ফরিদপুরে শিশু আইরিন আক্তারকে (৭) ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর গুম করার ঘটনায় ইসরাফিল মৃধা (২৪), নাসিমা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে শেখ আমিনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা সেবন করে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে মূল অভিযুক্ত ইসরাফিল মৃধা। এ ঘটনায় মরদেহ গুম করার অপরাধে প্রতিবেশী নাসিমা বেগম ও তার ছেলে শেখ আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত শিশু আইরিন আক্তার ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের বাঁকা বিশ্বাসের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আজমীর হোসেন জানান, শিশু আইরিন গত ২৪ এপ্রিল রাতে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা।
নিখোঁজের ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাড়ির অদূরে রেললাইন সংলগ্ন একটি কলাবাগান থেকে আইরিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তে নেমে প্রতিবেশী যুবক ইসরাফিল মৃধাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন আইরিনকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে আশ্রায়ণ কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায় ইসরাফিল। সেখানে তিনি ইয়াবা সেবন করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে আইরিন বিষয়টি তার মাকে বলে দেওয়ার কথা জানালে ইসরাফিল তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মরদেহটি প্রতিবেশী নাসিমা বেগমের বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
হত্যার চার দিন পর গত মঙ্গলবার নাসিমা বেগম টয়লেটে গেলে দুর্গন্ধ পান। একপর্যায়ে তিনি সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মরদেহটি দেখতে পান। কিন্তু বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে নাসিমা ও তার ছেলে শেখ আমিন প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে মরদেহটি রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে আসেন।
পরে বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা কলাবাগান পরিষ্কার করতে গিয়ে প্লাস্টিকের ড্রামটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইরিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ইসরাফিলের পাশাপাশি মরদেহ গুমের অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলেকেও গ্রেপ্তার করে। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইরিনের পরা প্যান্ট, স্যান্ডেল, মরদেহ বহনের প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নাঈম/