চট্টগ্রাম নগরের কাঠগড় এলাকায় সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএপিএল), ওসিএল ও ইস্পাহানি নামে ডিপোতে অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। কাজে ফিরেছেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা। গত বুধবার বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান।
এ সময় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশন ও চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা, এসএপিএল ডিপো কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বুধবার দৈনিক খবরের কাগজের শেষ পাতায় ‘চট্টগ্রামে কর্মচারীদের মারামারিতে ৩ ডিপোর কাজ বন্ধ: ২৫০০ পণ্যবাহী গাড়ি আটকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
সূত্র জানায়, বুধবার বিকাল ৫টা থেকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। বৈঠকে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মপরিবেশ সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখা এবং গত কয়েক দিন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের কাজ বন্ধ থাকায় যতগুলো রপ্তানি কাগজপত্র আটকে গেছে, সেগুলোর দ্রুত যাচাই করে শিপমেন্ট প্রক্রিয়া গতিশীল করার নির্দেশনা দেন কাস্টমস কমিশনার।
চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘ডিপো কর্তৃপক্ষ যে ভুল করেছে, সেটা তারা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি ডিপো কর্তৃপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, সেটা প্রত্যাহার করে নেবেন। আমাদের একটা দাবি ছিল, যে কাজ ৩০ মিনিটে হবে সেটা তিন ঘণ্টা বা তিন দিন ঘোরানোর কোনো মানে হয় না। কাস্টমস কমিশনারকে আমরা কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বলেছি। সব সমস্যা সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে। আমরাও কাজে যোগ দিয়েছি।’
সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহিনুর হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিকালে একটা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব সমস্যার সমাধান হয়েছে। আমরাও চাই না এমন পরিস্থিতি আবার তৈরি হোক। গত ২১ ও ২২ মে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা রপ্তানি কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় অনেক পণ্যবাহী কনটেইনার আটকা পড়েছিল। আমাদের এমনিতেই কাজের চাপ বেশি। তার ওপর সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা দুইদিন কাজ না করায় অনেক পণ্যের যথাসময়ে শিপমেন্ট হয়নি। আশা করছি, সপ্তাহখানেকের মধ্যে এটা সমাধান হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ডিপোতে যে সমস্যা হয়েছিল সেটার সমাধান হয়েছে। আমাদের যে পণ্যগুলোর শিপমেন্ট বিলম্ব হওয়ার ভয় ছিল, সেটা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। আমাদের পোশাকপণ্য রপ্তানিতে গতি ফিরেছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। আমরা আশা করি, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’