১৪ লাখ ২৩ হাজার কেজি চা বিক্রির প্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন মৌসুমের (২০২৪-২৫) প্রথম চায়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি চায়ের সর্বোচ্চ দাম উঠে ৮৫০ টাকা। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের চা বোর্ডের নিলাম হাউসে সকাল ৮টায় ‘প্রথম নিলাম’ শুরু হয়। চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্রথম নিলাম হিসাবে চায়ের গড় দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকারও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। আগামী ৬ মে অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রামের দ্বিতীয় চা নিলামে ২১ হাজার ৩৭৪ বস্তায় সর্বমোট ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬২ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করবে চা উৎপাদকরা।
নিলাম হাউস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের প্রথম নিলামে সর্বমোট ২৮ হাজার ৫২৫ বস্তায় ১৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৯৭ দশমিক ৫ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করে দেশের ১৬৮টি বাগান। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৬৮৫ বস্তায় ১১ লাখ ৮১ হাজার ৮৮১ কেজি দানাদার চা এবং ৪ হাজার ৮৪০ বস্তায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫১৬ কেজি গুঁড়ো চা নিলামে তোলা হয়।
ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে জানা গেছে, মধুপুর বাগানের জিওবিপি গ্রেডের চা ৮৫০ টাকা কেজি দরে (১০ বস্তা) কিনে নেয় মেসার্স মোল্লা টি কোম্পানি। আবার কাজী অ্যান্ড কাজী বাগানের অর্থড চায়ের ৫ বস্তার একটি প্যাকেজ কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকা দরে কিনে নেয় জিটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া লস্করপুর বাগানের একটি প্যাকেজ (জিবিওপি-১০ বস্তা) চা ৪০৩ টাকা কেজি দরে, গাজীপুর চা বাগানের (ওএফ-১০ বস্তা) ৩৫০ টাকা কেজি দরে, রুথনা বাগানের ১০ বস্তা জিওএফ গ্রেডের চা ৪১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া মধুপুর বাগানের আরডি গ্রেডের ১০ বস্তা চা ৪১৯ টাকা কেজি দরে, মধুপুর বাগানের ডি গ্রেডের ১০ বস্তা চা ৪১৪ টাকা দরে এবং লস্করপুর বাগানের সিডি গ্রেডের ১০ বস্তা চা ৪১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিটিএবি) সূত্রে জানা গেছে, এবারই প্রথম চা নিলামের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেঁধে দেওয়া দামে লেনদেন হয়েছে চায়ের।
২০১৯ সাল থেকে চায়ের দাম ক্রমাগত কমতে থাকায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চায়ের ন্যূনতম ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয় চা বোর্ড। শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ গ্রেডের চায়ের দাম কেজিপ্রতি ন্যূনতম ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের চায়ের ন্যূনতম দাম ধরা হয়েছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা। যদিও এবারের চট্টগ্রামের প্রথম নিলামে ১৬০ টাকার কাছাকাছি দাম নামলেও সর্বোচ্চ দামের প্রায় তিনগুণ বেশি দামে চা বিক্রি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ববাংলা ব্রোকার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমানত হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামের প্রথম নিলামে ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। লোকসান এড়িয়ে ভালোভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে সে জন্য নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চা বোর্ড। প্রথম নিলামের মতো আগামী নিলামগুলোও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে আশা করছি।
প্রসঙ্গত, দেশে চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৮০ হাজার কেজি। ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২০ হাজার কেজি লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি।
এমএ/