ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের টাকায় নিজের পছন্দের জায়গায় কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবিষ্যতে ওই জমিতে বাড়ি করবেন আওয়ামী লীগ নেতা। তাই তিনি সরকারের টাকায় নিজের পছন্দের জায়গায় কালভার্ট নির্মাণ করছেন। এদিকে নির্মাণকাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম মাহবুবুর রহমান রাজু। তিনি মান্দারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট মান্দারী স্কুল রোড হারুনের বাড়ির পাশে কালভার্ট নির্মাণে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। গত ৩ আগস্ট ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প বরাদ্দের (১ম কিস্তি) প্রকাশিত তালিকায় ওই কালভার্টটির নম্বর ছিল ‘২৯’। তার আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের বরাবর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামালের বরাদ্দে উন্নয়নমূলক কাজের চিঠি ইস্যু করা হয়। তাতে ওই প্রকল্পটিও ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২ নম্বর ওয়ার্ডের রতনপুর এলাকায় খালি স্থানে কালকালভার্টটি দেখা যায়। কালভার্টের এক পাশে মান্দারী-দত্তপাড়া সড়ক থাকলেও অন্য পাশে রয়েছে ফসলি জমি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মান্দারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড রতনপুর গ্রাম। রাজু ওয়ার্ডের মেম্বার। তার এলাকার অনেক স্থানে জনসাধারণকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। কিন্তু তার সে দিকে লক্ষ্য নেই। তিনি যেখানে কালভার্ট নির্মাণ করেছেন পাশেই তার জমি রয়েছে। সেখানে তিনি বাড়ি করবেন। এ জন্যই সরকারি বরাদ্দের টাকায় তিনি কালভার্টটি নির্মাণ করছেন। শুধু স্বার্থেই তিনি কালভার্টটি করছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলা কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান রাজু বলেন, ‘আমি তো কাজ করেছি। অনেকে কাজ না করেই বিল উত্তোলন করে নিয়ে যান। তাদের নিয়ে কোনো সংবাদ হয় না। এখন আমারটা নিয়ে মাতামাতি কেন। কাজের আগেই আমি বিল পেয়ে গেছি। পিআইও আমাকে বিল দিয়ে দিয়েছেন।’
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি কালভার্টটির প্রকল্প পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু বরাদ্দটি সাবেক সংসদ সদস্যের ছিল। উনি মারা গেছেন। তার স্বাক্ষর ছাড়া প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। আর কাজ না করে বিল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’