উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের নামতে হচ্ছে ভর্তিযুদ্ধে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে। আসনসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থী বেশি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনেও শর্তের বেড়াজাল। যে কারণে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনেরই সুযোগ পাবেন না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২৩ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ১৫ ডিসেম্বর। ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৪ সালের মার্চে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
প্রকৌশল গুচ্ছের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, আমরা আগামী সপ্তাহে সভা করে ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদউদ্দীন বলেন, আমরা গুচ্ছের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। শিগগির ভর্তি বিষয়ে সভা হতে পারে।
আবেদনের অযোগ্য প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী
বিগত বছরের ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মোট জিপিএর শর্তের সঙ্গে এইচএসসিতে জিপিএ নিয়ে আলাদা শর্ত থাকে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ থাকা আবশ্যক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণদের এইচএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৩.৫ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা থেকে উত্তীর্ণদের ন্যূনতম জিপিএ-৩.০০ লাগবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ -৪.০০, বিজনেস এবং মানবিকের ক্ষেত্রে জিপিএ-৩.৫০ পয়েন্ট আবশ্যক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ ও বাণিজ্য থেকে উত্তীর্ণদের ন্যূনতম-৩.৫০ এবং মানবিকে ন্যূনতম জিপিএ-৩.০০। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ইউনিটে (বিজ্ঞান) ন্যূনতম জিপিএ-৪, আর মানবিকে-৩.০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রে-৩.৫০ পেতে হবে এইচএসসি পরীক্ষায়।
অপরদিকে আটটি কৃষি গুচ্ছ ও তিনটি প্রকৌশল গুচ্ছের ভর্তির ক্ষেত্রে এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ-৪ আবশ্যক। ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৩.৫০, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রে-৩.০০ পয়েন্ট লাগবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে। মেডিকেলের ক্ষেত্রে জিপিএ আলাদা করে দেওয়া না থাকলেও মোট জিপিএ শর্ত ৯। সে হিসেবে পরীক্ষার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিকে কমপক্ষে জিপিএ-৪ লাগবে। সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক শর্তও বিদ্যমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে জিপিএ শর্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থীকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হলে তার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৩.৫ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা থেকে উত্তীর্ণদের ন্যূনতম জিপিএ-৩ থাকতে হবে।
২০২৩ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৮ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৯ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে উত্তীর্ণ হয় ৮৬ হাজার ৮৩২ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ হয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫১ জন।
এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন। জিপিএর শর্তের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ১৬ জন। বাদ পড়বেন ২৭ হাজার ১৭২ জন। মানবিকে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৯ জন। জিপিএ-৫ থেকে ন্যূনতম জিপিএ-৩ পেয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৪১ জন। ন্যূনতম জিপিএ-৩ এর কম পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৮ জন। ব্যবসা শিক্ষা থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০২ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না ৩৯ হাজার ২২৫ জন।
মাদ্রাসা বোর্ডে সাধারণ ও মুজাব্বিদ বিভাগের ১২ হাজার ৫১ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের ২৫২ জন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সব মিলিয়ে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩৮ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন (২০২১) অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে আসন সংখ্যা ৫৭ হাজার ৯৯। এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন।