চাঁদে এবার বসতবাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে এনডিটিভি।
মহাকাশে যে কোনো অভিযান অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চাঁদে উপাদান পাঠানোও এর ব্যতিক্রম নয়। পৃথিবী থেকে কংক্রিট উপাদান নিয়ে গিয়ে চাঁদে কাঠামো তৈরি সম্ভব নয়। তাই নাসা চাইছে, ২০৪০ সালের মধ্যেই চাঁদের উপাদান দিয়েই সেখানে কাঠামো নির্মাণ করতে। আর এই জন্য তারা বেছে নিয়েছে থ্রিডি প্রযুক্তির প্রিন্টার।
যে প্রিন্টার চন্দ্রপৃষ্ঠের উপরিভাগের স্তরে পাওয়া পাথর ও সেখানে থাকা খনিজ উপাদান দিয়ে কংক্রিট তৈরি করবে। পরে সেই কংক্রিট থেকে মানুষের অবস্থান উপযোগী কাঠামো তৈরি করবে এটি।
এরই মধ্যে সংস্থাটি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছে। নাসার প্রযুক্তি বিভাগের একজন পরিচালক নিকি ওয়ারখেইজার বলেন, ‘আমরা একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক লোকদের একসঙ্গে পেয়েছি, আমি এ কারণেই মনে করি আমরা একসঙ্গে লক্ষ্যে পৌছাবো।’
তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টিকে স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। সত্যটা হলো, আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি। অন্যভাবে বললে, আমাদের এই পর্যায়ে আসাটা অনিবার্য ছিল। আমরা যদি আমাদের সক্ষমতার প্রকাশ ঘটাতে পারি, তাহলে এটি সম্ভব না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ফরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে থ্রিডি প্রিন্টারটি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারিতে এটিকে চাঁদে পাঠানোর আগ পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।
অ্যাপোলো-১১ মিশনে চাঁদে প্রথম মানুষ পাঠানোর পর সেখানে সব মিলিয়ে পাঁচটি মিশন পরিচালনা করে নাসা। এর মধ্যে অ্যাপোলো-১৭ মিশনে সবমিলিয়ে সেখানে ৭৫ ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন নভোচারীরা।
সবশেষ চন্দ্রাভিযানের পর আবারও আর্টেমিস প্রকল্পের অধীনে চাঁদে ফিরতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। নাসার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এবার ঘুরতে হয়-সেখানে থাকতে যাচ্ছে তারা। তাই বসতবাড়ি তৈরির প্রসঙ্গটা আসছেই।
এরই মধ্যে আর্টেমিস-১ মিশন সফলভাবে মনুষ্যবিহীন নভোযানে চাঁদ প্রদক্ষিণ করে তার মিশন সম্পন্ন করেছে। ২০২৪ সালে আর্টেমিস-২ মিশনে মোট ৪ জন নভোচারীকে চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণের জন্য পাঠানো হবে। তারা চাঁদে অবতরণ করবে না।
২০২৫ সালে আর্টেমিস-৩ মিশনে চাঁদে মানুষ অবতরণ করবে এবং নভোচারীরা সেখানে কয়েক সপ্তাহ অবস্থান করবেন এবং অবকাঠামো স্থাপনেরও কাজ করবেন।
আর্টেমিস-১ ও ২ মিশনের জন্য নাসার বানানো সবচেয়ে বড় রকেট এসএলএস ব্যবহার করা হচ্ছে। আর্টেমিস-৩ মিশনে ব্যবহার করা হবে বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট। এই রকেটটি এখনও ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে।