উপন্যাস : কাকতাড়ুয়া
অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ‘রাতের বেলা ওরা বাংকারে শুয়ে হাউইবাজি দেখবে’ বুধা কথাটি কেন বলেছিল?
উত্তর: বাংকারে মাইন বিস্ফোরিত হলে পাকিস্তানি সেনাদের যে অসহায় অবস্থা হবে ইঙ্গিতে সে কথাই বুঝিয়েছে বুধা।
পাকিস্তানিদের বাংকার উড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংকারে গোপনে একটি মাইন স্থাপন করে বুধা। মিলিটারিদের পায়ের চাপে সেটি বিস্ফোরিত হলেই হাউইবাজির মতো আলোর ছটা দেখা যাবে। আহত, অসহায় পাকিস্তানি সেনাদের তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। এই দৃশ্যটিই কল্পনা করেছিল বুধা।
প্রশ্ন: বুধাকে রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন?
উত্তর: বুধার সাহসিকতা ও আপাত মানসিক ভারসাম্যহীন কাজকর্মের জন্য বুধাকে রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বুধা এক অদম্য সাহসী কিশোরের নাম। দেশপ্রেমের গভীর আবেগে যেকোনো কঠিন কাজ সে অনায়াসে করে ফেলে। বয়স কম বলে তার সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর সংযোগের ব্যাপারে কারও মনে সন্দেহ জাগে না। তা ছাড়া, বুধার উদ্ভট আচরণ দেখে সবাই ভাবে বুধা বুঝি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই বুধা রেকি করতে গেলে এসব কারণে বিপদের ঝুঁকি কম। তাই বুধাকেই রেকি করার দায়িত্ব দেয় মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন।
প্রশ্ন: বুধা গ্রাম ছেড়ে পালায় না কেন?
উত্তর: শত্রুদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য বুধা গ্রাম ছেড়ে পালায় না।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা হানা দেয় বাংলার গ্রামে-গঞ্জে। তাদের আক্রমণে গ্রামের পর গ্রাম পুড়ে যায়, প্রাণ হারায় অসংখ্য মানুষ। বুধাদের গ্রামেও একইভাবে ধ্বংসলীলা চালায় হানাদাররা। জীবন বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালাতে থাকে গ্রামের মানুষ। কিন্তু হানাদারদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো না গেলে তাদের তাণ্ডব থামানো যাবে না। আর গ্রামের সবাই পালিয়ে গেলে হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে না। এ ভাবনা থেকেই বুধা গ্রাম ছেড়ে পালায় না।
আরো পড়ুন : কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের ৮টি অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর, ২য় পর্ব
প্রশ্ন: রাজাকাররা বুধার কাছে মিঠুর অবস্থান জানতে চায় কেন?
উত্তর: মিঠু মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল এবং বুধার সঙ্গে মিঠুর ভালো সম্পর্ক ছিল বলে রাজাকাররা বুধার কাছে মিঠুর খবর জানতে চায়।
মিঠু ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ। সে পালিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে ছিল রাজাকারদের শত্রু। গ্রামে বুধার সঙ্গে যে কয়েকজনের ভালো সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে মিঠু অন্যতম। এসব কারণেই মিঠু গ্রাম থেকে উধাও হয়ে গেলে বুধার কাছে তার খোঁজ চায় রাজাকাররা।
প্রশ্ন: বুধা ফুলকলিকে ‘জয় বাংলা’ বলে ডাকবে কেন?
উত্তর: ফুলকলির মাঝে মুক্তির চেতনা রয়েছে বলে বুধা সিদ্ধান্ত নেয় ফুলকলিকে সে ‘জয় বাংলা’ বলে ডাকবে।
‘জয় বাংলা’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় স্লোগান। এর দৃপ্ত উচ্চারণ বাঙালিদের মাঝে অমিত প্রেরণার সঞ্চার করত। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের বুধাও ‘জয় বাংলার’ মন্ত্রে উদ্দীপ্ত ছিল। ফুলকলি হানাদার ও রাজাকার শত্রুর বিরুদ্ধে তার অবস্থান ও সহযোগিতার কথা জানায় বুধাকে। বুধা তখন ফুলকলিকে ‘জয় বাংলা’ বলে ডাকবে বলে জানায়।
প্রশ্ন: ‘বানরের আবার চাঁদে যাবার সাধ।’ এ কথা বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বুধা নিজের নাম ‘বঙ্গবন্ধু’ রাখায় গ্রামের বন্ধু মধু তাকে ব্যঙ্গ করে আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
কেউ নতুন নামে ডাকলে খুব ভালো লাগে বুধার। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পর তার প্রতি বুধার এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়। তাই তার ইচ্ছা গ্রামের সবাই যেন তাকে বঙ্গবন্ধু নামে ডাকুক। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্বের পাশে বুধাকে নিতান্তই বেমানান মনে হয় বন্ধু মধুর কাছে। তাই বুধার কথা শুনে সে হেসে ফেলে এবং আলোচ্য উক্তিটি করে তাকে ব্যঙ্গ করে।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর