কুমিল্লার দুই উপজেলায় গত দুই দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ছাড়াও চান্দিনায় ‘চিকিৎসক’ পদবি ব্যবহার ও রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এবং রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জেলার চান্দিনা ও বরুড়া উপজেলায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
এর মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চান্দিনায় চারটি এবং বরুড়ায় তিনটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জানা যায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় লাইসেন্স না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বরুড়া মৌলভীবাজার এলাকায় অবস্থিত বরুড়া ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, হাসপাতাল সড়কের মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল ও রয়েল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান সোহেল। এ সময় মেডিকেল অফিসার ডা. সিফাত সালেহ এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান সোহেল জানান, বন্ধ করে দেওয়া তিনটি হাসপাতালে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরিদর্শনে এসে দেখা গেছে, প্রদর্শিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে ল্যাবে পরীক্ষা করানো, রসিদে অতিরিক্ত মূল্য লেখে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড়ে টেস্ট করে দেওয়ার নামে প্রতারণা, ল্যাবে যথাযথ ফ্রিজ না থাকা ও সঠিক তাপমাত্রায় রিএজেন্ট সংরক্ষণ না করা, অপরিচ্ছন্ন ল্যাব, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (রেডিওগ্রাফার) অনুপস্থিতি স্বত্ত্বেও এক্স-রে করানোসহ নানা অনিয়ম। ফলে এ প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় উপজেলার সাধারণ মানুষের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলায় অবস্থানরত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারি বিধি মেনে সব কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমাদের এই পরিদর্শন নিয়মিত চলমান থাকবে।
এর আগের দিন শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের কৈলাইন পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় খলিলুর রহমান পলাশ নামে এক ‘ভুয়া চিকিৎসককে’ তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া বিভিন্ন অসংতি থাকায় ওই ব্যক্তির মালিকানাধীন লক্ষ্মীপুর মেডিকেল সেন্টারটি পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাবের মো. সোয়াইব।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুর রহমান, জুনিয়র কনসালটেন্ট মোস্তফা মনোয়ার কৌশিকসহ চান্দিনা থানা পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিন অভিযান চালিয়ে মাধাইয়া জেনারেল হাসপাতাল, লক্ষ্মীপুর নতুন বাজারের জি এম মেডিকেল সেন্টার, বদরপুর পশ্চিম বাজারের জয় মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে সিলগালা করা হয়েছে।
ইউএনও বলেন, উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। বড় কোনো অসংতি পেলে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে। পরবর্তীতে আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
জহির শান্ত/জোবাইদা/অমিয়/