বাংলাদেশ-ভারতের ‘মৈত্রী’ সম্পর্ক এখন আর নেই। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ‘মৈত্রী’ সম্পর্কে তৈরি হয়েছে দূরত্ব। রাজনৈতিক সম্পর্কে পড়েছে টানাপোড়েন। বর্ডার এলাকাগুলোতে সতর্ক প্রহরা বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সেখানে বেড়েছে উত্তেজনাও। সেই উত্তেজনায় শামিল হয়েছেন দুই দেশের সাধারণ নাগরিকরাও। বলা যায় পরিস্থিতি অনেকটা থমথমে। এ রকম পরিস্থিতিতে মরুর বুকে আজ বাংলাদেশ-ভারত যুদ্ধ শুরু হবে। তবে এই যুদ্ধ সমরাস্ত্রের যুদ্ধ নয়। এটি ময়দানি যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ময়দানের ২২ গজের ক্রিকেটে। দুই দেশের যুবারা নামবেন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার মিশনে। যারা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারবেন, তারা রাজা বনে যাবেন এশিয়ার। এই রাজা হবেন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে। ভারত জিতলে হবে শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাওয়া, বাংলাদেশ জিতলে হবে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখা।
যুবাদের এশিয়া কাপের প্রতি আসরে ভারত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব এমনভাবে প্রমাণ করে এসেছে যে, এই টুর্নামেন্টকে তারা নিজেদের সম্পত্তিই বানিয়ে ফেলেছে। আগের ১০ আসরের মাঝে আটবারই (একবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের সঙ্গে) তারা শিরোপা জিতেছে। প্রথম পাঁচ আসরে তো তারা অন কাউকে তাদের রাজ্যে ঢুকতেই দেয়নি। একবার মাত্র পাকিস্তান ডুকতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ভারতের রাজ্যে প্রথম আঘাত হানেব আফগানিস্তান ২০১৭ সালে। সেই আসরে ভারত ফাইনালই খেলতে পারেনি। এরপর তাদের রাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হানে বাংলাদেশ গত আসরে। এবারও ভারত ফাইনালে খেলতে পারেনি। সেই ভারতের রাজ্যশূন্যতা দীর্ঘায়িত করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ন রাখার মিশনে নামবে আজিজুল হাকিম বাহিনী। ভারতে চাইবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবার ফিরে পেতে।
ফাইনালের দুই প্রতিক্ষই নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়েছিল। ‘এ’ গ্রুপে ভারত নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল। পরের দুই ম্যাচ জিতে তারা ৪ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছিল সেমিতে। বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরাই সেমিফাইনালে তাদের কাছে হেরে গিয়েছিল। দুই দলই জয় পেয়েছিল ৭ উইকেটে। পাকিস্তানকে মাত্র ১১৬ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছিল ২২.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১২০ রান করে। ভারতের জয় ছিল আরও ষাঁড়াশি। শ্রীলঙ্কার করা ১৭৩ রান তারা টপকে গিয়েছিল মাত্র ২১.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে। বলা যায় দুটি সেমিফাইনালই হয়েছে এক তরফা। প্রতিপক্ষ দাঁড়াতেই পারেনি। তাই আজ লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।
বাংলাদেশ যে গতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেখানে সেমিতে পেয়েছিল ভারতকে। কোনো রকম লড়াই করার সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশ ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছিল ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে। যুবাদের এশিয়া কাপের ইতিহাসে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি ছিল দ্বিতীয়বার জয়। এর আগে তারা ২০১৭ সালে গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল ৮ উইকেটে। আগের পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত এই আসর প্রথমবারের মতো সেমিতে যেতে পারেনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের জয় চারবার।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বাংলাদেশের ভরসার প্রতীক অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। ব্যাট হাতে তিনি দারুণ ছন্দে আছেন এই আসরে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রানের দেখা পাচ্ছেন। একিট সেঞ্চুরি আর দুটি হাফ সেঞ্চুরিতে ২২৪ রান করে তিনি আছে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় তিনে। তার ওপরে থাকা মোহাম্মদ রিয়াজউল্লাহ (২২৭) ও সাহজিব খানের ( ৩৩৬) দল পাকিস্তান আসর থেকে বিদায় নিয়েছে। সেমিতেও আজিজুল ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ব্যাট হাতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন আয়ুশ মাত্রি (১৭৫)। তবে বাংলাদেশের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে আইপিএলে দল পাওয়া বৈভব সূর্যবংশী। এই ওপেনারের রান ৪ ম্যাচে ১৬৭। সেমিতে শ্রীলঙ্কাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ছিল ৩৬ বলে ৫ ছক্কা ও চারে অপরাজিত রানের ইনিংস।
শিরোপা ধরে রাখতে শুধু আজিজুল ইসলামের ওপরই ভরসা রাখছে না বাংলাদেশ দর। ভরসা দেখাচ্ছেন দুই পেসার আল ফাহাদ ও ইকবাল হোসেন ইমন। দুজনেই ১০টি করে উইকেট নিয়ে সবার ওপরে আছেন। গড় রানে ফাহাদ সবার ওপরে। সেমিফাইনালে ইমন ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয়কে সহজ করে তুলতে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন।