অতি সম্প্রতি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিকবিষয়ক বিভাগ তাদের বিশ্ব নগরায়ণ প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে আমাদের ঢাকাকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর তথা মেগাসিটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা উল্লিখিত হয়েছে ৩৬.৬৬ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৬৭ লাখের মতো। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম শহর জাকার্তা মেগাসিটিকে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা জনবহুল শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ মেগাসিটির জনসংখ্যা বলা হয়েছে ৪১.২৭ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ১৩ লাখ। জনসংখ্যার নিরিখে বিশ্বের অতি অল্প কয়েকটি দেশের মোট জনসংখ্যা জাকার্তা কিংবা ঢাকার জনসংখ্যার চাইতে বেশি।
জাতিসংঘ ঘোষিত ঢাকার জনসংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোতে বেশ কিছুদিন আলোচিত বিষয় ছিল, অবশ্য তাতে সাধারণ মানুষের মনে খুব একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল বলে মনে হয় না, তারা বরং দেশের চলমান উত্তেজিত রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে বেশি মশগুল। ইতোমধ্যে আবার আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় অনেকেরই দৃষ্টি সেদিকেই। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিবেশও বেশ উত্তপ্ত, ফলে মেগাসিটি হিসেবে ঢাকার উচ্চস্থান প্রাপ্তির খবর জনতার কাছে অনেকটাই গৌন বিষয়। তবে আমার মতো যারা নগরায়ণ ও নগর পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে তাদের অনেকের কাছেই ঢাকার এ বিশালাকার জনসংখ্যার বিষয়টি যথেষ্ট আগ্রহের সৃষ্টি করে।
উল্লেখ, জাতিসংঘ কর্তৃক প্রকাশিত নগর জনসংখ্যার বিষয়টি বেশ চমকপ্রদ। মাত্র কয়েক বছর (২০১৮) আগেও মেগাসিটির তালিকায় ঢাকার স্থান ছিল নবম, তখন জনসংখ্যা ছিল ১৯.১৩ মিলিয়ন। সবচেয়ে জনবহুল মেগাসিটি ছিল জাপানের টোকিও, জনসংখ্যা ছিল ৩৭.৭৯ মিলিয়ন। গণচীনের সবচেয়ে জনবহুল মহানগর ছিল চুংকিং যার জনসংখ্যা দেখানো হয়েছিল ৩২.০৫ মিলিয়ন। ভারতের দিল্লি ছিল দ্বিতীয় জনবহুল মেগাসিটি, জনসংখ্যা ছিল ৩২.২৬ মিলিয়ন। এখন ২০২৫ সালে জাতিসংঘের নিজেদের হিসবনিকাশে সব ওলটপালট।
যাক সে বৈশ্বিক প্রসঙ্গ, এখন ঢাকার কথায় আসা যাক। আসলে বুঝতে হবে ‘ঢাকা’ বলতে আমরা কী বুঝি বা কাকে বুঝি। ঢাকা শহর/ নগর তথা মহানগর/ মেগাসিটির নানা পরিচয় (এমনটি অবশ্য বিশ্বের যেকোনো মহানগরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য)। একেক ঢাকার একেক পরিচিতি।
প্রথমত, বলা যায় কেন্দ্রীয় শহর ঢাকার কথা, অর্থাৎ বর্তমান যে ঢাকা মেট্রোপলিটান এরিয়ার (ডিএমএ), ঢাকা মহানগর, যার পরিচয় হলো যুক্তভাবে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন, এর ভৌগোলিক আয়তন ৩০৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ২০২২-এর জনশুমারি অনুযায়ী ছিল ১ কোটি ৩ লাখ। বর্তমানে (২০২৫) সম্ভবত ১ কোটি ২৫ লাখ (১২.৫ মিলিয়ন) বা ১ কোটি ৩০ লাখ (১৩ মিলিয়ন)। এ ভৌগোলিক এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার ছিল সীমিত। স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ছিল কম, স্থানীয়ভাবে নতুন অভিবাসীরা ডিএমএর বাইরেই অবস্থান নিয়ে নেন। অনেকে কেন্দ্র থেকে বাইরে, শহরতরিতে চলে যান।
দ্বিতীয়ত, ঢাকার ভৌগোলিক পরিচয় পরিসংখ্যানগত/ পরিকল্পনাভিত্তিক ঢাকা মেট্রোপলিটান ডেভলপমেন্ট প্ল্যান এরিয়া বা ডিএমডিপি/ডিএমআর, এটি রাজউকের ঢাকা বা এক হিসেবে (অঘোষিত) রাজধানী ঢাকা এলাকা। এর আয়তন ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার বা ৫৯০ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা (২০২৫) (অনুমিত) ২২.২১ মিলিয়ন। এবং ভৌগোলিক প্রশাসনিক বিস্তার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সাভার এবং তারাবো পৌরসভা ও অসংখ্য ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামীণ এলাকা। এ এলাকাকে এক সময় বিবিএস কর্তৃক ঢাকা মেগাসিটি বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ মেগাসিটির বৃহৎ অংশই এখনো কৃষি জমি, জলাভূমি ও পতিত জমি। সামগ্রিকভাবে এ মেগাসিটির জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২০ হাজার। কোনো কোনো থানা বা ইউনিয়নে/ ওয়ার্ডে উচ্চতম প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৮০ হাজার, থেকে নিম্নতম ২০ হাজার।
তৃতীয় (বৃহত্তম) মেগাসিটির পরিচয় অবশ্যই ভিন্ন। ভৌগোলিক/ প্রশাসনিক বিস্তার আগে উল্লেখ করা রাজউকের ডিএমডিপি/ডিএমআর বা রাজধানী ঢাকা মেগাসিটি এবং তার বাইরে আরও বিস্তৃত এলাকা। বস্তুত, পুরাতন বৃহত্তর ঢাকা জেলার সমগ্র অঞ্চলই এ বৃহত্তর মেগাসিটি ঢাকা (গ্রেটার ঢাকা রিজিওন, জিডিআর)-এর সীমার মধ্যে রয়েছে বর্তমান ছয় জেলা, অর্থাৎ ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী। মোট ভৌগোলিক আয়তন ৭৪৪০ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২৫ সালের অনুমিত জনসংখ্যা ৩৬ মিলিয়ন। অর্থাৎ জাতিসংঘ ঢাকা মেগাসিটির ২০২৫ সালের যে জনসংখ্যা দেখিয়েছে তা বস্তুত এই বৃহত্তর মেগাসিটি ঢাকারই (বা বৃহত্তর ঢাকা জেলার) জনসংখ্যা। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি সিটি করপোরেশন, অনেক মাঝারি বা ছোট পৌরসভা, অসংখ্য ইউনিয়ন ও গ্রামীণ জনপদ। এ অঞ্চলের প্রান্ত (যেমন গাজীপুরের) কাপাসিয়া কিংবা (মানিকগঞ্জের) সিঙ্গাইর থেকে ঢাকার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত কমিউটিং সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এ (বৃহত্তর) ঢাকা মেগাসিটির সম্ভবত ৫০ ভাগ এখনো প্রকৃত নগরায়ণের বাইরে বা এখনো এর মিশ্র গ্রাম-নগর পরিবেশ। এর উল্লেখযোগ্য এলাকা বনভূমি বা বৃহৎ এলাকা কৃষিভূমি, পতিত জমি, জলা ও নিচু জমি। একথা ঠিক, এই বৃহৎ মেগাসিটি এলাকায় বিগত কয়েক দশকে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, উল্লেখযোগ্যরকম অর্থিনৈতক সমৃদ্ধি হয়েছে, পাশাপাশি ব্যাপক ভৌত পরিবর্তন হয়েছে। ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগর উন্নয়ন হয়েছে। প্রশস্ত সুন্দর পাকা সড়ক হয়েছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ তো আছেই, ঘরবাড়ির চেহারা বদলে গেছে বা যাচ্ছে, বহুতল ভবনও নির্মিত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন কারণে ঢাকা অঞ্চলে মানুষের স্থানান্তর (মাইগ্রেশন) হয়েছে। পেশার পরিবর্তন হয়েছে, বিশেষ করে কৃষি কাজের বাইরে মানুষ নানা পেশায় যুক্ত হয়েছে। রেমিট্যান্স এসেছে। বিভিন্ন মাত্রায় নগরায়ণ হচ্ছে। এবং তা বেশ দ্রুত হারেই হচ্ছে।
ঢাকা আগামীতে
সীমিত পরিসরের এ নিবন্ধে মেগাসিটি ঢাকার আগামী ভাবনার কথা বিস্তারিতভাবে বলার তেমন সুযোগ নেই। তবে কয়েকটি বিষয়ে চুম্বক আকারে কিছু মন্তব্য করা যায়-
১. ভৌগোলিক বিস্তার: অদূর ভবিষ্যতেও বৃহত্তর মেগাসিটি ঢাকা অঞ্চলে নগরায়ণ তথা ভৌত নগর উন্নয়ন/ ও পরিসর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এটি হবে অনেকটাই যথাযথ নগর পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার বাইরেই, কেননা অপ্রীতিকর সত্য এই যে, মেগাসিটির ফরমাল পরিকল্পনার মান ও ক্ষমতা আরও কিছুকাল অত্যন্ত সীমিতই থাকবে। নগর প্রসার (আর্বান গ্রোথ) প্রধানত অনিয়ন্ত্রিতভাবেই ঘটবে। এটি আদৌ কাম্য নয়, তবে বাস্তবতা এরকমই। অবশ্য যথাযথ বন্দোবস্ত, বিশেষত সঠিক রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও কারিগরি দক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। সেটি অবশ্যই সময়সাপেক্ষ।
২. জনসংখ্যা: বৃহত্তর ঢাকা মেগাসিটি অঞ্চল অর্থাৎ গ্রেটার ঢাকা রিজিয়ন (বা জিডিআর)-এর জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে। যেহেতু দেশের জনসংখ্যা বর্তমান ১৮ কোটি থেকে অচিরেই ২৩-২৪ কোটিতে দাঁড়াবে, দেশের প্রাইমেট সিটি ঢাকার আকর্ষণ আনুপাতিক হারে বাড়তেই থাকবে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ ৪ বা ৫ কোটি হতেই পারে। এটি একটি চরম অবাস্তব পরিস্থিতি বটে, কিন্তু প্রায় অবধারিত। ফলে, তখন অত্যন্ত কঠিন মানব জীবনমান বিরাজ করবে। অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত বিকেন্দ্রীকরণ সত্ত্বেও ঢাকা অঞ্চলের অতি-নগরায়ণ ও নগর উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। যেহেতু এখনো কোনো বৈপ্লবিক নগর ও অঞ্চল উন্নয়ন তথা স্থানিক পরিকল্পনা চিন্তা বাস্তবায়নের ঈঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না, সে কারণে ঢাকা মেগাসিটি অঞ্চলের (তথা বাংলাদেশের) টেকসই (‘সাসটেইনেবল’) উন্নয়ন কল্পনা করা কঠিন, এ বিষয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ গালগল্প অবশ্য চলতে থাকবে। ঐতিহাসিকভাবে ঢাকা একটি রাজধানী শহর এবং ঘটনাক্রমে অত্যন্ত জনবহুল দেশের ভৌগোলিক কেন্দ্রে এর অবস্থান। সাম্প্রতিককালে গোটা দেশের সঙ্গে এর ভৌত যোগাযোগব্যবস্থার এতই উন্নতি হয়েছে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে সহজেই এখানে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটানো যায়।
৩. অর্থনীতি: মেগাসিটি ঢাকা অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার বিগত কয়েক দশকে প্রশংসনীয় উন্নয়ন হয়েছে, ফরমাল ও ইনফরমাল উভয় খাতের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনানুষ্ঠানিক (বা ‘ইনফরমাল’) খাতে অধিকতর শ্রম নিযুক্তি ঘটছে। মেগাসিটিতে স্থানিক/ আঞ্চলিক ও আর্থসামাজিক বৈষম্য বাস্তবতা থাকবেই। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মনিযুক্তি হার প্রশংসনীয় হলেও এ খাতের বিশৃঙ্খল আগ্রাসী প্রসার সার্বিকভাবে নগর-পরিকল্পনার মান তথা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সীমিতই রাখবে। উত্তরোত্তর মেগাসিটির কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত এলাকার প্রধান সড়কগুলোতেও অস্থায়ী ভ্যান-মার্কেট এখন এক নতুন বাস্তবতা। এ প্রবণতার অর্থনৈতিক পর্যালোচনা কাম্য।
৪. পরিবহন: মহানগর ঢাকা তথা মেগাসিটি ঢাকার ভবিষ্যৎ চিন্তায় এর পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো বিবেচনাতেই ঢাকার বর্তমান পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। পৃথিবীর কোনো মেগাসিটিতে এমনকি মাঝারি শহরেও ঢাকার মতো অবৈজ্ঞানিক ও বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া যাবে না। একদিকে লাখ লাখ পায়ে চালিত রিকশা ও অগণিত ব্যাটারিচালিত রিকশা অন্যদিকে (সীমিত পরিমাণে হলেও) অত্যাধুনিক মেট্রো রেলের মতো মাস-ট্রানজিট (এমআরটি), এটি খুবই পরাবাস্তব পরিস্থিতি। আগামীর ঢাকা টেকসই হবে একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক নগর পরিবহনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তবে তা খুবই সময় ও খরচসাপেক্ষ, কিন্তু অপরিহার্য। নগর পরিবহনব্যবস্থা আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশই বটে। একটাকে বাদ দিয়ে অপরটি সম্ভব নয়। আগামীর টেকসই ঢাকার জন্য ইতিপূর্বে অনুমোদিত ‘রিভাইজড স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোট প্ল্যানের (আরএসটিপি)’ যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। এ প্ল্যানে পরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
৫. মেগাসিটির বাস্তুউন্নয়ন ধরন: বর্তমান মেগাসিটি ঢাকার বাস্তু উন্নয়ন অনেকটাই অপরিণত ও অনুন্নত শহরের মতো, একদিকে জনসংখ্যার অতি উচ্চঘনত্ব, অন্যদিকে অধিকাংশ ভবন নিম্ন উচ্চতার, এ বৈপরিত্য অবিশ্বাস্য। অতি অল্প পরিমাণ মাঝারি উচ্চতার ভবন, বাড়িঘর, পাশাপাশি বিশাল সংখ্যার ঘিঞ্জি বস্তি, এই হলো বর্তমান মেগাসিটির বাস্তু বাস্তবতা। আগামীর ঢাকার জন্য এ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক ও একই সঙ্গে মানবিক চিন্তা জরুরি।
৬. পরিবেশ চিন্তা: বর্তমান মেগাসিটি ঢাকা পরিবেশগতভাবে এক দুঃস্বপ্নের শহর। ঢাকার পরিবেশদূষণ সবপর্যায়ে আলোচিত বিষয় কিন্তু পরিস্থিতি বেসামাল। আগামীর ঢাকার জন্য এ বিষয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ অত্যাবশ্যক।
৭. রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈরিতা ও সংঘাত, সাংস্কৃতিক অসহনশীলতা ও আইনশৃঙ্খলার বর্তমান নাজুক অবস্থা সুশৃঙ্খল নগর উন্নয়নের জন্য আদৌ সহায়ক নয়। পাশাপাশি উন্নতমানের নগর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত নগর উন্নয়ন আশা করা বাতুলতা। রাজনৈতিকভাবে সুপরিপক্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতায় পরীক্ষিত নগর নেতৃত্ব ছাড়া ঢাকার মতো একটি বিশাল মেগাসিটির বা নগরপুঞ্জের আদর্শ উন্নয়ন এক অলীক চিন্তা। আগামীর ঢাকার জন্য এ প্রসঙ্গগুলো বিবেচনা অপরিহার্য। একই সঙ্গে বলা যায়, জাতীয় রাজনৈতিক বন্দোবস্ত সঠিক ধারার হতে হবে। উল্লেখ্য, বৃহত্তর মেগাসিটি ঢাকা একটি একক কোনো শহর নয় বরং অনেক শহরের সমাহার। এর পরিচালন অত্যন্ত জটিল বিষয়।
৮. পরিশেষে বলতে হয়, আগামীর ঢাকা একটি বিশাল ভাবনাই বটে। এ ভাবনা বহুমাত্রিক, আমার বর্তমান ভাবনায় অল্প কিছু প্রসঙ্গেরই অবতারণা করেছি। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে একাধিকবার আমি ঢাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছি, তার একটি ছিল (২০১১ সালে প্রকাশিত) ‘ঢাকা-২০৫০’। প্রচণ্ড নৈরাশ্যের মধ্যেও আমি ঢাকা নিয়ে আশাবাদী, এ যে আমারও শহর।
লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাম্মানিক চেয়ারম্যান, নগর গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা
[email protected]