ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দুই দিন ধরে পড়ে আছে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ। হাসপাতালে ভর্তি দুই বছরের শিশু অনবরত কেঁদেই চলছে। তাদের কারও পরিচয় মেলেনি এখনো।
শনিবার (১১ মে) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি অনবরত কাঁদছে। কোলে নিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন রাসেল নামের এক ব্যক্তি।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও রাসেলসহ তার স্বজনরা মিলে দেখাশোনা করছেন শিশুটির।
রাসেল জানান, গরম পানিতে পুড়ে যাওয়া তার শিশুকে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে এই ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার পর জানতে পারেন অজ্ঞাত পরিচয় এক শিশু এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারপর থেকে তিনি খেয়াল রাখছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিচয় জানতে চেয়ে পোস্ট করেছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোররাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞাত এক নারী ও শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে আসে কয়েকজন ব্যক্তি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে পরদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। নাম-পরিচয় না পাওয়ায় মরদেহ রাখা হয় হাসপাতালের মর্গে। এদিকে শিশুটি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মাথায় এবং হাতে আঘাত রয়েছে।
শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারজানা কাওছার বলেন, শিশুটির মাথায় আঘাত থাকলেও, বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। হাতে হালকা ইনজুরি আছে। তবে পাশে বাবা-মা না থাকায় শিশুটি অনবরত কাঁদছে।
ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, আমি শিশুর ছবিটি ফেসবুকে দেখেছি। বৃহস্পতিবার (৯ মে) রাত তিনটার দিকে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ওই শিশু ও তার মা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে, কীভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যায়নি। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য তার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে আগারগাঁও নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, শিশুটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা তার দেখাশোনা করছি। পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা ও শিশুটির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/ইসরাত চৈতী/অমিয়/