৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে অনেক অপকর্ম করেছেন বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে উপজেলাজুড়ে দল ও দলে বাইরে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
গত সোমবার বিকেলে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমানের ঘোড়া মার্কার সমর্থনে আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে তিনি এ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। এ সময় তার পাশে চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, প্রচার সম্পাদক প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামী বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন ভিপি, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আবু সুফিয়ান বিপ্লব, খইয়্যাছড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী যুগ্ম সম্পাদক এস এম আবুল হোসেন, হিঙ্গুলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইফতেখার উদ্দিন পিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা কালু কুমার দে, নুরুল আলমসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আর সামনে ছিল বিশাল কর্মী বহর। উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ইভা কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে ওই কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ভাইরাল ওই বক্তব্যে জাহাঙ্গীর ভূঁইয়াকে বলতে দেখা যায়, বক্তব্য অনেক দীর্ঘ হয়েছে। আমি কোনো বক্তব্য রাখব না। শুধু আপনাদের একটা কথাই বলব। আমরা গত ৭ জানুয়ারি জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী, আমাদের প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের (সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী) সুযোগ্য সন্তান মাহবুব উর রহমান রুহেলকে জেতানোর জন্য আমরা অনেক... অপকর্ম করেছি। আমরা আগামী ৮ তারিখ কোনো অপকর্ম ছাড়া ভোটকেন্দ্র খোলা রাখব। আমাদের অনেক প্রার্থী বলেছেন আপনি ভোট কেন্দ্রে আসবেন, যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। যদি কেউ ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার পাঁয়তারা করে, একজনে একাধিক ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে কবরস্থানের মুর্দাদের ভোট দিতে যায়, আমরা তৎক্ষণাৎ ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে সেখানে বিক্ষোভ করব। আমরা কোনো অবস্থাতেই আর কোনো অপকর্ম চাই না। আজকে ভোট নিয়ে এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, বিএনপি ভোট কেন্দ্রে যায় না।
তার এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বক্তব্যটি নিয়ে চারদিকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বলছেন নানা কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নেতা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ বলছেন, বর্তমান সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল উপজেলা নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নেতা করেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদককে এনায়েত হোসেন নয়নকে সমর্থন দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে মিরসরাই (চট্টগ্রাম-১) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল বলেন, ‘এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। ৭ জানুয়ারি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। কোনো অপকর্ম হলে তাকে প্রমাণ দিতে হবে। কোথায় করেছে, কী অপকর্ম করেছে সেটা প্রমাণ করতে হবে। একটা ফাউ কথা বললে তো হবে না। এখন সবাই ভাইরাল হতে চায়। এই ভাইরাল হওয়ার জন্য লাগামছাড়া কথা বলে এখন ভাইরাল হলো। এখন সেটা নিয়ে স্ট্যান্টবাজি করছে। আমার মনে হয়, এগুলো না করাই ভালো। দায়িত্বশীল মানুষের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করাই উচিত। আর সে যদি বলে অপকর্ম করেছে এবং সে যদি এটা করে থাকে তাহলে সেটা তারই দোষ! তাকে তো অপকর্ম করার জন্য কেউ বলেনি। আমি তো তাকে অপকর্ম করতে বলিনি। আর সে যদি অপকর্ম করে থাকে সাংগঠনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।