লক্ষ্মীপুর শহরে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে ধীরগতির কারণে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শহরের চক বাজার থেকে উত্তর তেমুহনী প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মাটি খুঁড়ে রাখা হলেও ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে না। ফলে জেলা শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক যানজট ও ধুলোবালিতে একাকার হয়ে আছে।
জানা যায়, যানজট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর থেকে দক্ষিণ তেমুহনী হয়ে উত্তর তেমুহনী পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করা হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৩৬ কোটি টাকা। এম এম বিল্ডার্স ও মেসার্স ছালেহ আহাম্মদ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়। তবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ইস্কান্দার মির্জা শামীম।
২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করেন। কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতাসহ নানা কারণে দুই দফা কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ঝুমুর থেকে দক্ষিণ তেমুহনী পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে শহরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ তেমুহনী থেকে উত্তর তেমুহনী পর্যন্ত বাজার রোড নামে পরিচিত সড়কটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে সড়কের এ অংশের ১০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। সড়কের যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখায় জেলা শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক খানা খন্দক, যানজট ও ধুলোবালিতে একাকার হয়ে গেছে। সড়কের পাশের ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় দুই মাস আগে চক বাজার থেকে উত্তর তেমুহনী প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মাটি খুঁড়া হলেও ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে না। এতে ব্যবসায়িরা নিরুপায় হয়ে গর্তের ওপর বাঁশের মাচা দিয়ে ক্রেতাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন। তবে স্থানীয়রা তাদের বাসায় মালামাল ও নিজস্ব যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে পারছে না।
শহরের আজিমশাহ মার্কেটের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ করতে গিয়ে আমাদের দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখতে হয়েছে। বর্তমানে ড্রেনের মাটি খনন করে রাখা হয়েছে। অপরদিকে সড়কে নির্মাণসমগ্রী ফেলে রাখায় ধুলোবালিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একাকার হয়ে যায়।’
জেলার বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, বিদ্যালয়, কলেজ, প্যাথলজিক্যাল ল্যাব, জেলা পরিষদ ভবন, সাব রেজিস্ট্রার অফিস, সদর থানা, প্রায় ৩০টি ব্যাংকের শাখা এবং শহরের অধিকাংশ শপিং সেন্টার এই সড়কের পাশে অবস্থিত। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতিদিন যানজট ও ধুলোবালির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া বলেন, ‘যতই দিন যাচ্ছে ধুলোবালির পরিমাণ ততই বাড়ছে। অন্যদিকে সামনে বর্ষা আসছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে পানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়বে। গত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভায় আমি দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দাবি জানিয়েছি।’
লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘জেলা শহরের একমাত্র সড়কটির কাজ যথা সময়ে শেষ না করা হলে জনগণের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।’
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সড়কটির সংস্কারের কাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে জেলা শহরের ব্যবসায়িরা চরমভাবে লোকসানের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি শহরের বাসিন্দাদেরও দুর্ভোগের অন্ত নেই।’