দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে ফিশিং বোটে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩০ জন জলদস্যুকে আটক করেছে র্যাব-৭। এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোহাম্মদ নুরুল আবছার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, প্রায় ৩৫-৪০ জনের তিনটি সশস্ত্র ডাকাত চক্র ভোলা, বরিশাল, কুতুবদিয়া এবং আনোয়ারা এলাকায় একত্রিত হয়ে সাগরে বড় পরিসরে দস্যুতার পরিকল্পনা করছে বলে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে তারা। চক্রটি আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে প্রায় ১৫-২০টি ট্রলারে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করে। পাশাপাশি লুটপাট করা মাছ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলের দিকে নিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা করে চক্রটি।
র্যাব সদস্যরা গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে পতেঙ্গা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে গহিন সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে চক্রটির গতিরোধের চেষ্টা করলে তারা র্যাবকে প্রতিহত করে এবং তাদের দিক পরিবর্তন করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা নৌবন্দর এলাকার ১৫ নং ঘাটের দিকে আসতে থাকে। এ সময় র্যাব সদস্যরা তাদের দুটি ট্রলারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রলার থেকে অস্ত্র ও ডাকাতির মাছ এবং মালামালসহ ৩০ জনকে আটক করেন।
র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোহাম্মদ নুরুল আবছার জানান, চক্রটি বঙ্গোপসাগরে ডাকাতি করে দাপিয়ে বেড়ায়। তাদের কাজ হলো অস্ত্র, গুলি এবং ট্রলারের জোগান দেওয়া। আর ডাকাত সদস্যরা এগুলো ব্যবহার করে ডাকাতি করে। লুট করা মাছ ও অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে। এর মধ্যে ৪০ ভাগ পেত কথিত গডফাদার, ২০ ভাগ তেল খরচ এবং বাকি ৪০ ভাগ ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সদস্যদের মাঝে বণ্টন করা হতো। তাদের বিরুদ্ধে থানার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।