ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আরও ভালো করতে পারতাম: ডেম্বেলে একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির আগ্রহ নরওয়ে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়? এ মাসেই ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ তুলে ধরলেন মুখপাত্র চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র ভারতে ভারী বর্ষণে ১০ জনের মৃত্যু চট্টগ্রাম বোর্ডে শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ফ্রান্সে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত ৪ চুয়াডাঙ্গায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার কোটি কোটি নতুন সমর্থকই বেলজিয়ামের প্রেরণা: গার্সিয়া তিস্তার 'ক্রেডিট' নিতে জামায়াতের আন্দোলন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভেজা বাতাস চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ কালো মেঘ শাদা মেঘ কুমিল্লায় সংস্কৃতি মন্ত্রী: প্রস্তুতি শেষ, শিগগিরই চালু হচ্ছে জুলাই জাদুঘর বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, সড়ক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার শ্রাবণের চিঠি জলছবি কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আরোহী মৃত্যু, স্ত্রী আহত আদি বৃষ্টি সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করত না বলেই আ.লীগের পতন: আব্দুস সালাম

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৫, ১০:৪৮ পিএম
আপডেট: ১২ মে ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম
শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করত না বলেই আ.লীগের পতন: আব্দুস সালাম
রাজশাহী নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকায় কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে আব্দুস সালাম। ছবি: খবরের কাগজ

শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করত না বলেই আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

সোমবার (১২ মে) বিকেলে রাজশাহী নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকায় কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে। জনগণের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপি এটা বারবার প্রমাণ করেছে। কারণ বিএনপির জন্মই হয়েছিল এই দেশের মানুষের প্রয়োজনে। বিএনপি লড়াই সংগ্রাম করেছে, সংকটে-সংগ্রামে জনগণের পাশে ছিল বলেই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি। এই বিএনপিকে ধ্বংস এবং খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে মেরে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু পারেনাই।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির এমন কোনো নেতা-কর্মী নাই যাদের ওপর অত্যাচার করা হয় নাই, জেলে ভরা হয় নাই। বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী আছেন যাদের এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় নাই। তারপরও ৫ আগস্টে শেখ হাসিনাকে বিদায় করার পরে এখনো বিএনপি ধৈর্য্য ধরে বসে আছে। যে বিএনপি আজকের সম্মেলন করছে মুক্ত পরিবেশে, ওপেন মঞ্চে, অনেকে বিএনপিকে বিভিন্নভাবে সমালোচনা করেন, বিএনপি নাকি গণতন্ত্রই চায় না। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। এটা কি গণতন্ত্র ধ্বংস? না যারা বলেন, নির্বাচন দরকার নাই, তারা কি গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন? তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে তা বলতে পারতো না। শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না বলেই আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। এরকম পতন ১৯৭৫ সালেও হয়েছিল।

বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, এইবার আওয়ামী লীগের নির্মমভাবে পতন ঘটেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ৫ আগস্টেই হয়ে গেছে। জনগণের ভয়ে পিছনের দরজা দিয়ে হাসিনা পালিয়ে গেছেন। তবে শেখ হাসিনা পালালেও এখনো বাংলাদেশের ক্ষমতায় আছে তার দোসররা। বর্তমান সরকার তাদের বিরুদ্ধে এখনো পদক্ষেপ নিতে পারেনাই। ৫ আগস্ট এর পরে তারেক রহমান একবার আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার যদি হুকুম দিতেন তাহলে বাংলাদেশের রক্তের হোলি খেলা হতো। তিনি তা না করে সবাইকে ধর্য্যধারণ করার আহ্বান জানান। কারণ বিএনপি গনতন্ত্রে বিশ্বাস করে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে রাজাকার বলতেও ছাড় দেয়নাই খুনি হাসিনা ও তার দলের নেতারা। বেগম জিয়াকে নিয়ে নানা কটুক্তি করতেন হাসিনা ও দোসররা। তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেয়নি। কারণ তারেক রহমানকে ভয় পেতেন খুনি হাসিনা। সে সময়েও দেশে হাসিনা নির্বাচন দিতে ভয় পেতেন। এখনো সেই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় বিএনপির সঙ্গে জনগণ রয়েছে। ক্ষমতা বা পদ কারোই চিরদিন স্থায়ী হয়না। তরুণদের পদ ছেড়ে দিতে হবে, যারা সিনিয়র তাদের আরও উপরে যেতে হবে।

সম্মেলনে নবনির্বাচিত সভাপতি মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মজিউল আহসান হিমেলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, সদস্য সচিব মামুন-অর-রশিদ মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম সরকার, শফিকুল ইসলাম শাফিক ও বজলুল হক মন্টু।

এসময় নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রোজিনা ও রিতা, বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপি সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, চন্দ্রিমা থানার থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাহিজুল হক ফাহি, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম জনি, বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুজ্জামান মহন, মতিহার থানা বিএনপির সদস্য সচিব আল-মামুন বাবু, নগর যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন ও সিনিয়ির যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এনায়েত করিম/মাহফুজ

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

চারপাশে বন্যার পানিতে ঘেরা নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চকরিয়ার বরইতলী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, “জীবনে এমন বন্যা দেখিনি। ভোরের আগে হঠাৎ পানি ঘরে ঢুকে পড়ে। কিছুই সরানোর সুযোগ পাইনি। বিছানা, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, রান্নার জিনিসপত্র সব নষ্ট হয়ে গেছে। দুই দিন ধরে রান্না করতে পারিনি। রান্নাঘর পানির নিচে। অসুস্থ বৃদ্ধ মাকে হাসপাতালে নিতে পারছি না, কারণ সব সড়ক ডুবে গেছে।”

একই চিত্র পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের বিধবা হালিমা বেগমের জীবনেও। তিন সন্তানকে নিয়ে দুই রাত ধরে প্রতিবেশীর উঁচু বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

হালিমা বলেন, “প্রাণে বেঁচে গেছি, কিন্তু ঘরের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটছে। বাচ্চারা বারবার জানতে চায় কবে বাড়ি ফিরব, কিন্তু আমার কাছে কোনো উত্তর নেই।”

মাতামুহুরী উপজেলার আবদুল জলিল বলেন, “চারদিকে শুধু পানি আর পানি। বাজারে যেতে পারছি না, হাসপাতালে যেতে পারছি না, আত্মীয়ের বাড়িতেও যেতে পারছি না। জীবনে এমন দুর্ভোগ দেখিনি।”

চকরিয়া পৌরসভার বাঁশঘাটা গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, “মাতামুহুরী নদীতে আমার শত বছরের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজারও কোনো ঠাঁই নেই।”

এমন অসংখ্য পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলার ১০ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আক্রান্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও।

শত শত বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা।

পেকুয়ার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন মাছের ঘের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।

পেকুয়ার বামুলাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “শুধু সন্তানদের বাঁচাতে পেরেছি। সবকিছু পানির নিচে। খাবারও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু ত্রাণের অপেক্ষায় আছি।”

নূরজাহান বেগম বলেন, “রান্না করতে পারছি না, বিশুদ্ধ পানির সংকট। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শুধু চাই পানি নেমে যাক।”

চকরিয়ার কাকারা, ফাঁসিয়াখালী, লক্ষ্মীছড়া, করাইয়াঘোনা, বোমুবিলছড়ি এবং পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডেও পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যার পানিতে চকরিয়া সরকারি কলেজও প্লাবিত হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, দুই উপজেলায় এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৬০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, গত দুই দিনে দুই উপজেলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে দুইজন এবং বন্যার পানিতে ভেসে দুইজন মারা গেছেন। এছাড়া শুক্রবার চকরিয়ার বরইতলী এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ ও ২৭-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী সচিব খানজাদা শাহরিয়ার জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা ১০০টি রোহিঙ্গা পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, বাজারঘাটা, তারাবনিয়ার ছড়া, আলীর জাহাল ও বাস টার্মিনাল এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অল্প বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পেও। টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। সৈকতকেন্দ্রিক শত শত দোকান, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা সীমিত আকারে চলছে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট মালিক পর্যন্ত সবাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মেরিন ড্রাইভ-কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, টানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। গত চার দিনে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৬০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে অবস্থানরত প্রায় ১০ হাজার পর্যটকের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, গত চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে। তার দাবি, মাত্র চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

উত্তাল সাগরের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে টানা সপ্তম দিনের মতো সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে কক্সবাজার-মহেশখালী ও পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌরুটেও চলাচল বন্ধ থাকায় হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমায় পানি নামতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় সব লার্নিং সেন্টার, মক্তব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পৃথক পাহাড়ধসে অন্তত ১৩ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে আরও দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

তারেকুর রহমান/এসএন

চুয়াডাঙ্গায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গায় ৬ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে- এতে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৬ এই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

অবিরাম বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতায় মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। অনেক ফসলি মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে এবং পুকুর ও জলাশয়ের মাছ পানির স্রোতে ভেসে বাইরে চলে গেছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ভারী বৃষ্টিতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।

দুপুর ২টার পর বৃষ্টিপাত না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করে। তবে অনেক নিচু এলাকায় তখনও পানি জমে ছিল।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পরিদর্শক জামিনুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘শুক্রবার রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি অতি ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও জেলার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।’

মিজানুর রহমান/থিওটোনিয়াস

সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলপোতা গ্রাম থেকে নিখোঁজের ২ দিন পর আব্দুর রহমান (১৪) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে নিহতের বসতঘরের পেছনে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। 

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) থেকে আব্দুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে এ ঘটনায় তার পরিবার সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

নিহত আব্দুর রহমান শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে তার পরিবারের সঙ্গে সরকারি আবাসন প্রকল্পে বসবাস করতেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। 

নাজমুল জাকির/খাদিজা রুমি

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, সড়ক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, সড়ক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের পর বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে পানি কমে গেলেও উন্নতি হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, ক্যাচিংঘাটা, নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুপুর পর্যন্ত ৩ ফুট পানি কমে গেছে। তবে এখনও জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এ দিকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক গত দুই দিন বিচ্ছিন্ন থাকলেও, সকাল থেকে পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় অল্প সংখ্যাক ছোট যানবাহন চলাচল করছে। তবে রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এ ছাড়াও জেলার ৭টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়ে ও সড়কে পাহাড় ধসে অনেক উপজেলার সড়কে যান চলাচল এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম। উপজেলায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

অন্য দিকে জেলার লামা-আলীকদম সড়কের শীবাতলী, রেপারপাড়া, পশ্চিম শীলের তুয়া এলাকায় সড়কের উপর পানি থাকায় সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন আছে।

আলীকদমের বাসিন্দা সুজন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, বন্যায় প্লাবিত হওয়ার কারনে গত ৩দিন ধরে লামা-আলীকদমের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

গত কয়েকদিন ধরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশংকায় স্থানীয়দের নিরাপদে আশ্রয় নিতে জেলার ৭টি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ২ হাজার ১৭৩ জন এবং বেসরকারি হিসাবে অন্তত ৭ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ছাড়াও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এবং পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক জানান, আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্নাকরা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, মশার কয়েল প্রদান করা হচ্ছে।

রিজভী রাহাত/থিওটোনিয়াস/

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার
প্রত্যাহারকৃত ওসি শফিকুল ইসলাম খান/ খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে তাকে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক স্বাক্ষরিত এক আদেশে কোম্পানীগঞ্জের ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এখনো নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু ও পাথর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়ের অভিযোগে কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল উঠে।

এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘সফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তামান্না রুপা/