সুপ্রিয় ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে আরও ৩টি ‘সংলাপ লিখন’ নিয়ে আলোচনা করা হলো।
সংলাপ: ১১। মনে করো, তোমার নাম পাভেল। তোমার দাদা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তুমি ও তোমার দাদার মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: পাভেল: আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন দাদাজান?
দাদা: ওয়ালাইকুম আসসালাম। খুব ভালো আছি, দাদুভাই। তুমি কেমন আছ?
পাভেল: বেশ ভালো। দাদাজান, আপনার কাছ থেকে আজ আমি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চাই।
দাদা: খুব ভালো। অবশ্যই তোমাকে বলব। কারণ মুক্তিযুদ্ধের ঠিক ইতিহাস তোমাদের জানতে হবে।
পাভেল: জি দাদাজান, বলুন। আমি মন দিয়ে শুনছি।
দাদা: ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবে ভর্তি হয়েছি।
পাভেল: দাদাজান, কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়?
দাদা: খুব ভালো প্রশ্ন করেছ। আমরা আজ যে স্বাধীন দেশে বাস করছি, আমাদের এই দেশ অর্থাৎ পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানিরা শাসন করত। কিন্তু তারা শাসনের নামে শোষণ করত। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকভাবে তারা আমাদের দুর্বল করে রাখত। শুধু তা-ই নয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তারা নিরীহ বাঙালির ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হত্যা করে। তাদের এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এবং বাঙালির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে বাঙালি স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশকে স্বাধীন বা মুক্ত করতে আমি ও ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করি।
পাভেল: দাদাজান, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ অনেক বেদনার, না?
দাদা: তা তো বটেই। কারণ দেশ স্বাধীন করতে অকাতরে দেশপ্রেমিকরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। হাজার হাজার মা হারিয়েছেন বুকের ধন, অসহায় মানুষ দেশ ছেড়েছে। মা-বোনেরা হারিয়েছেন তাদের সম্ভ্রম, মৃতের গলিত লাশে এদেশ শ্মশানভূমি হয়েছিল। এই দেখো, এসব কথা বলতে গিয়ে আমার গা শিউরে উঠছে।
পাভেল: দাদাজান, থাক আর বলতে হবে না।
দাদা: সত্যি সে সময় পাক শাসকের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ছিল ঘৃণ্য ও জঘন্য। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের অন্যায়ের সমুচিত জবাব দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি।
পাভেল: আপনার কথা শুনে খুব ভালো লাগল দাদা ভাই। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
দাদা: বড় হও দাদু। আরও অনেক জানতে পারবে।
সংলাপ: ১২। মনে করো, তোমার নাম তিতাস। ভবিষ্যতে তুমি কী হতে চাও, এ নিয়ে তুমি ও তোমার বাবার মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: বাবা: ভালো আছ, তিতাস? তোমার পরীক্ষার ফলাফল কী হলো?
তিতাস: বাবা, আপনি শুনে খুশি হবেন। এবারও আমি প্রথম হয়েছি।
বাবা: খুব ভালো, তা ভবিষ্যতে তুমি কী হতে চাও?
তিতাস: ভবিষ্যতে আমি একজন ভালো শিক্ষক হতে চাই।
বাবা: ভালো কথা, কিন্তু অন্য পেশা থাকতে তুমি কেন শিক্ষক হতে চাও?
তিতাস: বাবা, আমরা জানি শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষিত জাতি গড়তে দরকার একজন আদর্শ শিক্ষক যিনি দেশ ও জাতি গঠনের কারিগর। একটি শিক্ষিত জাতি দেশ ও জাতির উন্নতিকে ত্বরান্বিত করে। তাই আমার শিক্ষকতা পেশা ভালো লাগে।
বাবা: তোমার পছন্দকে আমি সমর্থন করি। তবে মনে রেখো, এ পেশায় কিন্তু অনেক ধৈর্য ও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
তিতাস: হ্যাঁ বাবা, আমি জানি। আপনার আশীর্বাদ ও সহযোগিতা পেলে আমি আমার চেষ্টা এবং সাধনা দ্বারা জয়ী হতে পারব।
সংলাপ: ১৩। ইংরেজি সারা বিশ্বে ব্যাপক ব্যবহৃত একটি ভাষা। তাই ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: ছাত্র: আসসালামু আলাইকুম, স্যার। কেমন আছেন?
শিক্ষক: ওয়ালাইকুম আসসালাম। এইতো বেশ ভালো। তুমি কেমন আছ?
ছাত্র: আমিও ভালো আছি, স্যার। আজ আমি আপনার কাছ থেকে একটি বিষয়ে জানতে চাই স্যার?
শিক্ষক: অবশ্যই। বলো কী জানতে চাও?
ছাত্র: ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব কী?
শিক্ষক: খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছ। বর্তমান বিশ্বে ইংরেজি একটি ব্যাপক ও বহুল ব্যবহৃত ভাষা। বলা যায়, বর্তমান যুগ ইংরেজির যুগ। তুমি বিশ্বের যে প্রান্তেই যেতে চাও, তোমাকে ইংরেজি জানতে হবে। ইংরেজি হলো আন্তর্জাতিক ভাষা।
ছাত্র: স্যার, তাহলে আমাদের মাতৃভাষার কী কোনো গুরুত্ব নেই?
শিক্ষক: অবশ্যই আছে। তবে তা মাতৃভাষা বাংলা ভাষাভাষীর কাছে। সারা বিশ্বে নয়। তুমি যদি বিদেশে ভালো চাকরি পেতে চাও, পড়াশোনা করতে চাও কিংবা ভ্রমণ করতে চাও, তবে তোমাকে অবশ্যই ইংরেজি জানতে হবে।
ছাত্র: তাহলে স্যার আমাদের দেশেও কি ইংরেজি ভাষা সমান গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষক: হ্যাঁ! কারণ বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। আর এ প্রযুক্তির যুগে তাল মিলিয়ে তোমাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইংরেজি জানতে হবে। তুমি ইংরেজিতে দক্ষ হলে প্রযুক্তিবিদ্যার এ যুগে সহজেই যেকোনো বিষয় আয়ত্তে আনতে সক্ষম হবে। তাই ভালো ইংরেজি জানার জন্য তুমি এখন থেকেই অনুশীলন করবে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ,রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।
কলি