ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভুয়া চিকিৎসক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৮ এএম
চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভুয়া চিকিৎসক গ্রেপ্তার
ভূয়া চিকিৎসক আবু তৈয়ব পাটোয়ারি

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) থেকে এবার ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। 

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের আইসিইউ থেকে তাকে আটক করা হয়।

জানা যায়, সোমবার দুপুরের চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম আহসান মানসিক রোগ বিভাগের আইসিইউ পরিদর্শনে যান। এ সময় ওই ভুয়া চিকিৎসককে দ্রুত আইসিইউ থেকে বের হতে দেখেন আনসার সদস্যরা। তার গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে দেখা যায়, তিনি চিকিৎসক নন তবুও এপ্রোন পরে ছিলেন। ফলে তাকে আটক করার নির্দেশ দেন পরিচালক। 

আটক ভুয়া চিকিৎসকের নাম আবু তৈয়ব পাটোয়ারি। তার বাড়ি চাঁদপুর এলাকায়।

জরুরি নিরাপত্তা সংবলিত আইসিইউতে তিনি চিকিৎসকের বেশে প্রবেশ করেছিলেন। তবে তিনি স্থানীয় একটি ল্যাবের টেকনিশিয়ান বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক দুপুরে খবরের কাগজকে বলেন, ‘একজন ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে হাসপাতালের নিচতলায় মানসিক রোগের আইসিইউ থেকে। তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ 

আবদুস সাত্তার/ইসরাত চৈতি/অমিয়/ 

আটক ৪ মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ আরও ৩

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ আরও ৩

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে জিম খাতুন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নিহতের মাসহ আরও দুজন।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানদার ও সেলসম্যানসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মৃত জিম খাতুন উপজেলার বেলগাছি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন- নিহতের মা পারভিন খাতুন, বোন রিয়া ও মিথিলা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় শবেবরাতের নফল রোজা রেখে ইফতারিতে ওরস্যালাইন ও ইস্পি ট্যাংয়ের মিশ্রণের শরবত খান পারভিন খাতুন। এ সময় তার তিন মেয়ে জিম, রিয়া ও মিথিলাও এ শরবত খায়। ইফতার শেষে পারভিন ও তার তিন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে তাদের ভর্তি করেন। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় তাদের প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাদের সিরাজগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পরে জিম খাতুনের মৃত্যু হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ অন্য তিনজনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জিম খাতুনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দোকানদার আমিনুল ইসলাম, স্যালাইনের সেলসম্যান আনিছুর রহমান, হাফিজ শেখ ও সাগর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। খাবার স্যালাইনের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরিষ্কার নয়। আমি খাবার স্যালাইন টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠাব। ল্যাবের রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে স্যালাইন মেয়াদোত্তীর্ণ নাকি স্যালাইনটি নকল। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

স্ট্রোক করে বাবার মৃত্যু পরীক্ষা দিলাম, এখন বাড়িতে গিয়ে বাবার লাশ দাফন করব’

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪০ এএম
পরীক্ষা দিলাম, এখন বাড়িতে গিয়ে বাবার লাশ দাফন করব’

এসএসসি পরীক্ষার্থী নাঈম হোসেন হৃদয় মোল্যা। এ বছর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার হাদিউজ্জামান মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গত সোমবার রাতে তার বাবা স্ট্রোক করে মারা যান। পরে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সে। নাঈম হোসেন উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মোল্যার ছেলে। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সরকারি মুকসুদপুর কলেজে ধর্ম পরীক্ষা দেয় ওই শিক্ষার্থী। কলেজের কেন্দ্রসচিব অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরীক্ষা শেষে নাঈম হোসেন বলে, ‘বাবার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে আমি বিসিএস ক্যাডার হব। কিন্তু বাবার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাবা দেখে যেতে পারলেন না আমার ভবিষ্যৎ। তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।’ 

পরীক্ষার্থী নাঈম হোসেন আরও বলে, ‘আমার বাবা মনিরুজ্জামান মোল্যা গত সোমবার রাতে স্ট্রোক করে মারা যান। আজ আমার ধর্ম পরীক্ষা ছিল। বাবার লাশ দাফন করা হবে আজ (মঙ্গলবার)। কিন্তু আমি বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য তার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে এসেছি। পরীক্ষা দিলাম, এখন বাড়িতে গিয়ে বাবার লাশ দাফন করব।’

তার চাচা বাবুল মোল্যা বলেন, ‘আমার ভাই মনিরুজ্জামান মোল্যা সোমবার রাতে স্ট্রোক করে মারা যান। ভাতিজার আজ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এখন আমার বড় ভাইয়ের লাশ দাফন করব।’

কেন্দ্রসচিব অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষার্থী নাঈম হোসেনের বাবা মারা গেছেন। আমরা খবর পেয়ে তাকে আলাদা পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সে জানিয়েছিল, সবার সঙ্গে বসেই পরীক্ষা দেবে। তবে পরীক্ষা দেওয়ার সময় সে স্বাভাবিক ছিল। তার পরীক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।’

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা মুকসুদপুর থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থী নাঈম হোসেনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে দেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।’

মানবেতর জীবন কাটছে ৫ বিডিআর পরিবারের

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
মানবেতর জীবন কাটছে ৫ বিডিআর পরিবারের

বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম ১৫ বছরেও শেষ হয়নি। এ ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা পঞ্চগড়ের পাঁচ বিডিআর পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ওই পরিবারের স্বজনরা। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাদের।

জানা যায়, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা দুজন, সদর, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার একজন করে মোট পাঁচজন বিডিআর সদস্য বর্তমানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া লোহাকাচী গ্রামের সফিউল ইসলামের ছেলে হাসিনুর রহমান, একই উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের হাওয়াজোত শিপাইপাড়া গ্রামের মৃত আসির উদ্দীনের ছেলে বাবুল হোসেন, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাগোজিয়াপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে সুবেদার সপিজ উদ্দীন, বোদা উপজেলার বোসপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে আফতাবুর রহমান ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বেংহারী কালীগঞ্জ গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফুল ইসলাম। 

স্মারকলিপি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় ওই পাঁচ আসামির মধ্যে অনেকে খালাস পেয়েছেন। অনেকে আবার হত্যা মামলায় ফৌজদারি আইনে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগও শেষ করেছেন। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিস্ফোরক দ্রব্য মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় অসহায় পরিবারগুলো উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের কাছে না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। জামিন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রেপ্তার আসামিদের স্বজনরা।

বিডিআর সদস্য বাবুল হোসেনের স্ত্রী রেজিনা আক্তার বলেন, ‘যখন ওই ঘটনা ঘটে, তখন আমার মেয়ের বয়স মাত্র তিন মাস ছিল। এখন তার বয়স ১৫ বছর। মেয়ে আমার নবম শ্রেণিতে পড়ে। কখনো বাবার সোহাগ-আদর পায়নি। কারাগারে দূর থেকে শুধু বাবাকে দেখেছে আর কেঁদেছে। আমার মেয়ের কী অপরাধ? সে কি কখনো বাবার আদর পাবে না? আমি খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। টাকার অভাবে মামলা চালাতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত যেন বিস্ফোরক মামলার নিষ্পত্তি হয়।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

খাড়িয়া ভাষা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৫ এএম
তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে খাড়িয়াভাসী দুই বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। খবরের কাগজ

প্রতিবছর নানা দিবস আসে, চলে যায়। ভাষা দিবসও চলে গেল। বাঙালি জাতির জীবনে শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল, অহংকারে চিরভাস্বর এই ভাষা দিবস। তখন ভাষা নিয়ে চলে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক। এর এক বিশাল অংশজুড়ে থাকে আমাদের নিজস্ব মাতৃভাষার কথা।

মানুষের প্রয়োজনে মাতৃভাষার জন্ম হয়েছিল, আবার হারিয়েও যাচ্ছে অন্য ভাষার আধিপত্যে টিকতে না পেরে। নিজ নিজ ভাষার মাধুর্য অন্যরকম। যেখানে আছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য ও রসবোধ, রয়েছে নিজস্ব অহংকার। খাড়িয়া এমনি এক ভাষা। বাংলাদেশে বর্তমানে এ ভাষায় কথা বলতে পারেন কেবল দুই বৃদ্ধা বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। তাদের মৃত্যু হলে খাড়িয়া ভাষারও মৃত্যু ঘটবে। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে একটি ভাষা ও একটি সংস্কৃতি।

ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার মুখেই কেবল খাড়িয়া ভাষাটি টিকে আছে এদেশে। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে। ভেরোনিকা কেরকেটা বলেন, ‘নিজের ভাষায় কথা বলার লোক পাই না বলে দুঃখ হয়। আমরা দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।’

খ্রিস্টিনা কেরকেটা বলেন, ‘ইচ্ছে তো করে নিজেদের ভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলি। কিন্তু উপায় নেই। আমাদের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনির সঙ্গে কথা বলতে হয় বাংলা ভাষায়।’

খাড়িয়া ভাষা রক্ষার উদ্যোক্তা পিউস নানোয়ার বলেন, ‘২০১৭ সালে বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার নামে একটি খাড়িয়া ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র খুলে তরুণ প্রজন্মকে ভাষা শেখানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টায় কোনো সফলতা পাইনি। কারণ, বাংলাদেশে খাড়িয়াদের নিজস্ব বর্ণমালা নেই।’

পিউস নানোয়ারের দেওয়া তথ্য মতে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি চা-বাগানে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০২০ সালে এক জরিপে দেশে এ জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার ৭০০ জনের তালিকা করা হয়। অনুসন্ধানে ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা ছাড়া আর কোথাও খাড়িয়া ভাষায় কথা বলার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করা আহমদ আফরোজ বলেন, ‘এই দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে খাড়িয়া ভাষা বলতে পারেন না। তারা হারিয়ে গেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এই মাতৃভাষা খাড়িয়া।’

চা-শ্রমিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে গবেষণা করা শিক্ষক দীপংকর শীল জানান, চা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ অতি দরিদ্র হওয়ায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কোনো ভাষার জনসংখ্যা কম হলে সহজেই সেই ভাষা হারিয়ে যায়। তবে বিপন্ন ভাষার গান, আবৃত্তি রেকর্ড করে সংরক্ষণ করতে পারলে কিছুটা রক্ষা করা সম্ভব।

ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে লোক গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের সংগঠিত করে এদের জীবনচর্চা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে লালনের মাধ্যমে রক্ষা করা যেতে পারে। এদের রক্ষা করতে না পারলে আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যও এক দিন হারিয়ে যাবে।’

জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংকটে রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি, প্রথা, ইতিহাস ও উৎসব বাঙালিদের মুগ্ধ করলেও চর্চা এবং সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা। এরমধ্যে দেশের ১৬৮টি চা-বাগানের মধ্যে ৯০টিরই অবস্থান মৌলভীবাজারে। এসব বাগানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই পাহাড় টিলার পাদদেশে, বনজঙ্গলে কিংবা সমতলভূমিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনযাপন করছেন। চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত এসব নৃগোষ্ঠীর জাতীয় অর্থনীতিতে আছে যথেষ্ট অবদান। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকারসহ মাতৃভাষা রক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে এই জনগোষ্ঠী।

৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২১ এএম
৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা
ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও প্রায় ৫ বছরের মধ্যে এক দিনও খেলাধুলা হয়নি। তবে এই স্টেডিয়ামে সপ্তাহে প্রতি শনিবার গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনাবেচার হাট বসানো হয়। ফলে সব ধরনের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ এই মাঠটিতে খেলাধুলার উপযোগী করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম দেখা যায়, খেলার মাঠজুড়ে খানাখন্দে ভরা, মাঠের চারদিকে বসানো গ্যালারি বেঞ্চগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরপুর, বৃষ্টির পানিতে মাঠের মাটি ও প্যালাসাইডিং ধসে গেছে, চড়ানো হয় গরু-ছাগল, বর্জ্যে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট, ভবনের আস্তরণ খসে পড়ছে। পাবলিক টয়লেট ভবন, গোলপোস্ট বেহাল। এ ছাড়া স্টেডিয়াম নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় খেলোয়াড় তানজীনুর রহমান ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্টেডিয়ামটি পড়ে রয়েছে। সপ্তাহে প্রতি শনিবার বসে গরু-ছাগলের হাট। মাঠটিতে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। এর ফলে নির্মাণের পর থেকে এই মাঠে এক দিনও কোনো খেলাধুলা হয়নি। অথচ কর্তৃপক্ষ অন্য বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে খেলাধুলার আয়োজন করেন। তাহলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেডিয়াম তৈরি করার দরকার কী ছিল?’

এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই স্টেডিয়ামে ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে জানতাম না। এই মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নেই। খেলার উপযোগী করে স্টেডিয়াম মাঠে সকল খেলাধুলার আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি।’ 

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, ‘শিয়ালকোল হাটের পাশে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পর থেকে স্টেডিয়াম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। মাঠ ও চারপাশের পরিবেশ একেবারেই নোংরা হয়ে আছে। স্টেডিয়ামটি গরু-ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি।’

শিয়ালকোল হাট কমিটির সভাপতি মো. রকিবুল ইসলাম ভূঞাসহ অনেকেই জানান, ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি সরকারি নিয়ম অনুসারে তদারকি অভাবে ঠিকাদার মানসম্পন্ন কাজ না করে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘স্টেডিয়ামের বিষয়ে জেনে বিস্তারিত জানানো হবে। না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

এর আগে ২০১৭ সালে টেন্ডার হওয়ার পর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ এবং ফোর সাইট কোম্পানি নামে দুটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শেখ রাসেল এই মিনি স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। সেই সময় কাজ শেষ হতে না হতেই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে প্যাভিলিয়ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

জানা যায়, সরকার ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান উন্নয়নের জন্য মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেয়। এরমধ্যে টাঙ্গাইলে ৭টি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ভূঞাপুরের শিয়ালকোলে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

দেখা গেছে, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট, গ্যালারি এবং আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভূঞাপুরের শিয়ালকোলের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে শুধু একটি একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন নির্মাণ ও কয়েকটি ইট-সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চ বসানো হয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টেডিয়ামটি নির্মাণে আয়তন কমিয়ে ফেলেছে। ৩৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০০ ফুট প্রস্থ করার কথা থাকলেও মাত্র ২৭০ ফুট বাই ২০০ ফুট মাঠ তৈরি করা হয়েছে। মাঠ ভরাট করে আয়তন বাড়ানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং আগে নির্মিত হেলিপ্যাডের প্রায় ৬০ হাজার ইট স্থানীয় ইটভাটাসহ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে।