাকেন। এদের চা-নাশতা দেওয়ার কথা বলেন। স্বজনদের প্রশংসা শুনলে মানুষের মুখে চোখে যে আনন্দ ফুটে ওঠে তার মুখে চোখে সেরকম কোনো ভাব দেখা দেয় না।
বেগম হায়াত আবার বলেন, ‘ছোট শহর তো। সবাই সবার খবর পাই। তার মধ্যে মহিলা অফিসার আর কটা? তার ওপর আবার পুলিশ। আপনাদের বউমার এত সুনাম শুনি। রান্না, আচার ব্যবহার, শিক্ষা-দীক্ষা, পরোপকার এ তার তুলনা হয় না। এখানে যে আইজি এসেছিলেন, শুনলাম সেই উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও নাকি চমৎকার দুটি গানও করেছে। এমন একটা বউমা পেয়েছেন শুনে বড়ই ভালো লাগে আমাদের। তার পর ফ্যামিলির কথা তো আগেই শুনেছি। সত্যিই ও শুধু আপনাদের পরিবারের নয়, আমাদের সারা শহরের গর্ব।’
কিছু মানুষ থাকে যাদের এ সংসারের নানা পরীক্ষায় ১০০ ভাগ নম্বর পেয়ে পাস করতে হয়। একটু কম পড়লেই তাদের নিন্দা হয়।
একটি অনাত্মীয় দম্পতির উপস্থিতির কথা ভুলে গিয়ে এবং তার নিজের পুত্রটির কালো রং আর ভুঁড়ির কথা মনে মনে অগ্রাহ্য করে রুমুর শাশুড়ি এতক্ষণ পর আস্তে করে বলেন, ‘বউয়ের এসব দিক মন্দ নয় তবে ওর গায়ের রংটা...।’