দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই চট্টগ্রামের মীরসরাই, ফটিকছড়ি, পটিয়া ও সন্দ্বীপে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে ঘরছাড়া হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। নির্বাচন-পরবর্তী হামলায় ওই চার উপজেলায় অন্তত ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। গতকাল রবিবারও মিরসরাই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ফটিকছড়িতে ৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ৭ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হন। এরপর গত ১০ জানুয়ারি লেলাং ইউনিয়নের আদর্শ বাজারে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়বের দুই সমর্থক আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।
ফটিকছড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়া আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার শত শত কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। মামলা ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। আমরা যেন আসমান থেকে নেমে এসেছি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে পটিয়াতে।’
সন্দ্বীপ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিনের এজেন্টসহ কর্মীকে কান ধরে ওঠবস ও মারধর করা হয়েছে। ডা. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার শত শত কর্মী বাড়িছাড়া হয়েছেন। নৌকার সমর্থিত কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আমার কর্মীদের ওপর হুমকি অব্যাহত আছে।’
মিরসরাই উপজেলার স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক নেতা-কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। এখনো হুমকি দেওয়া হচ্ছে নেতা-কর্মীদের।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, হামলার বিষয়ে খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।