প্রথম অধ্যায়: রসায়নের ধারণা
সুপ্রিয় ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের রসায়ন বিষয়ের ‘প্রথম অধ্যায়: রসায়নের ধারণা’ থেকে আরও ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন: কাঠ, কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও মোম-এর জ্বলন কোন ধরনের বিক্রিয়া?
উত্তর: উল্লিখিত বস্তুগুলো মূলত কার্বনের যৌগ দিয়ে গঠিত, যেমন: কাঠ হলো প্রধানত সেলুলোজ, প্রাকৃতিক গ্যাস হলো প্রধানত মিথেন এবং মোম হলো কার্বন ও হাইড্রোজেনের যৌগ। এগুলোতে আগুন জ্বালানোর অর্থ প্রকৃতপক্ষে কার্বন যৌগের দহন, যা এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া। ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও তাপের উৎপাদন ঘটে।
প্রশ্ন: ঔষধ সেবনের সঙ্গে রসায়নের সম্পর্ক অপরিহার্য কেন?
উত্তর: ঔষধ সেবনের সঙ্গে রসায়নের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। মানবদেহে ঔষধের ক্রিয়া নানারকম রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধিত হয়। যেমন:
i. আমরা সর্দি-কাশি ও জ্বরে সাধারণত প্যারাসিটামল নামক রাসায়নিক যৌগ ব্যবহার করি। এটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের ব্যথা ও তাপমাত্রা হ্রাস করে।
ii. রাসায়নিক যৌগ অ্যান্টাসিড প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি হ্রাস করে।
তাছাড়া হাম, পোলিও, যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি ইত্যাদি রোগের জন্য প্রস্তুতকৃত সকল অ্যান্টিবায়োটিকই রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহকে সুস্থ করে।
প্রশ্ন: জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার ক্ষতিকর কেন?
উত্তর: ফসলে বা সবজিখেতে ছিটানো কীটনাশকগুলো মূলত নানা রকম বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এসব রাসায়নিক পদার্থ ফসলে ছিটানো হলে ক্ষতিকর পোকামাকড়, কীটপতঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান অন্যান্য প্রাণীর জীবন হুমকির সম্মুখীন হয়। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এসব বিষাক্ত পদার্থ মাটি, পানি ও পরিবেশের সঙ্গে মিশে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে। রাসায়নিক কীটনাশক মিশ্রিত সবজি গ্রহণের কারণে মানবদেহে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফলে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বদহজম, চোখে জ্বালা-পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া জমিতে ছিটানো বিষাক্ত কীটনাশক বৃষ্টির পানির মাধ্যমে পুকুর, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশে বিদ্যমান প্রাণিকুলের জীবন বিপন্ন করে তুলে।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ক্ষতিকর কেন?
উত্তর: রাসায়নিক বস্তুর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে জীবজগৎ এবং পরিবেশে বিরূপ প্রভাব দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে গাছের ক্ষতি হয় বা গাছ মরে যায়। মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ সেবনে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। অতিরিক্ত সার, কীটনাশক,সাবান,ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু প্রভৃতি মাটিকে এবং নদী-নালা ও খাল-বিলের পানিকে দূষিত করছে। অতিরিক্ত মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির দহনে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়। এতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ও পরিবেশ দূষিত হয়।
প্রশ্ন: রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা
প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর কারণ তুলে ধরা হলো:
i. নতুন নতুন রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন ও ব্যবহার করা।
ii. রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের মাত্রা নির্ধারণ করা।
iii. ভবিষ্যতের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে মানুষ ও পরিবেশকে রক্ষা করা।
iv. ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের প্রভাব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন।
প্রশ্ন: বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে?
উত্তর: বিষাক্ত পদার্থকে অবশ্যই তালাবদ্ধ স্থানে সংরক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়। ব্যবহারের সময় হাতে দস্তানা, চোখে নিরাপদ চশমা ও নাকে-মুখে মাস্ক (গ্যাস হলে) ব্যবহার করতে হবে। শরীরে প্রবেশ করতে পারে এমন অবস্থা এড়িয়ে চলা উচিত। পরীক্ষার পর পরীক্ষণ মিশ্রণের পরিশোধন করতে হবে।
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
জাহ্নবী