মৌলভীবাজার সদরের গিয়াসনগর ইউনিয়নের মাড়কোনা থেকে মোকামবাজার পর্যন্ত সড়কটি একসময় ছিল যানবাহন চলাচলের জন্য খোলা ও নিরবচ্ছিন্ন পথ। কিন্তু এখন তার চিত্র ভিন্ন। সড়কের দুই পাশে একের পর এক গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান, নির্মাণ সামগ্রীর স্তুপ এবং বসতঘরের বাড়তি অংশ। কোথাও বসেছে খোলা বাজার, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে ছোটখাটো স্টল। ফলে সড়কের প্রস্থ অনেকটাই কমে গেছে। অথচ বিষয়টি সবার চোখের সামনে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রশস্থ কমে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, আর সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে বসতবাড়ির অংশ বাড়িয়ে নির্মাণ করায় পথ আরও সরু হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় ফুটপাত পর্যন্ত নেই, ফলে পথচারীদের হাঁটতে হয় সড়কের মাঝ দিয়ে, যা সরাসরি জীবনের ঝুঁকি ডেকে আনছে। বাজারের দিনগুলোতে ভিড় বেড়ে গেলে যানবাহন চলতে গিয়ে একে অন্যের গায়ে লেগে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে। মাঝে মাঝেই ঘটে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
ছবি: খবরের কাগজ
সড়কটি এলজিইডির সম্পত্তি হলেও কার্যত প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব অবৈধ স্থাপনা দিনে দিনে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আশপাশের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাড়কোনা–মোকামবাজার সড়কের দুই পাশের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, নির্মাণ সামগ্রী সরানো ও সড়কের পাশে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গ্রহণ করে সবার জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।
রিকশাচালক কাদির মিয়া বলেন, এই রাস্তায় যখন যাত্রী নিয়ে যাই, বের হতে ঘণ্টা পার হয়ে যায়। দোকান, মালপত্র, মানুষ সব মিলেমিশে রাস্তাই খুঁজে পাই না।
স্কুল ছাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, অনেক সময় রাস্তায় এমন ভিড় হয় যে হেঁটেও এগুনো যায় না। মেয়েদের চলাচলেও সমস্যা হয়।
এক স্কুলছাত্রীর মা বললেন, মেয়েটাকে স্কুলে নিতে গেলে সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। প্রতিদিন ভয় লাগে যেন কোনো গাড়ি চাপা না দেয়। যানজট আর দোকানদারদের দখলে রাস্তা ছোট হয়ে গেছে। এটা যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সালেহ আহমদ বলেন, সড়কটা দখল হয়ে এমন সংকুচিত হয়ে গেছে যে হেঁটে চলাও কষ্টকর। দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় থাকে।
গিয়াসনগর ইউনিয়নের পরিষদের মেম্বার মো. সুহেব আহমদ বলেন, আমি কয়েকদিন আগে কাগজ অনুযায়ী সড়কটি মেপে দেখেছি ৩০ ফুট প্রশস্ত থাকার কথা এই জায়গায় এখন রাস্তা এতটুকু প্রশস্ত নয়। অনেক জায়গা বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। বিশেষ করে বাজার এলাকার অবস্থা খারাপ। একদিকে সড়ক দখল হয়েছে অপরদিকে সড়ক ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন বলেন, এই বিষয়টি আমি অবগত হলাম। যত দ্রুত সম্ভব এটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পুলক পুরকায়স্থ/মাহফুজ