ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার লাল কার্ড দেখা যুক্তরাষ্ট্রের বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল ফিফা ‘এত যুদ্ধ থামালাম, নোবেল পেলাম না’: ট্রাম্পের রসিকতা চিংদাও উপকূলে যৌথ মহড়ায় নামছে চীন ও রাশিয়া চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু বন্ধু দেশকে ছাড়, হরমুজে নতুন ফি আরোপের ঘোষণা ইরানের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সরকারের উচ্চপদস্থদের বিষয়ে অশালীন-কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬ ফুটবল: লক্ষ্মীপুরে চ্যাম্পিয়ন ‘জাফরনগর স্মার্ট ভিলেজ’ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে স্বামীর দেওয়া আগুনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ ডেঙ্গুতে বাড়ছে রোগী, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৭১ জন ২ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার চীনের অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচে কে এই মুসলিম রেফারি? বিশ্বকাপ কাঁপানো ভোজিনহাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি! নিরাপত্তা যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না সরায়: প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সামনে ভাত বিক্রি, আটক সোহানী শিফা আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে শোক জানিয়েছে বাংলা একাডেমি ও ঢাবি হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে ফিরছে ‘বাংলার রসনা বিলাস ২.০’ ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০ ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচেও ব্রাজিলের জয় দেখছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু

ফেস অব এশিয়ায় জারিফ ও কণিকার সাফল্য

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৫২ পিএম
আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৪ পিএম
ফেস অব এশিয়ায় জারিফ ও কণিকার সাফল্য
কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট আজরা মাহমুদ  সঙ্গে জারিফ শাবাব ও আকলিমা আতিকা কণিকা

ফেস অব এশিয়ায় সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলছে ফেস অব বাংলাদেশ জারিফ শাবাব ও আকলিমা আতিকা কণিকা। তাঁদের অর্জন ফ্যাশন ও মডেলিংয়ের বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া মডেল ফেস্টিভ্যাল। ফেস অব এশিয়া, এশিয়া ওপেন কালেকশন, এশিয়া মডেল অ্যাওয়ার্ড- এই তিনটি অংশ থাকে এই ইভেন্টে। ফেস অব এশিয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আর্কা ফ্যাশন উইকে ফেস অব বাংলাদেশ নির্বাচিত হন জারিফ শাবাব, আকলিমা আতিকা ও দিল আফরোজ হাসান।

২৭টি দেশের নির্বাচিত ৫০জন মডেল সুযোগ পেয়েছেন ফেস অব এশিয়ায়। এটি এ প্রতিযোগিতার ১৫তম আসর। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন জারিফ শাবাব ও আকলিমা আতিকা। তবে বাংলাদেশের জন্য সুখবর হচ্ছে ফেস অব এশিয়ার শীর্ষ১০ এ আছেন নবীন মডেল জারিফ শাবাব। ২৭টি দেশের মোট ৩৭ জন তরুণী আর ২৩ জন্য তরুণ মডেলদের মাঝে জারিফ শাবাবের শীর্ষ দশে অবস্থান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

ফেস অব এশিয়া থেকে দুটি অ্যাওয়ার্ড নিয়ে আসছেন জারিফ শাবাব ও আকলিমা আতিকা কণিকা

পাশাপাশি 'ভোটিং রাউন্ড'-এ সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন জারিফ। আন্তর্জাতিক মডেলিং প্রতিযোগিতায় ভোটিং রাউন্ড বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি জারিফ। আকলিমা কণিকা হয়েছেন তৃতীয়। আর নারী মডেলদের মধ্যে প্রথম।

মূল আয়োজনের পূর্বে দুই সপ্তাহের গ্রুমিং সেশনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্কিন কেয়ারের সুপরিচিত কোরিয়ান ব্র্যান্ড এক্সআইইএল জারিফের ডায়নামিক কনটেন্ট ফিচারের জন্য পছন্দ করে। এছাড়া এশিয়া ওপেন কালেকশনে  ডব্লিও হোমি, লাইন হোমি, এটুআর, ফোটন গার্মেন্ট-এর মতো টপ ডিজাইনারদের কাস্টের জন্যও নির্বাচিত হন তিনি।

পুরো ফেস্টিভ্যাল জুড়ে দারুণ সব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন শাবাব। বেশ কিছু প্রমোশনাল শ্যুট করেছেন সেখানে তিনি। আইকনিক হাই ওয়ান রিসোর্টসহ বেশ কিছু হাই প্রোফাইল ফটোশ্যুটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি জারিফের প্রাপ্তির ঝুলিতে যোগ হয় ‘আমাঙ ম্যাগাজিন অ্যাম্বাসিডরশিপ’ পুরস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন কোরিয়ান ব্র্যান্ডের সঙ্গেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।  

এদিকে আকলিমা আতিকা কণিকা স্পনসর অ্যাওয়ার্ড ‘ইউ অ্যান্ড আই’ জিতে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ১০ লাখ কোরিয়ান ওন। লাইন কালেকশন, ডাক ডাইভ, গ্রিডিলাস ও এভিটার রানওয়েতে তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।

সবমিলিয়ে বলা যায় এবছর এশিয়া মডেল ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের উপস্থিতি সাফল্যে পরিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। দুজন প্রতিনিধিই মর্যাদাপূর্ণ দুটি অ্যাওয়ার্ড নিয়ে আসছেন দেশে।

উল্লেখ্য, এশিয়া মডেল ফেস্টিভ্যাল আসলে তিনদিনের একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মডেলদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। এখানে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের মডেলরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। এই ইভেন্ট প্রতিবছর দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই বৈশ্বিক সংস্কৃতি উৎসব এশিয়ার পপ সংস্কৃতি, শিল্প ও এশিয়ার মডেল, ফ্যাশন আর বিউটি ইন্ডাস্ট্রিকে এশিয়াব্যাপী প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এশিয়ার মডেল ও শিল্পীদের বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেয়।


কলি

পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা

বর্ষা মানেই প্রকৃতির এক অন্যরকম রূপ। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, সজীব সবুজ আর চারপাশে এক প্রশান্ত আবহ। এই ঋতুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে রংটি মিশে আছে, তা হলো নীল। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি এবং জলরাশির আবেশ যেন নীল রংকে আরও জীবন্ত করে তোলে। তাই বর্ষাকালে ফ্যাশনপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় নীল রঙের কামিজ, শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ড্রেস থাকে শীর্ষে। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন 


শাড়িতে বর্ষার রোমান্টিক আবেদন
বাংলাদেশের নারীদের ফ্যাশনে শাড়ির আবেদন চিরন্তন। বর্ষাকালে নীল শাড়ি যেন এক বিশেষ অনুভূতির নাম। বৃষ্টিভেজা দিনে নীল জামদানি, তাঁত, কটন বা মসলিন শাড়ি সহজেই এনে দেয় স্নিগ্ধ ও মার্জিত সৌন্দর্য। গাঢ় নীলের ওপর সাদা নকশা কিংবা আকাশি নীলের সঙ্গে রুপালি কাজের শাড়ি বর্ষার আবহের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। বর্তমানে টাই-ডাই, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক ও হ্যান্ডপেইন্ট করা নীল শাড়িও বেশ জনপ্রিয়।

নীল শাড়ির সঙ্গে রুপালি বা অক্সিডাইজড গহনা অসাধারণ মানিয়ে যায়। চাইলে মুক্তার গহনা বা ছোট্ট রুপালি কানের দুলও বেছে নেওয়া যেতে পারে। মেকআপে হালকা বেস, কাজল এবং ন্যুড লিপস্টিক রাখলে পুরো লুকটি হয়ে ওঠে আরও পরিশীলিত।


বর্ষার ফ্যাশনে কাপড় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ
বর্ষাকালে ফ্যাশনের পাশাপাশি আরামকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এ সময় ভারী কাপড় এড়িয়ে হালকা ও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন কাপড় বেছে নেওয়া ভালো। কটন ব্লেন্ড, লিনেন, রেয়ন বা সফট ভিসকসের পোশাক আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি স্বস্তিদায়ক। অতিরিক্ত লম্বা পোশাক বা খুব ভারী ঘেরযুক্ত ডিজাইন বৃষ্টির দিনে কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই পোশাক নির্বাচনের সময় ব্যবহারিক দিকটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

নীলের সঙ্গে মানানসই অনুষঙ্গ
নীল পোশাকের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সঠিক অনুষঙ্গ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। নীল কামিজ, শাড়ি বা ড্রেসের সঙ্গে সাদা, রুপালি, বেইজ বা ধূসর রঙের ব্যাগ ও জুতা দারুণ মানিয়ে যায়। গহনার ক্ষেত্রে অক্সিডাইজড সিলভার, মুক্তা বা মিনিমাল ডিজাইনের অলংকার লুকে আনে আভিজাত্য। বর্ষাকালে ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট স্যান্ডেল বা আরামদায়ক ব্লক হিল ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের সাজে খোঁপা, পনিটেইল বা খোলা চুলের সঙ্গে সাদা কদম ফুল কিংবা ছোট্ট ফ্লোরাল হেয়ার অ্যাকসেসরি যোগ করলে সাজে ফুটে উঠবে বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ।


বর্ষার ফ্যাশনে চিরন্তন নীল
বর্ষা ও নীল যেন একে অপরের পরিপূরক। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির ধারা আর প্রকৃতির সজীবতার সঙ্গে নীল রঙের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তাই প্রতি বর্ষাতেই ফ্যাশনে নতুন করে ফিরে আসে আকাশি, টারকোয়েজ, রয়্যাল ব্লু কিংবা নেভি ব্লুর মতো নানা শেড।
ফ্যাশনের ধারা বদলালেও নীলের আবেদন কখনো ফুরায় না। স্নিগ্ধতা, আভিজাত্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের অনন্য মিশেলে নীল রঙের কামিজ, শাড়ি বা ড্রেস বর্ষার ফ্যাশনে সব সময়ই থাকে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাই এই মৌসুমে নীল হতে পারে আপনার স্টাইলের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ।


পদ্মফুল ও বৃষ্টির ছন্দে রঙ বাংলাদেশের বর্ষা সংগ্রহ
জলজ বাংলার সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক পদ্ম। পবিত্রতা, মমতা ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে যুগ যুগ ধরে পদ্মফুল স্থান পেয়েছে বাঙালির সাহিত্য, সংগীত ও লোকজ ঐতিহ্যে। আর শান্ত জলের বুকে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে যে মৃদু তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তাতেও যেন ধরা দেয় বর্ষার নিজস্ব ছন্দ। প্রকৃতির এই দুই অনন্য অনুষঙ্গ পদ্মফুল এবং জলে বৃষ্টির ফোঁটার অপূর্ব দৃশ্য এবার পোশাকের নকশায় রূপ দিয়েছে রঙ বাংলাদেশ।

বর্ষা উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এসেছে পদ্মফুলের নান্দনিকতা এবং জলে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার মুহূর্ত থেকে অনুপ্রাণিত শাড়ি ও পাঞ্জাবির বিশেষ ম্যাচিং সংগ্রহ। জলরঙের মতো কোমল রঙ, পদ্মের পাপড়ির সূক্ষ্ম বিন্যাস এবং জলের বুকে বৃষ্টির ফোঁটার ছন্দময় বৃত্ত—সব মিলিয়ে প্রতিটি পোশাক যেন হয়ে উঠেছে একেকটি জীবন্ত ক্যানভাস।

বাংলার বর্ষা শুধু প্রকৃতির নয়, সম্পর্কেরও ঋতু। এক ছাতার নিচে পাশাপাশি হাঁটা, হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া কিংবা বিকেলের চায়ের আড্ডা এসব ছোট ছোট মুহূর্তেই জমে থাকে ভালোবাসার গল্প। সেই গল্পগুলোকে আরও রঙিন করে তুলতেই রঙ বাংলাদেশের এবারের আয়োজন। শাড়ি ও পাঞ্জাবির এই ম্যাচিং সিরিজে রয়েছে দম্পতিদের জন্য বিশেষ নকশা, যেখানে পদ্মফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি জলের বুকে বৃষ্টির ফোঁটার সৃষ্ট বৃত্তাকার তরঙ্গও উঠে এসেছে সূক্ষ্ম মোটিফ ও অলংকরণে। ঐতিহ্য ও সমকালীন রুচির মেলবন্ধনে ফুটে উঠেছে বাংলার নিজস্ব বর্ষার রূপ।

আরামদায়ক কাপড়, পরিমিত রঙের ব্যবহার এবং সূক্ষ্ম নকশার সমন্বয়ে তৈরি এই সংগ্রহে রয়েছে বর্ষার মায়া, বাংলার প্রকৃতি এবং ভালোবাসার কোমল স্পর্শ। পরিবারের সঙ্গে কিংবা প্রিয় মানুষটির হাত ধরে বর্ষাকে উদযাপন করার জন্য এই সংগ্রহ হতে পারে অনন্য এক সঙ্গী।

নতুন সংগ্রহটি পাওয়া যাচ্ছে দেশের সকল রঙ বাংলাদেশ আউটলেট এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। ঘরে বসে কেনাকাটার জন্য রয়েছে www.rang-bd.com এবং  রঙ বাংলাদেশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ।

শোবার ঘর হোক শান্ত ও আরামদায়ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
শোবার ঘর হোক শান্ত ও আরামদায়ক

ব্যস্ত দিনের শেষে মানুষ যে জায়গাটিতে ফিরে এসে স্বস্তি খোঁজে, সেটি হলো শোবার ঘর। একটি শান্ত, পরিপাটি ও আরামদায়ক শোবার ঘর শুধু ঘুমের মানই উন্নত করে না, মানসিক প্রশান্তি ও কর্মক্ষমতাও বাড়ায়। তাই শোবার ঘর সাজাতে শুধু সৌন্দর্য নয়, গুরুত্ব দিতে হবে আরাম, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পরিকল্পনায়। লিখেছেন রোদসী 

রঙের সঠিক ব্যবহার
শোবার ঘরের পরিবেশ তৈরিতে রঙের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উজ্জ্বল এবং চড়া রঙের পরিবর্তে হালকা ও নরম শেড যেমন অফ-হোয়াইট, হালকা নীল, প্যাস্টেল সবুজ, ল্যাভেন্ডার কিংবা হালকা ধূসর ব্যবহার করলে ঘরে এক ধরনের প্রশান্ত ভাব তৈরি হয়। এসব রং চোখকে আরাম দেয় এবং মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। দেয়াল, পর্দা ও বিছানার চাদরে মিল রেখে রং নির্বাচন করলে ঘরটি আরও পরিপাটি ও নান্দনিক দেখায়।

সঠিক আলো ব্যবস্থাপনা
আলো শোবার ঘরের আবহ তৈরির অন্যতম উপাদান। খুব বেশি উজ্জ্বল আলো ঘুমের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। তাই সাদা তীব্র আলো বাদ দিয়ে উষ্ণ ও নরম আলো ব্যবহার করা ভালো। বেডসাইড ল্যাম্প, ডিম লাইট বা ওয়াল লাইট ব্যবহার করলে ঘরে একটি কোমল পরিবেশ তৈরি হয়। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ রাখা উচিত। জানালায় হালকা পর্দা ব্যবহার করলে আলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। 

আরামদায়ক বিছানা ও সঠিক আসবাব
শোবার ঘরের মূল আকর্ষণ হলো বিছানা। আরামদায়ক ম্যাট্রেস, নরম কিন্তু সাপোর্টিভ বালিশ এবং মানসম্মত চাদর ঘুমের মান উন্নত করে। বিছানার উচ্চতা, আকার ও অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঝামাঝি বা দেয়ালের পাশে সঠিকভাবে বিছানা স্থাপন করলে চলাচলে সুবিধা হয়। অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কমিয়ে ঘরকে খোলামেলা রাখা উচিত। বেশি আসবাব ঘরকে ভারী ও অগোছালো করে তোলে, যা মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। প্রয়োজনীয় একটি ওয়ারড্রোব, ছোট ড্রেসিং টেবিল বা সাইড টেবিল যথেষ্ট।

পরিচ্ছন্নতা ও গুছিয়ে রাখা
পরিচ্ছন্ন ঘর মানেই মানসিক স্বস্তি। বিছানা, টেবিল বা মেঝেতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিন সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখা এবং নিয়মিত ঝাড়পোঁছ করলে ঘর সতেজ থাকে। অগোছালো পরিবেশ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই বই, পোশাক বা ব্যক্তিগত সামগ্রী আলাদা বক্স বা ড্রয়ারে সংরক্ষণ করা ভালো। চাইলে মিনিমালিস্ট স্টাইল অনুসরণ করে কম জিনিসে ঘর সাজানো যেতে পারে।

শব্দ ও গন্ধ নিয়ন্ত্রণ
শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বাইরে থেকে শব্দ বেশি এলে ভারী পর্দা বা সাউন্ডপ্রুফিং উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে নরম সংগীত বা হালকা প্রাকৃতিক শব্দ ঘুমে সহায়ক হতে পারে। সুগন্ধিও ঘরের পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।হালকা সুগন্ধি মোমবাতি, রুম ফ্রেশনার বা প্রাকৃতিক ফুল ব্যবহার করলে ঘর আরও সতেজ লাগে। তবে অতিরিক্ত তীব্র গন্ধ এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রাখা
শোবার ঘরে টেলিভিশন, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। তাই শোবার ঘরকে প্রযুক্তিমুক্ত বা কম প্রযুক্তিনির্ভর রাখার চেষ্টা করা উচিত। ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করলে ভালো ঘুম নিশ্চিত করা সহজ হয়।

ব্যক্তিগত স্পর্শ
শোবার ঘর যেন আপনার ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন হয়। তাই সাজসজ্জায় এমন উপাদান রাখুন, যা আপনাকে স্বস্তি দেয় এবং আপনার পরিচয় বহন করে। পরিবারের ছবি, প্রিয় কোনো মুহূর্তের ফ্রেম বা ছোট শিল্পকর্ম ঘরে উষ্ণতা যোগ করে। যারা বই পড়তে ভালোবাসেন, তারা বেডসাইডে কয়েকটি প্রিয় বই রাখতে পারেন। এতে নান্দনিকতা যেমন বাড়ে, তেমনি ঘুমের আগে পড়ার অভ্যাসও তৈরি হয়। এ ছাড়া ছোট টবের মানিপ্ল্যান্ট বা সাকুলেন্টের মতো ইনডোর গাছ ঘরে সতেজতা আনে। তবে সবকিছুই সীমিত ও গুছিয়ে রাখাই মূল কথা। তাহলেই শোবার ঘর হয়ে উঠবে আরামদায়ক ও আপন।

 

মাছির উপদ্রব কমাতে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
মাছির উপদ্রব কমাতে

ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে মাছির উপদ্রব একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাছির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়; যা শুধু বিরক্তির কারণই নয়, বরং বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ায়। খাবার ও বসবাসের জায়গা নিরাপদ রাখতে তাই মাছি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। লিখেছেন রোদসী 

পরিচ্ছন্ন পরিবেশই প্রথম প্রতিরোধ
মাছির উপদ্রব কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা। খোলা খাবার, ময়লা-আবর্জনা কিংবা অপরিষ্কার রান্নাঘর মাছিকে সহজেই আকৃষ্ট করে। তাই খাবার সব সময় ঢেকে রাখা এবং রান্নার পরপরই টেবিল ও রান্নাঘরের স্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ডাস্টবিন নিয়মিত খালি করা এবং ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়ি ব্যবহার করলে মাছির বংশবিস্তার অনেকটাই কমে যায়। 

রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণে সতর্কতা
মাছি সাধারণত খাবারের গন্ধে দ্রুত আসে। তাই রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা উচিত নয়। ফলমূল, মিষ্টি বা রান্না করা খাবার ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করলে মাছি আসার ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে ঈদ বা পারিবারিক আয়োজনের সময় খাবার বেশি প্রস্তুত করা হলে এ বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

প্রাকৃতিক উপায়ে মাছি নিয়ন্ত্রণ
রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও মাছি দূরে রাখতে কার্যকর। লেবু ও লবঙ্গ একসঙ্গে রেখে দিলে তার গন্ধ মাছি দূরে রাখতে সাহায্য করে। তেজপাতা, তুলসী বা পুদিনা পাতার গন্ধও মাছির জন্য অপছন্দের। জানালার পাশে এসব প্রাকৃতিক উপাদান রাখা যেতে পারে। এছাড়া ভিনেগার বা লেবুর রস মিশ্রিত পানি দিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করলে পরিবেশ সতেজ থাকে এবং মাছির উপস্থিতি কমে। 

দরজা-জানালায় সুরক্ষা ব্যবস্থা
ঘরে মাছি প্রবেশের অন্যতম পথ হলো খোলা দরজা ও জানালা। তাই জানালায় নেট বা জালি ব্যবহার করা একটি কার্যকর সমাধান। দিনের বেলায় আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ রেখেও মাছি প্রতিরোধ করা সম্ভব। দরজার সামনে পর্দা বা এয়ার কার্টেন ব্যবহারের মাধ্যমেও মাছির প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

আশপাশের পরিবেশের যত্ন
শুধু ঘরের ভেতর নয়, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জমে থাকা পানি, খোলা ড্রেন বা আবর্জনার স্তূপ মাছির বংশবিস্তারের প্রধান স্থান। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে মাছির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে।

রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে

রান্নাঘর বাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিনের রান্নাবান্না, খাবার প্রস্তুত এবং নানা ব্যবহারের কারণে এ জায়গাটি দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এটি শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, বরং দুর্গন্ধ, জীবাণু এবং পোকামাকড়ের সমস্যাও বাড়াতে পারে। তাই রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখতে নিয়মিত তেল চিটচিটে ভাব দূর করা জরুরি। লিখেছেন রোদসী 

কেন জমে তেল চিটচিটে ভাব
রান্নার সময় তেল, মসলা ও বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের দেয়াল, তাক, চুলা কিংবা ক্যাবিনেটে জমে যায়। ধুলাবালির সঙ্গে মিশে তা আরও আঠালো হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাজাপোড়া বেশি হলে এ সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। অনেক সময় শুধু শুকনো কাপড় দিয়ে মুছলে এটি ওঠে না, বরং আরও ছড়িয়ে যায়। 

গরম পানি ও সাবানের সহজ সমাধান
রান্নাঘরের হালকা তেলচিটে ভাব দূর করতে গরম পানির সঙ্গে লিকুইড সাবান মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। একটি কাপড়ে সেই পানি লাগিয়ে চুলা, টাইলস বা কাউন্টার মুছে নিন। গরম পানি তেল আলগা করতে সাহায্য করে এবং সাবান ময়লা সহজে তুলে ফেলে। পরে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিলে জায়গাটি ঝকঝকে দেখাবে।

বেকিং সোডা ও ভিনেগার
জেদি তেলচিটে দাগ দূর করতে বেকিং সোডা ও ভিনেগার কার্যকর উপায় হতে পারে। প্রথমে জায়গাটিতে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন, এরপর সামান্য ভিনেগার স্প্রে করুন। কয়েক মিনিট রেখে নরম স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। এতে জমে থাকা তেল ও দাগ সহজে উঠে আসে।

লেবুর ব্যবহার
লেবু প্রাকৃতিক ক্লিনার হিসেবে বেশ উপকারী। এর অ্যাসিডিক উপাদান তেল কাটতে সাহায্য করে এবং দুর্গন্ধও দূর করে। একটি লেবু কেটে সরাসরি তেলচিটে স্থানে ঘষতে পারেন অথবা লেবুর রস গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে রান্নাঘরে সতেজ ঘ্রাণও থাকবে।

ক্যাবিনেট ও কাঠের অংশ পরিষ্কার করবেন যেভাবে
কাঠের ক্যাবিনেট বা তাক পরিষ্কারে বেশি পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে কাঠ নষ্ট হতে পারে। হালকা ভেজা কাপড়ে সাবান পানি লাগিয়ে মুছে নিন, তার পর সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। চাইলে অল্প ভিনেগার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা যেতে পারেন।

চুলা ও এক্সহস্ট ফ্যান পরিষ্কার রাখুন
চুলার ওপর সবচেয়ে বেশি তেল জমে। রান্না শেষে চুলা ঠাণ্ডা হলে প্রতিদিন মুছে ফেললে দাগ শক্ত হবে না। এক্সহস্ট ফ্যানেও দ্রুত তেল জমে যায়। মাসে অন্তত একবার ফ্যানের ফিল্টার খুলে গরম পানি ও ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। 

প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসে মিলবে বড় ফল
রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার রাখতে কিছু ছোট অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন-
•    রান্না শেষে চুলা ও কাউন্টার মুছে রাখুন
•    সপ্তাহে এক দিন টাইলস ও দেয়াল পরিষ্কার করুন
•    ভাজাপোড়া করার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন
•    এক্সহস্ট ফ্যান চালু রাখুন
•    ময়লা কাপড় বা স্পঞ্জ নিয়মিত ধুয়ে নিন

দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব
ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি মানুষের স্বস্তি, রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। ঘরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র কিংবা আলোকসজ্জার মতো দেয়ালের রংও পরিবেশ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় শুধু রং বদলালেই একটি সাধারণ ঘর হয়ে উঠতে পারে প্রাণবন্ত কিংবা আধুনিক। তাই দেয়ালের রং নির্বাচন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি ঘরের চরিত্র প্রকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লিখেছেন মুশফিরাত  
 
রঙের আছে নিজস্ব ভাষা
প্রতিটি রংই একেকটি অনুভূতির প্রতীক। সাদা রং পরিচ্ছন্নতা, শান্তি ও সরলতার বার্তা দেয়। নীল রং প্রশান্তি ও স্থিরতার প্রতীক, যা শোবার ঘর বা পড়ার ঘরের জন্য উপযোগী। সবুজ রং প্রকৃতির ছোঁয়া এনে দেয়, যা মনকে সতেজ রাখে। হলুদ রং উচ্ছ্বাস ও প্রাণশক্তির প্রতীক, তাই ডাইনিং স্পেস বা বসার ঘরে এটি ভালো মানায়। আবার ধূসর, বেইজ কিংবা অফ-হোয়াইট রং আধুনিক ও অভিজাত আবহ তৈরি করে। যারা মিনিমাল বা পরিমিত সাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এসব রং হতে পারে আদর্শ পছন্দ। অন্যদিকে লাল, কমলা বা গাঢ় নীলের মতো রং সীমিত পরিসরে ব্যবহার করলে ঘরে আসে আলাদা ব্যক্তিত্ব ও নাটকীয়তা। 
 
ঘরভেদে আলাদা রঙের ভাবনা
সব ঘরে একই রং ব্যবহার না করে জায়গা অনুযায়ী রং নির্বাচন করাই ভালো। বসার ঘর হলো অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক আড্ডার জায়গা। তাই এখানে এমন রং ব্যবহার করা উচিত, যা উষ্ণ, আমন্ত্রণমূলক এবং পরিপাটি দেখায়। হালকা ধূসর, ক্রিম, প্যাস্টেল সবুজ কিংবা হালকা নীল হতে পারে ভালো পছন্দ। শোবার ঘরে চাই আরাম ও প্রশান্তি। তাই নরম নীল, ল্যাভেন্ডার, সাদা, হালকা গোলাপি বা মাটি রঙের শেড ভালো মানায়। এগুলো মনকে শান্ত করে এবং বিশ্রামের অনুভূতি দেয়। শিশুদের ঘরে রঙের ব্যবহার হতে পারে আরও প্রাণবন্ত। হালকা হলুদ, আকাশি, মিন্ট সবুজ কিংবা নরম কমলা শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তবে খুব বেশি উজ্জ্বল বা চোখে লাগে এমন রং এড়িয়ে চলাই ভালো। রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা ও উজ্জ্বলতার অনুভূতি জরুরি। তাই সাদা, হালকা সবুজ, ক্রিম বা হালকা ধূসর ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
ছোট ঘর বড় দেখানোর কৌশল
অনেক বাসাতেই জায়গা সীমিত থাকে। সে ক্ষেত্রে দেয়ালের রং দিয়ে ঘরকে বড় ও খোলামেলা দেখানো সম্ভব। হালকা রং যেমন সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল টোন ঘরকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। কারণ এসব রং আলো প্রতিফলিত করে এবং জায়গাকে প্রশস্ত মনে হয়। অন্যদিকে গাঢ় রং ঘরকে ছোট ও ঘন মনে করাতে পারে। তবে নির্দিষ্ট একটি দেয়ালে গাঢ় রং ব্যবহার করলে সেটি ঘরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে এবং আলাদা সৌন্দর্য এনে দেয়।
 
ব্যক্তিত্ব প্রকাশে অ্যাকসেন্ট ওয়াল
বর্তমানে ঘর সাজানোর জনপ্রিয় ধারণা হলো অ্যাকসেন্ট ওয়াল বা বিশেষ দেয়াল। অর্থাৎ চারটি দেয়ালের মধ্যে একটি দেয়ালকে আলাদা রং বা নকশায় সাজানো। এতে ঘরে বৈচিত্র্য আসে এবং ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। যেমন বসার ঘরে টিভির পেছনের দেয়াল, শোবার ঘরে বিছানার পেছনের দেয়াল কিংবা ডাইনিং স্পেসে একটি দেয়াল গাঢ় বা ভিন্ন রঙে করা যেতে পারে। এ ছাড়া ওয়ালপেপার, টেক্সচার পেইন্ট কিংবা জ্যামিতিক নকশাও এখন জনপ্রিয়। এগুলো ঘরের আধুনিকতা বাড়ায়।
 
আলো ও রঙের সম্পর্ক
দেয়ালের রং নির্বাচন করার সময় ঘরে কতটা প্রাকৃতিক আলো আসে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব ঘরে আলো কম আসে, সেখানে হালকা ও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখায়। আর যেসব ঘরে প্রচুর আলো আসে, সেখানে মাঝারি বা গাঢ় টোনও সুন্দর লাগে। 
রাতে কৃত্রিম আলোতেও রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। তাই রং করার আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করে দেখা ভালো।  
 
সময়ের সঙ্গে বদলানো ট্রেন্ড
একসময় ঘরে শুধু সাদা রংই বেশি ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন মাটি রং, টেরাকোটা, সবুজ, ধূসর-নীল, চারকোল কিংবা প্যাস্টেল শেড এখন বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও কম গন্ধযুক্ত রঙের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। 
কিছু জরুরি পরামর্শ
• রং কেনার আগে ছোট স্যাম্পল পরীক্ষা করুন
• ঘরের আসবাবপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে রং বেছে নিন
• খুব বেশি রঙের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
• দীর্ঘমেয়াদে ভালো লাগবে এমন শেড নির্বাচন করুন
• মানসম্মত রং ব্যবহার করুন, যাতে টেকসই হয়