ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন আজ পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের

গোধূলিবেলায় রাজনীতির ১০ বর্ষীয়ান

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ১২:০০ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫৮ এএম
গোধূলিবেলায় রাজনীতির ১০ বর্ষীয়ান
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

প্রতিবার জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনীতির নানা দিক উঠে আসে আলোচনায়। কখনো বড় কোনো ফোরামে, কখনোবা হাট-বাজারে আমজনতার চায়ের আড্ডায় কিংবা গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়। প্রতিবারই হরতাল-অবরোধ, পাল্টাপাল্টি সভা-সমাবেশ, বিদেশিদের দৌড়ঝাঁপ কিংবা নির্বাচনী স্রোতে এগিয়ে চলে দেশের সামগ্রিক রাজনীতি কিংবা আর্থসামাজিক ধারা। এবারও ব্যত্যয় হচ্ছে না এসবের।

এর মাঝেই কয়েকজন মানুষ আছেন, যারা যুগের পর যুগ কিংবা বছরের পর বছর রাজনীতির মাঠে, মানুষের মাঝে নিজেদের বিলিয়ে দেন সমাজ-দেশ-রাষ্ট্রের জন্য। একটা সময়ে বয়সের ভারে কিংবা অসুস্থতার কাছে নত হয়ে তারা রাজনীতির সক্রিয় মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন ধীরে ধীরে। তাদের নামও ঠিকই উঠে আসে স্মৃতিকাতর মানুষের মনে। মূলস্রোত থেকে আড়ালে পড়ে যাওয়া বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদরা কেমন আছেন, তা জানার কৌতূহলও জাগে। কারণ তারাও বিভিন্ন সময়ে কাঁপিয়েছেন ভোটের মাঠ।
 
এবার কেবল অসুস্থতার কারণে প্রথম সারির বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনী দৌড়ে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনেকের মাঝেই সংশয় রয়েছে। কেউ কেউ অসুস্থতা সত্ত্বেও চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজের অবস্থান সক্রিয় হিসেবে দেখাতে। গাড়িতে কিংবা হুইলচেয়ারে ছুটে চলার চেষ্টা করেন মাঠে-ঘাটে। কেউবা আছেন হাসপাতাল বা বাসায়, পুরোপুরি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। বয়সের গোধূলিবেলায় থাকা এমন ১০ বর্ষীয়ান রাজনীতিককে নিয়ে এই প্রতিবেদন।

তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতা-নেত্রীও আছেন। এমনকি এখনকার রাজনীতি থেকে দূরেও আছেন কেউ কেউ।

এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

১৯৩২ সালের ১ নভেম্বর কুমিল্লার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বা বি. চৌধুরী। পৈতৃক বাস মুন্সীগঞ্জে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে বদরুদ্দোজা চৌধুরী স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। ২০০১ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০২ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ও পরবর্তীকালে আরেকটি রাজনৈতিক দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ গঠন করেন।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের একাধিক সূত্র জানায়, গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়েও তিনি সুস্থ ছিলেন এবং নিজে ভোটে না দাঁড়ালেও রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় ছিলেন। ছেলে মাহি বি. চৌধুরী এমপি হয়েছেন তার আসন থেকেই। এবার তিনি খুবই অসুস্থ। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার মতো শারীরিক পরিস্থিতি নেই। এমনকি রাজনীতি নিয়ে তিনি এখন কোনো কথাও বলেন না।

বেগম খালেদা জিয়া

১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা খানম পুতুল বা বেগম খালেদা জিয়া। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম জিয়া স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নিজস্ব পাঁচটি সংসদীয় আসনের সবগুলোতেই জয়ী হন। ফোর্বস সাময়িকীর বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাবান নারী নেতৃত্বের তালিকায় ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার অবস্থান ছিল ১৪তম, ২০০৫ সালে ২৯তম ও ২০০৬ সালে ৩৩তম। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একটি এতিমখানা ট্রাস্ট গঠনের সময় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। দেশের আইন অনুসারে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হন। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক (মেডিকেল) ডা. আরিফ মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো (গত ১৩ নভেম্বর) আমাদের হাসপাতালেই আছেন। তিনি কেবিনে আছেন। মাঝেমধ্যেই শ্বাসকষ্ট হয় এবং তার এটা থাকবে। কখনো কখনো সিসিইউতে নিতে হয়।’

ড. কামাল হোসেন

১৯৩৭ সালের ২০ এপ্রিল বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ ১৯৫৭ সালে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিসপ্রুডেন্সে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাচেলর অব সিভিল ল ডিগ্রি লাভ করেন। লিংকনস ইনে বার-অ্যাট-ল অর্জনের পর আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পিএইচডি করেন ১৯৬৪ সালে। ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত। 

রাজনীতিতে তিনি সব সময়ই সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা-১৪ আসন থেকে এমপি হন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি শেখ মুজিবের সঙ্গে ১০ জানুয়ারি লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে ১৯৯২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের বাইরে চলে যান। এরপর কয়েক দফায় তিনি বিভিন্ন দল ও মোর্চা তৈরি করে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের বিশেষ জাতীয় কাউন্সিলে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় এখন আর সক্রিয়ভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমি সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে তথা গণফোরামের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।’
 
তবে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে দেশ ও জাতির জন্য আমার সাধ্য মোতাবেক অবদান রাখতে চেষ্টা করব।’

তোফায়েল আহমেদ

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। কয়েকবার মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার অংশগ্রহণে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন এই তোফায়েল আহমেদ।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে ১৪ জানুয়ারি ১৯৭২ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমান সংসদেরও সদস্য তিনি।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি অসুস্থ। ফলে রাজনীতির মাঠে আর আগের মতো সক্রিয় থাকা হচ্ছে না তার পক্ষে। কখনো চলাফেরা করেন হুইলচেয়ারে, কখনোবা নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে গাড়িতে বসেই গণসংযোগ করেন কিংবা বিভিন্ন সমাবেশে সংক্ষেপে বক্তব্য দেন। 

শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ খবরের কাগজকে (১৩ নভেম্বর) শুধুই বলেন, ‘ভালো আছি।’

মতিয়া চৌধুরী 

১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতি দিয়ে। ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই সময় তার বিল্পবী ভূমিকার ফলে ১৯৬৭ সালে ‘অগ্নিকন্যা’ নামে পরিচিতি পান। পরে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। যদিও ১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। তিনি একাধিবার মন্ত্রী ছিলেন।
 
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে তিনি বেশ অসুস্থ। ফলে আগের মতো রাজপথের সব কর্মসূচিতে বা সভা-সমাবেশে অংশ নিতে পারেন না। কেবল গুরুত্বপূর্ণ সভা বা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সংসদ অধিবেশন এবং দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সভায় ঠিকই তিনি অংশ নেন। থাকেন প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় সভাপতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জনসভায়ও। 

রওশন এরশাদ 

১৯৪১ সালের ১৯ জুলাই ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। এর আগেও তিনি একাধিকার সংসদ সদস্য ছিলেন। কিছুদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী। জাতীয় পার্টির আমলে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। 

জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘রওশন এরশাদ অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। ব্যাংককের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক টিম তার তত্ত্বাবধান করছে। স্বাভাবিক চলফেরা কমে গেছে। ফলে বিশেষ জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া তিনি বাসা থেকেও বের হন না।’ 

মোরশেদ খান 

১৯৪০ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম মোরশেদ খানের। ১৯৬২ সালে তিনি জাপানের টোকিও কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া তিনি সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করেন। সাবেক এই বিএনপি নেতা ১৯৮৬ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি আরও তিনবার (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ ও ২০০১) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পেশাল কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান ছিলেন। মোরশেদ খান ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দলের সব পদবিসহ সাধারণ সদস্যপদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে তিনি খুবই অসুস্থ বলে জানায় তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।

মহিউদ্দীন খান আলমগীর

১৯৪২ সালে মহিউদ্দীন খান আলমগীর চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে চাঁদপুর-১ আসনের এমপি এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এবং বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সেই বছরই পাকিস্তান সরকারের সরকারি কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন এবং প্রায় ৩২ বছর সরকারের বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের উপবিভাগীয় কর্মকর্তা (সিএসপি ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত যশোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য (১ নং। ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাস করেন। লাহোরে অধ্যয়নকালে তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মিছিল-সমাবেশে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি সর্বপ্রথম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। একাধিকবার মন্ত্রী ছিলেন। 

এখন তিনি অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে পারছেন না। তার নির্বাচনী এলাকায় পুত্রকে প্রস্তুত করছেন বলেও জানায় স্থানীয় সূত্র। খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো সভা-সমাবেশ বা অনুষ্ঠানেই কেবল তাকে দেখা যায়।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিআইসি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ১৯৭১ সালে প্রবাসীদের সংগঠিত করেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব অনুষদে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। কুমিল্লা-২ আসন থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। তিন দফা মন্ত্রী ছিলেন।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে এখন বাসাতেই থাকেন। রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই। থাকতে হচ্ছে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।

সালমান/

বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেলওয়ের বৈদ্যুতিক বিভাগের জন্য ডয়েজ ডিজেল ইঞ্জিন স্পেয়ার পার্টস কেনাকাটায় ৭ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রেলের যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় এই অনিয়মের বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে তৎপর হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, রেলের এসব যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও রেলের অসাধু কর্মকর্তারা সেসব যন্ত্রাংশ কিনতে ৮ কোটি টাকা বিল উঠিয়ে নিয়েছেন। অতিরিক্ত ৭ কোটি টাকা এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই কেনাকাটায় প্রধান ভূমিকা পালন করে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। তাই এই কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রেখেছে দুদক। রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কাছে যন্ত্রাংশ কেনাকাটাসংক্রান্ত সব নথি চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। 

গত ২১ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে। নথি জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত রেলওয়েকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ চিঠি খবরের কাগজের হাতে এসেছে।

দুদকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বৈদ্যুতিক বিভাগের জন্য ১৪ আইটেম ডয়েজ ডিজেল ইঞ্জিন স্পেয়ার পার্টস কেনার ক্ষেত্রে এই নজিরবিহীন জালিয়াতি করা হয়েছে। ১ কোটি টাকার বাজারমূল্যের মালামাল ৮ কোটি টাকায় কেনা দেখিয়ে সরকারের ৭ কোটি টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে কেনার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত এই অর্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও রেলওয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়েছে মর্মে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগ থেকে তিনটি ই-জিপি টেন্ডার আইডির মাধ্যমে এই কেনাকাটা করা হয়।

অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে চারটি টেন্ডারের নথি চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে যে বিষয়গুলো চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো–দরপত্র পদ্ধতি অনুমোদনের পরিপত্র; বাজারদর এবং অনুমোদিত দাপ্তরিক প্রাক্কলনের চিঠি; বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা; দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন; কৃতকার্য দরদাতার ট্রেড লাইসেন্স, দরদাতার আয়কর-ভ্যাট-জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সাধারণ অভিজ্ঞতার সনদপত্র।

কৃতকার্য দরদাতাকে দেওয়া রেলওয়ের স্বীকৃতিপত্র (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড), চুক্তিপত্র ও মালামাল সরবরাহসংক্রান্ত সব তথ্যসহ যাবতীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে দুদক।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য সরবরাহ না করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে খবরের কাগজ। তাকে ফোন করা হয়; বার্তা পাঠানো হয় হোয়াটসঅ্যাপে। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। 

রেলওয়ের সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০২৩ সালে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে রেলের কেনাকাটায় ৭ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে অনুসন্ধান চালায় দুদক। ২০২৪ সালে একই কার্যালয় অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ কিনে সরকারের দেড় কোটি টাকা অপচয় করেছে বলে পরিবহন অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে (সিআরবি) বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিনে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে তিন বছর ধরে। ২০২৪ সালে লিফটিং জ্যাক, ড্রিলিং মেশিন ও কাটিং জ্যাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে ১ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিপরীতে ১৭-১৮ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করার অভিযোগও এসেছে অডিট প্রতিবেদনে। এ ছাড়া পণ্যের বাজারমূল্য নির্ধারণে অনিয়ম, টেন্ডারে জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রাম জেলা দুদক কার্যালয় একাধিকবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কার্যালয়ে (সিআরবি) অভিযান পরিচালনা করেছে।

রেলের অভ্যন্তরীণ তদন্তে একাধিক কর্মকর্তা দোষী সাব্যস্ত হলেও পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
সার্বিক বিষয়ে জানতে ও কথা বলতে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিনের দপ্তরে যাওয়ার অনুমতি চান এই প্রতিবেদক। তবে তিনি সাড়া দেননি।

ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে আবারও নগর ব্যবস্থাপনার সংকট সামনে এসেছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি–অসংখ্য এলাকা গত শনি ও রবিবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানির নিচে তলিয়ে ছিল। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় পানি নামতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও নগরজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙে গেছে, কোথাও আবার চুরি হয়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

রাজধানীর এই বেহাল অবস্থার জন্য শুধু অতিবৃষ্টিকে দায়ী করছেন না সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরাও। বরং তারা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, খাল দখল, নদী ভরাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নগর পরিচালনায় দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতাই জলাবদ্ধতাকে ভয়াবহ করে তুলেছে। যদিও সমস্যা চিহ্নিত হলেও সমাধানে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এখনো করেননি। 

এর আগে গত শুক্র-শনি-রবিবারের টানা বৃষ্টিতে হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। নিচতলার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল পানিতে বিকল হয়ে পড়ে।

এসব বিষয়ে গতকাল বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক সেমিনারে রাজধানীর জলাবদ্ধতার কারণ ও নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে রাজধানীর জলাবদ্ধতার দুটি প্রধান কারণ উঠে আসে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খাল-নদী দখল। জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঢাকার প্রাকৃতিক খাল দখল ও ভরাট হওয়ার কারণেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেসব খাল এখনো টিকে আছে, সেগুলো উদ্ধার, পরিষ্কার এবং নদীর সঙ্গে পুনঃসংযোগ করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। 

মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘তুরাগ নিয়মিতভাবে দখলের শিকার হয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারলে ঢাকা শহরকেও রক্ষা করা সম্ভব হবে না!’ 

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যে দীর্ঘদিন থাকা সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বয়হীনতার সংকট রয়েছে। তার ভাষায়, সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও স্বাবলম্বী ও পূর্ণাঙ্গ কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সময়ের দাবি। রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ নগর উন্নয়নে নিয়োজিত সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় না আনলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতা কোনো সাময়িক বা মৌসুমি সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে খাল দখল, জলাধার ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ড্রেনেজব্যবস্থা এবং অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলই এখন প্রতি বর্ষায় ভয়াবহ আকারে দেখা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একসময়ে রাজধানীর বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার। কিন্তু দখল ও ভরাটের কারণে অধিকাংশ খাল স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। কোথাও খাল সংকুচিত হয়েছে, কোথাও ময়লা-আবর্জনা ও পলিতে ভরে গেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা জলাবদ্ধতায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় অনেক সড়কের কার্পেটিং উঠে খোয়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

বাড্ডা লিংক রোডের একটি অংশ ধসে লেকে পড়ে গেছে। এ ছাড়া নিকেতন, মহানগর প্রজেক্ট, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, হাতিরপুল, রাজাবাজার, মীরবাগ, বংশাল, কদমতলীর পাটেরবাগ ও কোদারবাজার এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা অংশের সার্ভিস রোডও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পুরান ঢাকার ধোলাইখালসংলগ্ন নারিন্দা মোড়ে ওয়াসার পুরোনো পানির পাইপ ফেটে মাটি সরে যাওয়ায় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জলাবদ্ধতার পাশাপাশি রাজধানীতে খোলা ম্যানহোলও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, রাজধানীর অসখ্য ম্যানহোলের ঢাকনা ভেঙে গেছে। আবার কোথাও রাস্তা ভেঙে পড়ায় ম্যানহোলের ঢাকনা সহজে আলাদা হয়ে থাকছে, তা রিকশা-সিএনজিচালিত অটোচালকরা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এর আগে গত রবিবার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যায়। ওই সময় খোলা ম্যানহোলে এক পথচারী পানির স্রোতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গতকাল বুধবার ধানমন্ডি, পান্থপথ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পুরান ঢাকার একাধিক এলাকায় ম্যানহোলের ঢাকনা ছিল না–খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ড্রেন পরিষ্কার করলেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। রাজধানীর প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজব্যবস্থা চালু এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করার পাশাপাশি রাজউক, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও অন্য সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

দায়িত্বে অবহেলাকারী সরকারি সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ঢাকার নদী, খাল ও জলাশয়ের দখলদারদের তালিকা অনেক আগেই নদী রক্ষা কমিশন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের সহযোগী এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী সরকারি সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু বক্তব্য নয়, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শিল্পকারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ইটিপি ছাড়া পরিচালিত কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নদীতীরের অননুমোদিত শিল্পকারখানা নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তর করা জরুরি।

ড. আদিলের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব থাকলে খাল-নদী দখল ও দূষণ বন্ধ হবে না। এর ফলে ঢাকার বাতাস, পানি ও মাটির দূষণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে অন্ধকার নামলে শুরু হয় বালু লুট

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে অন্ধকার নামলে শুরু হয় বালু লুট
সাঙ্গু নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন/ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সাঙ্গু নদী। দিনের বেলায় নদীর চারপাশ নীরব থাকলেও রাত হলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। অন্ধকার নামার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নদী থেকে দেদার বালু উত্তোলন করা হয়। সেই বালু চলে যায় ভিটা ভরাট কিংবা সড়ক সংস্কারের কাজে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হুমকির মুখে পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ও চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর বিভিন্ন অংশে রাতের আঁধারে ইঞ্জিনচালিত বোটের ওপর শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় নদীর চর কেটে বালু লুট করে ডাম্প ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। 

সরেজমিনে ধোপাছড়ি বাজার, শঙ্খরকুল, বড়খোলা, পুরানগড় নতুনহাট, শীলঘাটা, বৈতরণি, কালীনগর ও লতাবুনিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় রাতের আঁধারে সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ভিটা ভরাটের পাশাপাশি সড়ক সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন স্থাপন করা ইঞ্জিনচালিত বোটগুলো তীরেই বেঁধে রাখা হয়েছে। আবার নদীর বেশ কয়েকটি অংশে ভেকুর সাহায্যে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর গর্ত করে চরের বালু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ধোপাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘দিনের বেলায় মানুষ পারাপার ছাড়া নদীতে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। তবে রাত গভীর হলে ড্রেজার, শ্যালো মেশিন, ভেকু ও ডাম্প ট্রাকের আনাগোনা বেড়ে যায়। বালু ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়ার ভয়ে স্থানীয়রা কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এ ছাড়া আমাদের ইউনিয়নটি উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে।’

পুরানগড় ইউনিয়নের বৈতরণি এলাকার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মাঝেমধ্যে নদীর এপারে বোটের ওপর শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ভিটা ভরাট করা হয়। তবে নদীর ওপারে প্রায় সময় রাতের আঁধারে ভেকুর সাহায্যে চর কেটে বালু লুট করা হয়। ওই সময় ভেকু ও ডাম্প ট্রাকের বিকট শব্দে ঘুমানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল গ্রামের যুবক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীর তীর ভাঙনের পাশাপাশি বসতভিটাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ 

স্থানীয় নদী সংরক্ষণ কর্মী নাছির উদ্দিন বলেন, নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এভাবে বালু তুললে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এ ছাড়া নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট। বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছি। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। ধোপাছড়ি এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সার্বক্ষণিক তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা
জলাবদ্ধ ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকার সংগ্রাম, এভাবেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে  রাজধানীর জনজীবন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, অলিগলি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। তীব্র যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা  রয়ে গেছে।

নাগরিক সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক ও পলিথিনে নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি  অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার ঘাটতি–সবগুলোই ভূমিকা রাখছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাম্মী আক্তার সেতু খবরের কাগজকে বলেন, এজন্য দায়ী মূলত জনসচেতনতার অভাব। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেওয়ার কারণে ড্রেনে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের প্রস্তাব তৈরি করা আছে। এখানে ভবন তৈরির সময় কতটুকু খালি রাখতে হবে, রাজধানীর কোথায় বন্যা প্রবাহ এলাকা থাকতে হবে বলা আছে। পরিকল্পনা ও নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় যা আছে তাও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মনিটরিংয়ের অভাব আছে। মূল কথা জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। মনিটরিং করতে হবে। তাহলেই অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করতে পারি।

শাম্মী আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকও দায়ী। ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া, সঠিক উপায়ে রিসাইক্লিং না করাতে জলাবদ্ধতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ ও দেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সবাইকে যার যা দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, পলিথিনের ব্যবহার কমাতে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা বিকল্প পণ্য বাজারে সরবরাহ করা যথেষ্ট নয়। এজন্য মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

কর্মকর্তারা বলেছেন, অনেকের ধারণা পাট পলিথিনের একমাত্র বিকল্প। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। পাট পলিথিনের পরিপূরক হতে পারে। বিকল্প নয়। বিশ্বে যে পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, তার তুলনায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন এখনো অনেক কম। বাংলাদেশে বছরে ১২ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে ৬ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদার জন্য ২ থেকে ৩ লাখ মেট্রিক টন পাট মজুত রাখা হয়। ফলে সব ধরনের পলিথিনের বিকল্প হিসেবে শুধু পাটের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর একসময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল কাঁচা পাট। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার রপ্তানিতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ, পাটপণ্য মেলা এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানায়, পাটের ব্যবহার বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের স্কুলব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে এসব ব্যাগ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এভাবে দেশের প্রায় দেড় কোটি প্রাইমারি শিক্ষার্থীর হাতে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেবে সরকার। সরকার মনে করছে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার শিখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবেই পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব উপলব্ধি করে এর ব্যবহার কমিয়ে আনবে।

তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধু পাটের ব্যাগ বিতরণ বা কম দামে সরবরাহ করলেই মানুষ পলিথিন ব্যবহার ছেড়ে দেবে না। বাজারে যাওয়ার সময় নিজের ব্যাগ সঙ্গে নেওয়ার অভ্যাস, যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার মতো নাগরিক আচরণ গড়ে তুলতে হবে। বেসরকারি খাত ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে সরকারকে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য কোনো একটি সংস্থাকে দায়ী করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ প্রণয়ন করেছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর)’ নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নগর বনায়ন এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ‘থ্রি-আর’ (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) নীতির আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ ধরনের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্ট্র, স্টিরার ও কটন বাডের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সহজলভ্য বিকল্প পণ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। কারণ, নাগরিকরা নিজেরাই যদি পলিথিন ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পরিবেশ রক্ষা যেমন সহজ হবে, তেমনি রাজধানীর জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাও অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

‘আমাগো খবর কেউ রাখে না’ শ্রাবণে কী হবে কড়াইল বস্তিবাসীর!

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
শ্রাবণে কী হবে কড়াইল বস্তিবাসীর!
ছবি: খবরের কাগজ

‘আষাঢ়ই শেষ হয় নাই। শাওন (শ্রাবণ) মাসের বৃষ্টি তো এহনো বাকি। এক-দুই দিন পরই শাওন মাস শুরু হইব। টিভি-পত্রিকা আর ফেসবুক-ইউটুবে (ইউটিউব) তো কেবল মেইন রোডে জমা পানি দেখায়। প্রাইভেট কারের চাক্কা ডুবে গেল–সেটা দেখায়। কিন্তু আমরার বস্তিঘরে যে আড়াই ফুট পানি, সেটা দেখায় না। আমাগো খবর কেউ রাখে না।’

এভাবেই নিজেদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে অসন্তোষ জানাচ্ছিলেন সাইফুল ইসলাম। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তির গুদারা এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। জানালেন ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানদের অন্য বস্তিতে আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

বস্তির বেলতলা এলাকার মো. চাঁদ মিয়াসহ অন্যরাও বললেন, রবিবার (১২ জুলাই) সকালে এখানকার ঘরগুলোতে আড়াই ফুটের মতো বৃষ্টির পানি জমে ছিল। গতকাল বেলা সোয়া তিনটার দিকে বস্তিতে কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় কেউ কেউ তখনো ঘরে জমে থাকা ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ পানি সেচে গলির দিকে ফেলছিলেন। 

আবার  কোনো  কোনো ঘর লোকশূন্য। ভেতরে খাটসহ কিছু আসবাবপত্র আছে। পানিতে ভাসছে সাংসারিক জিনিসপত্র। ঘরে কেউ না থাকার কারণ অন্যরা জানালেন, সন্তানদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে রেখে মা গেছেন বাসা-বাড়ির নিয়মিত কাজে, বাবা গেছেন রিকশা চালাতে, কারণ সংসার তো চালাতে হবে, কাজ ধরে রাখতে হবে।

বউ বাজার এলাকায় কথা হয় জুকরুপা খাতুনের সঙ্গে। জানালেন, তিনি পাশের এলাকা বনানীর একটি বেসরকারি অফিসে ধোয়া-মোছার কাজ করেন। টানা বৃষ্টির কারণে অফিসেও এখন ‘মোছামুছির’ কাজ বেশি। তাই অফিসে ছুটি চাওয়ার মতো পরিস্থিতি নাই, বরং এখন বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। অথচ তার বাসায় এখনো ‘চার-ছয় আঙুল’ পরিমাণ পানি। সেচে জমা পানিটুকু ফেলে দিতে পারলে ঘর শুকিয়ে যেত। সাংসারিক জিনিসপত্র যা নষ্ট হয়েছে, বাকিটা রক্ষা করা যেত।

কড়াইল বস্তিতে অবস্থিত গোডাউন বস্তির আখলাক মিয়া বললেন, ‘ইউটিউব আর টিভিতেই কেবল দেখি মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করতেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কাউরে তো সহযোগিতা পাইতে শুনলাম না।’

বাইদার বস্তির সোলেমান মুন্সি বললেন, ‘কাইলকার (রবিবার) পানি তো আইজকা নাইমা গেল। কিছু কিছু বাকি। কিন্তু আইজকা যদি আবার ওই রকম বৃষ্টি অয়, তয় কী অইব!’

এরশাদনগরের খুরশিদা বেগম টিনের চালে বাঁধা দড়িতে ভেজা কাপড় ছড়াতে ছড়াতে জানালেন, কড়াইল বস্তিতে তিনি ২২ বছর ধরে আছেন। বললেন, এখানে ‘আজাব, আর মাইনষ্যের আগুন’ কখন যে শুরু হয়, তার ঠিক নাই। ব্যাখ্যা করে বললেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। পাকা বাড়ির চেয়ে এখানে শীত-গরম সবই বেশি। আর কে যে কখন কোন কারণে বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেয়, তার ঠিক নাই। ‘কয় আগুন লাইগা গেছে।’