ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশ ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে! গত এক মাসে এই সড়কের কয়েকটি অংশে ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৮ জন। এমন পরিস্থিতির জন্য অদক্ষ চালক, আগে পৌঁছানোর প্রবণতা ও ট্রাফিক নির্দেশনা উপেক্ষা করাকে সংশ্লিষ্টরা দায়ী করেছেন। বিশেষ করে উৎসবের সময় গাড়ির চাপ বাড়লে রীতিমতো নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দাউদকান্দির বিভিন্ন মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর-মতলব রুটের চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক এবং উপজেলার ব্যস্ত সংযোগ সড়কগুলোতে।
চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশে দাউদকান্দির এস আলম কাউন্টারে অপেক্ষমাণ ছিলেন মহাসিন আহমেদ। এই পথে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক চালককে মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় বাস চালাতে দেখা যায়। কোনো কোনো চালক আবার সহকারীর সঙ্গে গল্প করেন। আমরা যাত্রীরা তখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি।’ সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর মনিটরিংয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে মত দেন তিনি।
সুমনা ইসলাম নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘পরিবার নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় মহাসড়কের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।’ তিনি মনে করেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু পুলিশের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়–এক্ষেত্রে চালক, মালিক, যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন।
স্থানীয় হাসানপুর শহীদ নজরুল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তানফিয়া ইসলাম তানিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যাওয়া-আসায় আমাদের মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়। তখন দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকি। কিছুদিন আগেই হাসানপুরে ট্রাক উল্টে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন।’
সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অনেক চালক প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালান, যেন আগে পৌঁছানোই তাদের মূল লক্ষ্য। যাত্রীদের জীবনের মূল্য অনেক সময় তাদের বিবেচনায় থাকে না। রাতের বেলায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি। নইলে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।’
এ বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চালক ও যাত্রীদের সচেতন করতেও প্রচার চালানো হচ্ছে।’


