চট্টগ্রামে শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা অতি ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানির প্রভাবে বন্দরনগরীর বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৪৮ ঘন্টায় ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে মারাত্মক পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টির সঙ্গে সাগরের জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর, বড়পোল, কমার্স কলেজ এলাকা এবং পতেঙ্গা ও কুয়াইশের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত কোথাও গোড়ালি, আবার কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার বহু বাসাবাড়ি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে জলাবদ্ধ পরিস্থিতি পরিদর্শনে নামেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানায়, নালা ও খালগুলো পরিষ্কার রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চললেও বৃষ্টির তীব্রতা এবং জোয়ারের কারণে পানি নামতে কিছুটা সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।
ভোগান্তিতে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ। সকাল থেকেই সড়কে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী, পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় রিকশা ও গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে পায়ে হেঁটে কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৪৮ ঘন্টায় ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহাল রয়েছে।

প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আকবরশাহ ঝিল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মতিঝরনা এবং লালখান বাজার পোড়া কলোনিসহ ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নেতৃত্বে গঠিত ৬টি বিশেষ টিম সকাল থেকেই উদ্ধার ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের জন্য স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রিফাত/