সংলাপ লিখন
সংলাপ: ৭। মনে করো তোমার নাম নাহিদ। তোমার বন্ধুর নাম সাজ্জাদ। গ্রিনহাউস গ্যাস প্রতিক্রিয়া বর্তমানে একটি গুরুতর সমস্যা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: নাহিদ: শুভ সন্ধ্যা। কেমন আছ সাজ্জাদ?
সাজ্জাদ: তোমাকেও শুভ সন্ধ্যা। আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছ?
নাহিদ: আমিও ভালো আছি। তবে আমি একটি বিষয় নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আর তা হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রতিক্রিয়া। তুমি কি এ নিয়ে কিছু ভেবেছ?
সাজ্জাদ: অবশ্যই। ইদানীং এটি একটি বৈশ্বিক আতঙ্কের বিষয়। এটি বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। যেমন- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মরুকরণ, নিম্নভূমিতে প্লাবন, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি বৃদ্ধি পায়।
নাহিদ: বাংলাদেশেও তো এর প্রভাব মারাত্মক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বাংলাদেশের উচ্চতা কম থাকার কারণে এটির প্রভাব আরও ভয়াবহ।
সাজ্জাদ: ঠিক বলেছ। আমরা খুব ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। তবে এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। কারণ আমরা নির্বিচারে বৃক্ষনিধন করছি। ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকারক গ্যাস ব্যবহার করছি। শিল্প-কারখানার বর্জ্য পদার্থ, কালো ধোঁয়া ক্রমান্বয়ে আমাদের পরিবেশকে ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
নাহিদ: হ্যাঁ, তাই এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। সর্বোপরি জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।
আরো পড়ুন : ২টি সংলাপ লিখন ৪র্থ পর্ব
সংলাপ: ৮। মনে করো তোমার নাম সুমন। তোমার বন্ধুর নাম রাতুল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে তোমার ও তোমার বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: সুমন: শুভ সকাল, রাতুল কেমন আছ?
রাতুল: হ্যাঁ, ভালো আছি। তুমি?
সুমন: আমিও ভালো আছি। কোথায় গিয়েছিলে?
রাতুল: এই তো কলেজে গিয়েছিলাম। শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে এখন বাসার দিকে যাচ্ছি।
সুমন: আচ্ছা, আমিও কলেজে গিয়েছিলাম। আজকের দিনটি বাঙালি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমাদের উচিত এই দিনটি আরও ভাব-গাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করা। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষেরই শহিদ মিনারে গিয়ে শহিদদের সম্মানে ফুল দিয়ে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
রাতুল: তুমি ঠিকই বলেছ। আমরা আসলে এই দিনটির গুরুত্ব এবং তাৎপর্যটাকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করি না। এমনকি অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি আছেন যারা এই দিনে শহিদ মিনারে যান না।
সুমন: হ্যাঁ, এমন আছে। কিন্তু আমাদের এটা করা উচিত নয়। এ দিনটির জন্যই আজ আমরা মায়ের মুখের ভাষায় কথা বলতে পারছি। মহান এই একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে আমাদের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি পেয়েছি।
রাতুল: শুধু কী তাই? আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এ দিনটি এখন সারা বিশ্বে পালিত হয়।
সুমন: সত্যিই এ দিনটি একদিকে বেদনার, অন্যদিকে গর্বের। কারণ একদিকে ভাষাপ্রেমীদের আত্মত্যাগ, অন্যদিকে বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ।
রাতুল: আর এই বিষয়টির জন্যই আমরা বিশ্বের বুকে একটি গর্বিত জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি।
সুমন: হ্যাঁ, আমরা সত্যিই গর্বিত, কারণ আমরাই বিশ্বে একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য অকাতরে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছি। আমরা ভাষাপ্রেমী, আমরা আত্মত্যাগী জাতি, আমাদের উচিত এই চেতনাবোধটাকে জাগ্রত রাখা।
রাতুল: ঠিক আছে আজ আর নয়, পরে আবার কথা হবে, ভালো থেকো। বিদায়।
সুমন: ধন্যবাদ, তুমিও ভালো থেকো।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর