পড়াশোনার চাপ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই ফুলটাইম চাকরি করতে পারেন না। যার কারণে শিক্ষার্থীরা এখন পার্ট-টাইম জব বা খণ্ডকালীন চাকরি করেন। পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে পার্ট-টাইম জব করলে কিছু অর্থ মেলে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, পরীক্ষার ফিসহ ওই শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়ার খরচ উঠে আসে। বাংলাদেশে এখনো পার্ট-টাইম জব সেভাবে জনপ্রিয় না হলেও বিদেশে এর চল রয়েছে।
পার্ট-টাইম জব বা খণ্ডকালীন চাকরি সাধারণত দিনে কয়েক ঘণ্টা কিংবা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেটা হতে পারে ট্রেইনার, কল সেন্টারের কাজ, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় নির্বাহী হিসেবে কাজ করা ইত্যাদি। তার মানে, আপনি সহজেই পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নিজের মেধা এবং শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করে নিতে পারেন খণ্ডকালীন চাকরির মাধ্যমে। এমন কিছু কাজের খবরাখবর নিয়ে এবারের লেখা।
টিউটর
একটা সময় পর্যন্ত ভালো উপার্জনের সুপরিচিত একটি ক্ষেত্র ছিল প্রাইভেট টিউটরিং। বর্তমানে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও স্কুলে পার্ট-টাইম টিউটর হিসেবে যোগদান করা সম্ভব। আপনার অ্যাকাডেমিক সাফল্য এক্ষেত্রে বড় কাজে দেবে।
ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্ট্রাক্টর/ট্রেইনার
ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, জাপানিজ কিংবা চীনা– যে ভাষাতেই আপনি দক্ষ হোন না কেন, সে দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভালো আয় করতে পারবেন। ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানিও এ চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে।
কল সেন্টার অ্যাসিস্ট্যান্ট
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাস্টমারদের সহায়তা দিয়ে থাকে কল সেন্টারগুলো। স্বাভাবিকভাবে বড় আকারের জনবল দরকার হয় তাদের। আপনার যদি যোগাযোগের দক্ষতা ও ধৈর্য থাকে, তা হলে পার্ট-টাইম চাকরি হিসেবে কল সেন্টার অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ নিতে পারেন।
সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট
সাধারণত ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে এমন চাকরির সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের বিক্রি বাড়ানো এর মূল কাজ। এখানে ভালো করতে কথা দিয়ে কাস্টমারদের প্রভাবিত করায় দক্ষ হতে হবে আপনাকে।
ড্রাইভার ও ডিসপ্যাচ এজেন্ট
Uber আর Pathao-র মতো রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোর সুবাদে পার্ট-টাইম ড্রাইভার হিসেবে কাজ করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। এ ছাড়া, খাবার আর পার্সেল ডেলিভারিতেও কাজে আসবে আপনার গাড়ি চালানোর দক্ষতা।
কপিরাইটার
বিভিন্ন মার্কেটিং ও অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি বর্তমানে জুনিয়র কপিরাইটার পদগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। এগুলোতে কাজ পেতে আপনাকে আকর্ষণীয় ভাষায় কোনো কিছু উপস্থাপন করার কাজে দক্ষ হতে হবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট
মূলত সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর আধিপত্যের কারণে কোম্পানিগুলো সেখানে বড় আকারে নিজেদের মার্কেটিং করাতে চায়। এর জন্য নিয়মিত কনটেন্ট ও পোস্ট শেয়ারিং করতে হয় তাদের। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারে দক্ষ হয়ে থাকলে এবং অভিনব উপায়ে প্রচারণা চালানোর দক্ষতা থাকলে আপনিও ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে পার্ট-টাইম চাকরি করতে পারেন।
ওয়েটার
রেস্টুরেন্ট ও কফি শপগুলোতে ওয়েটার হিসেবে খাবার পরিবেশনের কাজ করার জন্য মনোযোগ ও মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। এর কারণ হলো, আপনাকে একই সঙ্গে দুই-তিন টেবিলের কাস্টমারদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
ট্যুর গাইড
ঘোরাঘুরি করতে কিংবা নতুন জায়গায় যেতে পছন্দ করলে সেটাকে পার্ট-টাইম চাকরিতে রূপ দিতে পারেন। ভালো ট্যুর গাইড হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গার খুঁটিনাটি তথ্য জানা থাকা দরকার।
পার্ট-টাইম চাকরির সুযোগ খুঁজবেন কোথায়?
চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কাজের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়ে থাকে। এগুলোতে নিয়মিত খোঁজ নিতে পারেন। এ ছাড়া পরিচিত জনের মাধ্যমেও অনেক সময় পার্ট-টাইম চাকরির সন্ধান পাওয়া যায়।
তারেক/