ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খামেনির শেষকৃত্যে মোজতবা ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অন্য ৩ ছেলে নারীর জীবনে এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার ধেয়ে আসছে নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী লাখো মানুষের ‘কষ্টের দৈর্ঘ্য’ ১৬ কিলোমিটার আমরাও হাত নোংরা করতে জানি: এমবাপ্পে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন চবিতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সামান্তা-পুলক হালান্ডকে আটকানোর কৌশল জানা আছে ব্রাজিলের হাঁড়িভাঙা আমের দেশে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন: ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণে ট্রপিক্যাল হোমস-বার্জার পেইন্টসের চুক্তি সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন ‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেকুয়ায় অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ বিএনপির মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক

নির্বাচনে কোনো অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হবে না: ডিসি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৫ পিএম
নির্বাচনে কোনো অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হবে না: ডিসি
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন জেলা প্রশাসক। ছবি: খবরের কাগজ

নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুন্দর করতে হবে। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং বিকাল ৪টায় শেষ হবে। যেখানে অনিয়ম, কারচুপি বা অন্যায় কার্যক্রম হবে, সেখানে প্রিসাইডিং অফিসার ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ভোট সুন্দর ও সুষ্ঠু করার জন্য যা যা দরকার সব করবেন।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডিসি বলেন, আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না। আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে মাঠে থাকবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, কেউ জাল ভোট দিতে আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অ্যাজেন্টদের চ্যালেঞ্জ করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা আমরা দেব। গত সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে জেল দেওয়া হয়েছে। এবারও ছাড় নেই। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী, উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম গোলাম মোর্শেদ খান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, আনসার ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট সাইফুল্লাহ হাবীব, সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অতনু চক্রবর্ত্তী, র‌্যাবের এএসপি মোজাফফর হোসেন, বিজিবির সহকারী পরিচালক উপেন্দ্রনাথ হালদার প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মীরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উত্তম কুমার শর্মা, শেখ মো. আতাউর রহমান, সন্ধীপ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ মো. জুয়েল, ফোরকান উদ্দিন আহমদ সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, মো. আরিফুল আলম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী গোলাম মহিউদ্দিন ও জালাল আহমেদ প্রমুখ।


ইফতেখারুল/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন
৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন/ ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের নদী, খাল, পুকুর, জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে শহরের পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট-সংলগ্ন জুলাই স্মৃতি স্তম্ভের সামনে নদী ও জলাশয় সুরক্ষার সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’ এ কর্মসূচি পালন করে।

'ঢেউ’-এর মুখপাত্র সোহেল আহাদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক কমরেড নজরুল ইসলাম, নীহার রঞ্জন সরকার, মাহফুজুর রহমান পুষ্প, প্রবীর চৌধুরী রিপন, শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী ও আলী আকরাম খন্দকার স্বপন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া টাউন খালসহ ২৬টি খাল পুনরুদ্ধার, ২১২টি পুকুর সংরক্ষণ, খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরিবেশবান্ধব ও শিশুবান্ধব নগর গড়ে তুলতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা মানেই পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা। তাই জনস্বার্থে ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

আজিজুল সঞ্চয়/তামান্না রুপা/

লাখো মানুষের ‘কষ্টের দৈর্ঘ্য’ ১৬ কিলোমিটার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
লাখো মানুষের ‘কষ্টের দৈর্ঘ্য’ ১৬ কিলোমিটার
ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর সড়ক। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে যাত্রীদের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ।

হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর সড়কটি বিস্তীর্ণ দক্ষিণ বানিয়াচংয়ের লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। উপজেলার মক্রমপুর, সুজাতপুর, মন্দরী, মুরাদপুর ও পৈলারকান্দি ইউনিয়ন ছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের জন্য প্রায় পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচ, ভেঙে পড়েছে সড়কের এজিং। বর্ষায় এসব গর্তে জমে থাকে কাদা-পানি। ফলে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

রাস্তাটি নিয়ে হিয়ালা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের সড়কের এমন অবস্থা প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে। অনেক কষ্ট করে জেলা সদরে যাওয়া লাগে। রাস্তার অবস্থা এমন যে, একজন রোগী অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে আরও অসুস্থ হয়ে যায়। এছাড়া রাতের বেলা কোনো গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে না।’

একই এলাকার অলম মিয়া বলেন, ‘এমন একটা দিন নাই, যেদিন দুই-তিনটা দুর্ঘটনা ঘটে না। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। কয়েকদিন আগেও একটি টমটম ইজিবাইক উল্টে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া যেখানে ভাড়া ৪০ টাকা, সেখানে আমাদের কাছ থেকে চালকরা নিচ্ছেন ৮০ টাকা। না দিয়েও উপায় নেই, আমরা নিরুপায়।’

ইকরাম এলাকার বাসিন্দা ইমন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এত বড় একটা এলাকা। এই রাস্তা দিয়ে ৬-৭টি ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষ চলাচল করি। কিন্তু সরকার আমাদের জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচ করতে পারে না। এই ১৬ কিলোমিটার সড়কের জন্য আমরা স্থানীয় এমপি ও এলজিইডি অফিসে কত ধর্না দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সবাই আমাদের শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন।’

ইকরাম বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফরহাম হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তার কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। হবিগঞ্জ থেকে মালামাল নিয়ে আসতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। আবার গাড়ি না উল্টালেও ঝাঁকুনিতে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। আমার মনে হয় না, সারাদেশে এমন খারাপ অবস্থার আর কোনো রাস্তা আছে।’

টমটম ইজিবাইক চালক শাহেদ মিয়া বলেন, ‘পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত। এতে প্রায়ই ছোট যানবাহনগুলো উল্টে যাচ্ছে। এছাড়া ঝাঁকুনির কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দুই দিন পরপরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিন এক হাজার টাকা রোজগার করলে, পরেরদিন গাড়িতে ৫০০ টাকার কাজ করাতে হয়।’

সিএনজি অটোরিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, ‘সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। এছাড়া শ্রমিক নেতারা পদযাত্রা কর্মসূচিও পালন করেছেন। এরপরও আমাদের সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না। নেতারা আছে শুধু টাকা খাওয়ার ধান্দা নিয়ে। তাদের কি আমাদের কষ্ট দেখার সময় আছে?’

হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘হবিগঞ্জ-ইকরাম সড়কটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিওএম মেটেরিয়াল মেইনটেন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটারের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। রাস্তাটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিপাতের কারণে কাজটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে ঠিকাদার পুরোদমে কাজ শুরু করবেন।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, সড়কের একাংশের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। বাকি অংশের কাজও দ্রুত শুরু হবে।

কাজল/খাদিজা রুমি/

মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল মেঘনা নদীর কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সকাল থেকেই হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আসা যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে নদীতে তীব্র ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো ফেরি, সি-ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী ট্রলার ঘাট ছেড়ে যেতে পারেনি।

ফেরি মহানন্দা-এর মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন জানান, উপকূলীয় এলাকায় ৩নং স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকায় প্রশাসনের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।।

হাতিয়া উপকূলীয় নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌরুটে চলাচলকারী সব সরকারি নৌযানসহ অন্যান্য নৌযানের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হানিফ সাকিব/খাদিজা রুমি/

পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম
পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় টমটমের (ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক) ধাক্কায় মো. মাছন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেনের বড় ভাই। 

শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভোলাইয়াঘোনা এলাকার রাস্তার মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার জানায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি টমটম মো. মাছনকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

নিহতের ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এর আগেও এই স্থানটিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে একটি স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ আমার ভাইকে এভাবে প্রাণ হারাতে হলো।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পেকুয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের টমটম ও অটোরিকশা চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। লাইসেন্সবিহীন এসব চালক বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি জব্দ করেছি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রকিবুল হাসান/অদিতি/ 

নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স)

নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়নের সরকারি বরাদ্দ টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব দীপক কুমার বর্মণের (প্রিন্স) বিরুদ্ধে। 

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তুষার দাস নামে এক যুবক।

জানা যায়, নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দির। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেওয়া নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল এই মন্দিরের নামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শীতলাবাড়ি মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীপক কুমার বর্মনকে সভাপতি, সঞ্জয় ধরকে সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিশান দাস পার্থ, সজয় দাস ও তুষার দাসকে সদস্য করে ৫ সদস্যের কমিটি দাখিল করা হয়। 

পরবর্তীতে গত ৫ এপ্রিল নরসিংদী পৌর প্রশাসক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এই কমিটির অনুমোদনও দেওয়া হয়। পরে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দীপক কুমার বর্মনের নামে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার চেক ইস্যু হয়। পরে গত ১১ মে চেকটি নিয়ে নিজ ব্যাংক হিসেবে জমা দিয়ে টাকা আর মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির এই নেতা মন্দিরের নামে বরাদ্দ পুরো অর্থই আত্মসাৎ করেছেন। নিজের বানানো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে নিজের আত্মীয়-স্বজনসহ কমিটি করে নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতিও করেছেন তিনি।

চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের পরও সুশীল চন্দ্র দাস ও অখিল দাসসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে বরাদ্দের টাকা পাওয়া যায়নি বলে অস্বীকার করেন দীপক।

মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় হতবাক মন্দির কমিটিসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

অভিযোগের বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক অখিল দাস জানান, মন্দিরের উন্নয়ন কাজের জন্য নরসিংদী পৌরসভায় অনুদানের আবেদন করেছিলেন, তবে এ পর্যন্ত মন্দিরের নামে কোনো সরকারি অর্থ তারা পাননি।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগকারী তুষার দাস বলেন, ‘অভিযুক্ত দীপক কুমার বর্মন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবিত ফর্মে আমাকে না জানিয়ে আমার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। এমনকি আমার স্বাক্ষরও জাল করে উক্ত ফর্মে আবেদন করে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। এমনকি টাকা উত্তোলনের পর প্রিন্স মন্দিরে কোনো টাকাও জমা দেননি। যদি টাকা জমা দিত তবে স্বাক্ষর জাল বা আমাকে না জানানোও কোনো সমস্যা ছিল না।’

‘তবে টাকা যেহেতু আত্মসাৎ করেছে, সে ক্ষেত্রে আমি এর বিচার চাই’ বলেন তুষার দাস।

পাশাপাশি জনস্বার্থে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা, আত্মসাৎ করা সরকারি টাকা উদ্ধার করে মন্দিরের তহবিলে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দীপক কুমার বর্মণ সাংবাদিকদের  বলেন, ’বরাদ্ধের টাকার কথা মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস জানেন। আপনার কোনো কিছু জানতে হলে ওনার সাথে যোগাযোগ করেন।’

মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, কে বা কারা আমাদের মন্দিরের বরাদ্ধকৃত টাকা স্বাক্ষর করে নিয়ে এসেছে। তবে এখনো আমরা কোনো অনুদানের টাকা পাইনি।’

মন্দিরের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিন্দনীয় উল্লেখ করে জেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ বলেন, ‘মসজিদ-মন্দিরসহ উপাসনালয়গুলোতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। মন্দিরে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির নামে চেক ইস্যু করা। পরে তিনি নিজের ব্যাংক হিসেবে চেক জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করবেন। তবে টাকা পাওয়ার পর কবে মন্দির কমিটিকে বুঝিয়ে দেবেন বা নেবেন এটা ওনাদের ব্যাপার।’

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

শাওন শাহিন/খাদিজা রুমি/