নোয়াখালীর ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ শিশুসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তবে দগ্ধদের মধ্যে রাসেল (৩) নামে এক শিশু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছে। গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় অন্য আহতরা হলেন রশমিদা (৩), রবিউল (৫), সোহেল (৫), জোবায়দা (১১), সফি আলম (১২), বসির উল্লাহ (১৫), আমেনা খাতুন (২৪) ও মোবাশ্বেরা (৩২)।
নোয়াখালির ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল থেকে আগুনে দগ্ধ পাঁচ শিশু ও দুই নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন একটি শিশুর মৃত্যু হয়। তার শরীরে প্রায় শতভাগ পুড়ে গিয়েছিল। অন্য শিশুদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চমেক।
এ ছাড়া বাকি দুই কিশোরকে নোয়াখালীতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হাসিনা জাহান চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আহতদের মধ্যে শিশুদের অবস্থা বেশি খারাপ। দুই নারীর ১০ থেকে ২০ ভাগ পুড়েছে। তাদের চিকিৎসা আমাদের এখানে সম্ভব ছিল। কিন্তু শিশুদের সঙ্গে তাদের মায়েদেরও চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। বাকি দুই কিশোরকে এখানে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
আহতদের সঙ্গে চমেক হাসপাতালে আসা স্বজন আজিজুল হক বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাই আহত হয়েছে। নিহত শিশু রাসেল আমার ছেলে। আমি সব হারালাম।’
তিনি বলেন, ‘সিলিন্ডারের গ্যাস থাকা অবস্থায় আরেকটি সিলিন্ডার চাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ দেয় না। ফলে ব্যবহার হওয়ার পর সিলিন্ডারে কিছু গ্যাস থাকলে সেগুলো আমরা বের করে ফেলি। এ কাজটি করতে গিয়ে চুলা থেকে আগুন সিলিন্ডারে চলে যাওয়ায় এ আগুনের সূত্রপাত।’
চমেক হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ তুহিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভর্তি হওয়া শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে চমেকে আনা হয়। তাৎক্ষণিক তাদের ৩৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে এক শিশু মারা গেছে। ভর্তি হওয়া অন্য শিশুদের অবস্থা ভালো না।’
ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘সকাল সোয়া ৮টার দিকে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে আব্দুর শুকুরের রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে পাঁচ শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়।’