এখনো রাজধানীর অধিকাংশ দোকানে সয়াবিন তেল সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর চার দিন পরই শুরু হচ্ছে রোজা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া গেলেও ৫ লিটারের তেল পাওয়া যায় না। আবার ৫ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও ১ ও ২ লিটারের তেল পাওয়া যায় না। সংকট কাটছে না। কয়েক দিনের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে ডিমের দাম ডজনে কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। বাড়েনি বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচের দাম। গতকাল বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ভোজ্যতেলের সংকট শুরু হলে সরকার গত ৯ ডিসেম্বর লিটারে দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত তেলে ১৭৫ টাকা, খোলা ১৫৭ টাকা নির্ধারণ করে। তার পরও বাজারে সয়াবিন তেল সহজলভ্য নয়। ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি জানায়, প্রচুর তেল আমদানি হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়বে। কোনো সংকট হবে না।
হাতিরপুল বাজারের মোজাম্মেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মোজাম্মেল হক, মাসুদ স্টোরের মারুফ হোসেনসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘৫ লিটারের তেল পেলে ১ ও ২ লিটারের পাই না। আবার ১ ও ২ লিটারের পেলে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল পাই না। এভাবে কোনো রকমে তেল পেলেও সঙ্গে আটা, সুজি, সরিষার তেল, পোলাওয়ের চাল ধরিয়ে দিচ্ছে।’
অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতাদেরও একই অভিযোগ।
বেড়েছে মুরগির দাম
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারের মুরগি বিক্রেতা কাইয়ুম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘পিকনিকসহ বিভিন্ন উৎসব চলছে। আবার সামনে রমজান। তাই চাহিদা বাড়ছে। এ জন্য দাম কমছে না। কয়েক দিন আগে ব্রয়লারের কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকা বিক্রি করা হলেও গতকাল তা ২২০ টাকায় ঠেকেছে। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা।’
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সোনালি ব্রয়লার হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. শাকিল উদ্দিন বলেন, ‘আগের চেয়ে দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২১০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা। দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসও আগের মতো ৭০০-৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা ডজন ডিম বিক্রি করা হলেও গতকাল দাম কমে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজন বিক্রি করতে দেখা গেছে।
আগের মতোই রুই, কাতলা মাছ আকারভেদে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
স্থিতিশীল সবজির দাম
গত সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু রমজান ঘনিয়ে এলেও গত তিন দিনে বাড়েনি। আগের মতো বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচা মরিচসহ অন্য সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। সবজি বিক্রেতারা বলেন, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ৪০, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, গাজর ৪০ থেকে ৫০, ফুলকপির পিস ২০ থেকে ৩০, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউয়ের পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। তবে লেবুর দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকা হালি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০, দেশি আদা ১৬০ থেকে ১৮০, আমদানি করা আদা ২২০, দেশি রসুন ১৬০, আমদানি করা রসুন ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কমেনি চালের দাম
আগের মতোই চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেটসহ অন্য চাল। হাতিরপুল বাজারের মাসুম স্টোরের মাসুম পাটোয়ারী বলেন, ‘চালের দাম কমেনি। আগের মতোই মিনিকেটের কেজি ৭২-৮৫ টাকা, আটাশ চাল ৬২-৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫৪-৫৬ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্য খুচরা বিক্রেতারা বলেন, রোজা ঘনিয়ে এলেও বাড়েনি ছোলা ও চিনির দাম। খোলা সয়াবিন তেল ১৬৫ টাকা লিটার, ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি, মসুরডাল ১১০ থেকে ১৩৫, মুগডাল ১৮০, চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।