ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির ভুলের কোনো সুযোগ নেই: ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’

চট্টগ্রামের অধিকাংশ উপজেলায় ঘরছাড়া স্বতন্ত্রের সমর্থকরা

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:২২ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৬ এএম
চট্টগ্রামের অধিকাংশ উপজেলায় ঘরছাড়া স্বতন্ত্রের সমর্থকরা
ছবি: খবরের কাগজ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই চট্টগ্রামের মীরসরাই, ফটিকছড়ি, পটিয়া ও সন্দ্বীপে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে ঘরছাড়া হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। নির্বাচন-পরবর্তী হামলায় ওই চার উপজেলায় অন্তত ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। গতকাল রবিবারও মিরসরাই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ফটিকছড়িতে ৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ৭ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হন। এরপর গত ১০ জানুয়ারি লেলাং ইউনিয়নের আদর্শ বাজারে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়বের দুই সমর্থক আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। 
ফটিকছড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়া আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার শত শত কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। মামলা ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। আমরা যেন আসমান থেকে নেমে এসেছি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে পটিয়াতে।’ 

সন্দ্বীপ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিনের এজেন্টসহ কর্মীকে কান ধরে ওঠবস ও মারধর করা হয়েছে। ডা. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার শত শত কর্মী বাড়িছাড়া হয়েছেন। নৌকার সমর্থিত কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আমার কর্মীদের ওপর হুমকি অব্যাহত আছে।’ 

মিরসরাই উপজেলার স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক নেতা-কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। এখনো হুমকি দেওয়া হচ্ছে নেতা-কর্মীদের। 

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, হামলার বিষয়ে খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি
নোবেল মীর। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নোবেল মীর। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উদ্ভবগঞ্জ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেন। 

তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা হামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজের দলের লোকজনের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দফায় দফায় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করছেন। পুলিশ সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি। 

তিনি দাবি করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিনিও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে জাহাঙ্গীর আলম কৌশলে ১৪ বছর আগের একটি চেক চুরি করে নিয়ে বর্তমানে ‘চেক ডিজঅনার’ মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তবে আমাকে তিনি উল্টো ইউনিয়ন পরিষদে সবার সামনেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ইমরান/রিফাত/

নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী
ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন এবং প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন নিশাত আক্তার নামে এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নিশাতের মা নাজমা আক্তার (৬০) জানান, পালানোর সময় তার ঘর থেকে ওই মেয়ে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, মেয়ে নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের পিতা খোরশেদ আলম ও মাতা কুলসুম আক্তারকে আসামী করে চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ জুন হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমাম রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। অন্যদিকে নিশাত আক্তার (৩০) চাটখিলের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। তার স্বামী দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিশাতের স্বামী কানাডা থাকার সুবাদে তিন সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। এ সুযোগে বাড়ির পাশে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনেস সঙ্গে নিশাতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে কৌশলে বাবার বাড়িতে রেখে যান।

নিশাতের মা নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত তার ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকার একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যান।’

এদিকে নিশাতে শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে রিয়াজ ও নিশাতের বিবাহের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। নোয়াখালীর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরেও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘এ ঘটনায় মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মজনু/রিফাত/

ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

খ্রিস্টান ধর্মের ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট‘ সম্প্রদায়ের দুইজন ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে প্রতি শনিবার স্বাভাবিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। তাই তাদের জন্য রাতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। 

সারাদেশে এরকম ১৬০ শিক্ষার্থী রাতে পরীক্ষা দেবেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছেন দুইজন। তাদের একজন নগরের হালিশহর ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্রী এঞ্জেলি সুয়ারি ত্রিপুরা। অন্যজন বান্দরবান থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন। 

খ্রিস্টান ধর্মাবলস্বী ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের মানুষের শনিবার দিনের বেলায় পড়াশোনা করার নিয়ম নেই। শনিবার ছাড়া অন্য দিনগুলোতে দিনের বেলায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা নেই। 

গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরমধ্যে শনিবার পরীক্ষা পড়েছে ছয়টি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী, শনিবারের দিনগুলির মধ্যে ৪ জুলাই বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, ৮ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক), ১৮ জুলাই ভূগোল (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, ২৫ জুলাই অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র, ১ আগস্ট মনোবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র ও কৃষি (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র এবং ৮ আগস্ট ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র এবং শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৯টায় দুইজন খ্রিস্টান ধর্মাবলস্বী পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলেও ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না। তারা প্রায় ৯ ঘণ্টা একটি কক্ষে অবস্থান করে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যায় পরীক্ষার উত্তরপত্রে লেখা শুরু করবেন। পরীক্ষা শেষ হবে রাত ১০টায়।  

তবে বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, এই পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করবেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের কাছে প্রবেশপত্র ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। কোনো অবস্থাতেই তারা কক্ষের বাইরে যেতে বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। পরীক্ষা চলাকালে পরিদর্শক থাকবেন। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সঙ্গে শুকনো খাবার নিয়ে আসতে পারবেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, দুই বছরে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এবার শনিবারও পরীক্ষা রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সেশনের পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনা যায়। এই পরীক্ষার্থীরা সকালে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হলে প্রবেশ করে একটা কক্ষে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের পর তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। 

এসএন/

কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টাকালে রেয়াজুল শেখ (৪৩) নামে এক ভ্যান চালককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের জাঠিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ভ্যানচালক রিয়াজুল শেখ উপজেলার পূর্ণবর্তী গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে বাড়ির পাশের মন্দিরের সামনে খেলা করছিল। এসময় রিয়াজুল শেখ নামে ওই ভ্যানচালক আমার মেয়েকে মন্দিরের পিছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে আশপাশের লোকজন দেখে ফেললে তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে রিয়াজুল শেখকে থানায় নিয়ে যায়।

কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সেন বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানচালক রিয়াজুল শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বাদল/এএফ

একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

একই মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম, একই আঙিনায় বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরের কত শত স্মৃতি জড়িয়ে থাকে যে পৈতৃক ভিটায়, সেই চেনা আঙিনাই আজ পরিণত হলো এক রক্তস্নাত যুদ্ধক্ষেত্রে। সম্পত্তির লোভ আর ক্ষণিকের অন্ধ আক্রোশ মুছে দিল আজন্মের ভাইয়ের বাঁধন। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে গাছ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম (৫৩)।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই বুকফাটা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। যে পৈতৃক ভিটা একসময় দুই ভাইয়ের মেলবন্ধনের সাক্ষী ছিল, আজ তা-ই রঞ্জিত হলো আপন ভাইয়ের রক্তে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক জায়গাজমির ভাগ–বাঁটোয়ারা নিয়ে খুটাখালীর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আবদুর রহিমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মনের ভেতর জমে থাকা সেই পারিবারিক ক্ষোভ আজ রূপ নেয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

সকালে দক্ষিণপাড়ার পুরোনো বসতভিটায় গিয়ে আচমকা গাছ কাটতে শুরু করেন ছোট ভাই আবদুর রহিম। পৈতৃক ভিটার গাছ কাটার খবর পেয়ে পূর্বপাড়া থেকে মনস্থির রাখতে পারেননি বড় ভাই নুরুল ইসলাম। রক্তের টানে আর পৈতৃক স্মৃতি রক্ষার্থে দ্রুত ছুটে যান সেই পুরোনো ভিটায়। কিন্তু তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি, এই যাওয়াই হবে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে ক্ষোভ ও অভিমানে নুরুল ইসলাম নিজেও দুটি গাছ কাটেন। আর এতেই যেন ছোট ভাই আবদুর রহিম ও তাঁর পরিবারের ভেতরের সুপ্ত হিংস্রতা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বড় ভাইয়ের ওপর চড়াও হন আবদুর রহিম ও তাঁর স্বজনরা। চারপাশের আকুতি আর রক্তের সম্পর্ককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবদুর রহিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বড় ভাই নুরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। কোপের পর কোপ বসতে থাকে নুরুল ইসলামের শরীরে আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে দক্ষিণপাড়ার আকাশ। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নুরুল ইসলাম। আর তখনই অপরাধবোধহীন হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

রক্তের সাগরে ভেসে যাওয়া নুরুল ইসলামকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে যখন তার মরদেহ পড়েছিল, তখন উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সামান্য কিছু গাছের জন্য একটা তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে, তা যেন কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, জায়গাজমি ও গাছ কাটার বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পিঠে, পায়ে ও গলার নিচে একাধিক মারাত্মক কোপের আঘাত রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ জানায়, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আবদুর রহিম ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এসএন/