ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে স্বাস্থ্যচুক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন শিক্ষার্থীরা শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও বন্যায় সবচেয়ে বেশি জরুরি শিশু সুরক্ষা সংগঠন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই সাধারণ নয়: ম্যারাডোনা জুনিয়র হামে আরও ৭ প্রাণহানি, উদ্বেগ বাড়ছে মেসির শতভাগ জয়ের রেফারি এবার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর কানসাসকে ধন্যবাদ জানালো মেসি জুলাই আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত, নতুন গণআন্দোলনের ইঙ্গিত জিএম কাদেরের উত্তরায় ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ঘোষণা দিয়ে আবারও সড়ক অবরোধ বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা: কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঢাকা পলিটেকনিকের সুরাইয়ার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ বোদায় বিস্কুটের প্রলোভনে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, তারপর... শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কিভাবে স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন? যৌতুক ছাড়া আসেননি বর রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ফুলবাড়ীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রেললাইন অবরোধ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর ডাচ রেফারির মৃত্যু জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের টঙ্গী কমিটির যাত্রা শুরু

শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা
জলাবদ্ধ ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকার সংগ্রাম, এভাবেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে  রাজধানীর জনজীবন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, অলিগলি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। তীব্র যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা  রয়ে গেছে।

নাগরিক সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক ও পলিথিনে নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি  অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার ঘাটতি–সবগুলোই ভূমিকা রাখছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাম্মী আক্তার সেতু খবরের কাগজকে বলেন, এজন্য দায়ী মূলত জনসচেতনতার অভাব। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেওয়ার কারণে ড্রেনে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের প্রস্তাব তৈরি করা আছে। এখানে ভবন তৈরির সময় কতটুকু খালি রাখতে হবে, রাজধানীর কোথায় বন্যা প্রবাহ এলাকা থাকতে হবে বলা আছে। পরিকল্পনা ও নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় যা আছে তাও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মনিটরিংয়ের অভাব আছে। মূল কথা জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। মনিটরিং করতে হবে। তাহলেই অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করতে পারি।

শাম্মী আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকও দায়ী। ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া, সঠিক উপায়ে রিসাইক্লিং না করাতে জলাবদ্ধতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ ও দেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সবাইকে যার যা দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, পলিথিনের ব্যবহার কমাতে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা বিকল্প পণ্য বাজারে সরবরাহ করা যথেষ্ট নয়। এজন্য মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

কর্মকর্তারা বলেছেন, অনেকের ধারণা পাট পলিথিনের একমাত্র বিকল্প। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। পাট পলিথিনের পরিপূরক হতে পারে। বিকল্প নয়। বিশ্বে যে পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, তার তুলনায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন এখনো অনেক কম। বাংলাদেশে বছরে ১২ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে ৬ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদার জন্য ২ থেকে ৩ লাখ মেট্রিক টন পাট মজুত রাখা হয়। ফলে সব ধরনের পলিথিনের বিকল্প হিসেবে শুধু পাটের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর একসময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল কাঁচা পাট। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার রপ্তানিতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ, পাটপণ্য মেলা এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানায়, পাটের ব্যবহার বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের স্কুলব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে এসব ব্যাগ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এভাবে দেশের প্রায় দেড় কোটি প্রাইমারি শিক্ষার্থীর হাতে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেবে সরকার। সরকার মনে করছে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার শিখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবেই পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব উপলব্ধি করে এর ব্যবহার কমিয়ে আনবে।

তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধু পাটের ব্যাগ বিতরণ বা কম দামে সরবরাহ করলেই মানুষ পলিথিন ব্যবহার ছেড়ে দেবে না। বাজারে যাওয়ার সময় নিজের ব্যাগ সঙ্গে নেওয়ার অভ্যাস, যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার মতো নাগরিক আচরণ গড়ে তুলতে হবে। বেসরকারি খাত ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে সরকারকে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য কোনো একটি সংস্থাকে দায়ী করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ প্রণয়ন করেছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর)’ নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নগর বনায়ন এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ‘থ্রি-আর’ (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) নীতির আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ ধরনের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্ট্র, স্টিরার ও কটন বাডের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সহজলভ্য বিকল্প পণ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। কারণ, নাগরিকরা নিজেরাই যদি পলিথিন ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পরিবেশ রক্ষা যেমন সহজ হবে, তেমনি রাজধানীর জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাও অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা
জলাবদ্ধ ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকার সংগ্রাম, এভাবেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে  রাজধানীর জনজীবন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, অলিগলি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। তীব্র যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা  রয়ে গেছে।

নাগরিক সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক ও পলিথিনে নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি  অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার ঘাটতি–সবগুলোই ভূমিকা রাখছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাম্মী আক্তার সেতু খবরের কাগজকে বলেন, এজন্য দায়ী মূলত জনসচেতনতার অভাব। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেওয়ার কারণে ড্রেনে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের প্রস্তাব তৈরি করা আছে। এখানে ভবন তৈরির সময় কতটুকু খালি রাখতে হবে, রাজধানীর কোথায় বন্যা প্রবাহ এলাকা থাকতে হবে বলা আছে। পরিকল্পনা ও নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় যা আছে তাও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মনিটরিংয়ের অভাব আছে। মূল কথা জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। মনিটরিং করতে হবে। তাহলেই অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করতে পারি।

শাম্মী আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকও দায়ী। ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া, সঠিক উপায়ে রিসাইক্লিং না করাতে জলাবদ্ধতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ ও দেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সবাইকে যার যা দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, পলিথিনের ব্যবহার কমাতে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা বিকল্প পণ্য বাজারে সরবরাহ করা যথেষ্ট নয়। এজন্য মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

কর্মকর্তারা বলেছেন, অনেকের ধারণা পাট পলিথিনের একমাত্র বিকল্প। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। পাট পলিথিনের পরিপূরক হতে পারে। বিকল্প নয়। বিশ্বে যে পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, তার তুলনায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন এখনো অনেক কম। বাংলাদেশে বছরে ১২ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে ৬ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদার জন্য ২ থেকে ৩ লাখ মেট্রিক টন পাট মজুত রাখা হয়। ফলে সব ধরনের পলিথিনের বিকল্প হিসেবে শুধু পাটের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর একসময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল কাঁচা পাট। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার রপ্তানিতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ, পাটপণ্য মেলা এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানায়, পাটের ব্যবহার বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের স্কুলব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে এসব ব্যাগ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এভাবে দেশের প্রায় দেড় কোটি প্রাইমারি শিক্ষার্থীর হাতে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেবে সরকার। সরকার মনে করছে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার শিখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবেই পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব উপলব্ধি করে এর ব্যবহার কমিয়ে আনবে।

তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধু পাটের ব্যাগ বিতরণ বা কম দামে সরবরাহ করলেই মানুষ পলিথিন ব্যবহার ছেড়ে দেবে না। বাজারে যাওয়ার সময় নিজের ব্যাগ সঙ্গে নেওয়ার অভ্যাস, যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার মতো নাগরিক আচরণ গড়ে তুলতে হবে। বেসরকারি খাত ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে সরকারকে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য কোনো একটি সংস্থাকে দায়ী করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ প্রণয়ন করেছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর)’ নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নগর বনায়ন এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ‘থ্রি-আর’ (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) নীতির আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ ধরনের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্ট্র, স্টিরার ও কটন বাডের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সহজলভ্য বিকল্প পণ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। কারণ, নাগরিকরা নিজেরাই যদি পলিথিন ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পরিবেশ রক্ষা যেমন সহজ হবে, তেমনি রাজধানীর জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাও অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

‘আমাগো খবর কেউ রাখে না’ শ্রাবণে কী হবে কড়াইল বস্তিবাসীর!

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
শ্রাবণে কী হবে কড়াইল বস্তিবাসীর!
ছবি: খবরের কাগজ

‘আষাঢ়ই শেষ হয় নাই। শাওন (শ্রাবণ) মাসের বৃষ্টি তো এহনো বাকি। এক-দুই দিন পরই শাওন মাস শুরু হইব। টিভি-পত্রিকা আর ফেসবুক-ইউটুবে (ইউটিউব) তো কেবল মেইন রোডে জমা পানি দেখায়। প্রাইভেট কারের চাক্কা ডুবে গেল–সেটা দেখায়। কিন্তু আমরার বস্তিঘরে যে আড়াই ফুট পানি, সেটা দেখায় না। আমাগো খবর কেউ রাখে না।’

এভাবেই নিজেদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে অসন্তোষ জানাচ্ছিলেন সাইফুল ইসলাম। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তির গুদারা এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। জানালেন ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানদের অন্য বস্তিতে আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

বস্তির বেলতলা এলাকার মো. চাঁদ মিয়াসহ অন্যরাও বললেন, রবিবার (১২ জুলাই) সকালে এখানকার ঘরগুলোতে আড়াই ফুটের মতো বৃষ্টির পানি জমে ছিল। গতকাল বেলা সোয়া তিনটার দিকে বস্তিতে কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় কেউ কেউ তখনো ঘরে জমে থাকা ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ পানি সেচে গলির দিকে ফেলছিলেন। 

আবার  কোনো  কোনো ঘর লোকশূন্য। ভেতরে খাটসহ কিছু আসবাবপত্র আছে। পানিতে ভাসছে সাংসারিক জিনিসপত্র। ঘরে কেউ না থাকার কারণ অন্যরা জানালেন, সন্তানদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে রেখে মা গেছেন বাসা-বাড়ির নিয়মিত কাজে, বাবা গেছেন রিকশা চালাতে, কারণ সংসার তো চালাতে হবে, কাজ ধরে রাখতে হবে।

বউ বাজার এলাকায় কথা হয় জুকরুপা খাতুনের সঙ্গে। জানালেন, তিনি পাশের এলাকা বনানীর একটি বেসরকারি অফিসে ধোয়া-মোছার কাজ করেন। টানা বৃষ্টির কারণে অফিসেও এখন ‘মোছামুছির’ কাজ বেশি। তাই অফিসে ছুটি চাওয়ার মতো পরিস্থিতি নাই, বরং এখন বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। অথচ তার বাসায় এখনো ‘চার-ছয় আঙুল’ পরিমাণ পানি। সেচে জমা পানিটুকু ফেলে দিতে পারলে ঘর শুকিয়ে যেত। সাংসারিক জিনিসপত্র যা নষ্ট হয়েছে, বাকিটা রক্ষা করা যেত।

কড়াইল বস্তিতে অবস্থিত গোডাউন বস্তির আখলাক মিয়া বললেন, ‘ইউটিউব আর টিভিতেই কেবল দেখি মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করতেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কাউরে তো সহযোগিতা পাইতে শুনলাম না।’

বাইদার বস্তির সোলেমান মুন্সি বললেন, ‘কাইলকার (রবিবার) পানি তো আইজকা নাইমা গেল। কিছু কিছু বাকি। কিন্তু আইজকা যদি আবার ওই রকম বৃষ্টি অয়, তয় কী অইব!’

এরশাদনগরের খুরশিদা বেগম টিনের চালে বাঁধা দড়িতে ভেজা কাপড় ছড়াতে ছড়াতে জানালেন, কড়াইল বস্তিতে তিনি ২২ বছর ধরে আছেন। বললেন, এখানে ‘আজাব, আর মাইনষ্যের আগুন’ কখন যে শুরু হয়, তার ঠিক নাই। ব্যাখ্যা করে বললেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। পাকা বাড়ির চেয়ে এখানে শীত-গরম সবই বেশি। আর কে যে কখন কোন কারণে বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেয়, তার ঠিক নাই। ‘কয় আগুন লাইগা গেছে।’

ভাসমান ছেঁড়া স্যান্ডেলে ইঁদুরের আশ্রয়: যেন বন্যার্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ভাসমান ছেঁড়া স্যান্ডেলে ইঁদুরের আশ্রয়: যেন বন্যার্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি
ছেঁড়া স্যান্ডেলে ইঁদুর যেন বন্যার্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি। ছবি: খবরের কাগজ

চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও নেই এক চিলতে শুকনো মাটি। সেই উত্তাল পানির মাঝখানে ভাসছে একটি ছেঁড়া স্যান্ডেল। আর সেই স্যান্ডেলের ওপর ভিজে জবুথবু হয়ে বসে আছে একটি ইঁদুর। যেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রাণপণ চেষ্টা করছে প্রাণীটি।

গত রবিবার রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়। এ যেন দুর্যোগে টিকে থাকার অবিরাম সংগ্রামের প্রতীক। বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, অলিগলি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। তবে এই দুর্যোগের আরেকটি নীরব অধ্যায় হচ্ছে অসংখ্য পশুপাখি ও ছোট ছোট প্রাণীর দুর্ভোগ। ধারণা করা যায়, পানির তোড়ে অনেক প্রাণীর আশ্রয়স্থল ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে খাদ্যের উৎস। নিশ্চয়ই কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, পাখি থেকে শুরু করে অসংখ্য ছোট-বড় প্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে। অনেকেই হয়তো বাঁচতে পারছে না, আবার কেউ কেউ একটি ভাসমান কাঠ, প্লাস্টিক কিংবা এই ছবির ইঁদুরটির মতো একটি ছেঁড়া স্যান্ডেলকে জীবন রক্ষার শেষ অবলম্বন বানিয়েছে। 

ছেঁড়া স্যান্ডেলের ওপর ইঁদুরের বসে থাকার দৃশ্যটি দুর্যোগে আশ্রয়হীন মানুষের সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। যাদের অনেকেই এখন একটি উঁচু জায়গা, একমুঠো শুকনো খাবার কিংবা মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় দিন পার করছেন। প্রকৃতির এই নির্মম সময়ে ছবিটি যেন একটাই বার্তা দেয় বেঁচে থাকা মানেই সংগ্রাম। আর সেই সংগ্রামে মানুষ ও প্রাণী, উভয়েই আজ একই স্রোতের যাত্রী।

পে-স্কেল বাস্তবায়নে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
পে-স্কেল বাস্তবায়নে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতিতে আছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তাও জানতে চেয়েছে দাতা সংস্থাটি। 

সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে গত দুই দিনের বিভিন্ন বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে আইএমএফ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে গেছে। আর এটি বাস্তবায়নের দায় চেপেছে বর্তমান সরকারের কাঁধে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতিতেও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন বড় ধরনের চাপ হলেও বিএনপি সরকারের পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। এরই মধ্যে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় আইএমএফের কাছ থেকে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পালাবদল, অর্থনীতির নীতিগত কাঠামো পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, যা নতুন করে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে সরকার। ঢাকা সফর শেষে প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে।

প্রতিবেদন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরের বার্ষিক সভার পর চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আরেকটি দল আসবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এই নতুন ঋণ ছাড় শুরু হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন ঋণ পেতে হলে সরকারকে রাজস্ব আদায়ে সফলতা দেখাতে হবে। নিয়মিত খরচের পাশাপাশি সরকারের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার বাড়তি অর্থের জোগাড়ে চাপ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কৌশল কী তা দাতা সংস্থাকে বিস্তারিত জানাতে হয়েছে। 

এবারের বিভিন্ন বৈঠকে আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারি বেতন বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। বেসরকারি খাতের কর্মীদের সংকট বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতেও বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে শিল্প-বিনিয়োগ-ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। ফলে সরকারি খাতে বেতন বাড়লে বেসরকারি উদ্যোক্তারা চাপে পড়তে পারেন বলে আইএমএফ থেকে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সরকার বাড়তি অর্থের জোগান কোথা থেকে দেবে এবং এর ফলে বাজেট ঘাটতি বা মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিপুল পরিমাণ সরকারি বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেলে বাজারে তারল্য বা অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায়, যা মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে। এই বাড়তি ব্যয়ের ফলে অর্থনীতির ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, সে সম্পর্কে আইএমএফ বিশদ ব্যাখ্যা চেয়েছে। সরকার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারবে কি না এবং রাজস্ব ঘাটতি রেখে কীভাবে এই বিশাল ব্যয়ের সমন্বয় করা হবে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আইএমএফকে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজারের লেনেদেন গড়ে উত্থান দেখা দিয়েছে। 

রবিবার (১২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর বাজারটিতে সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

আইএমএফকে জানানো হয়েছে, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভালো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন। সরকার বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে নজর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য আমদানি বাড়াতে চলতি বাজেটে করছাড় দেওয়া হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর হয়েছে। পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বাড়াতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। বেসরকারি খাতের বন্ধ কারখানা চালু করতেও সরকার সহায়তা করছে। ব্যাংক খাতে আগের চেয়ে স্থিতিশীলতা এসেছে। অর্থনীতিতে অনেক সৃজনশীল খাত যুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। সবকিছু মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে–এমন আশা প্রকাশ করে আইএমএফকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। শুধু তা-ই নয়, এরই মধ্যে অনেক রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। শুল্কসংক্রান্ত কর ফাঁকির দায়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০২টি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯২টি মামলা। এসব মামলা থেকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করবে। আরও শুল্ক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। একই সঙ্গে আয়কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব খাত থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সরকারের বাড়তি অর্থ জোগাড় হবে বলে আইএমএফকে জানানো হয়েছে। 

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঋণচুক্তি চূড়ান্ত করার আগে আইএমএফের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা চাওয়া খারাপ কিছু নয়। সরকারকে এই নিশ্চয়তা দিয়েই ঋণ নিতে হবে। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকা খুব স্বাভাবিক। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও আইএমএফ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে সরকারকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের নিশ্চয়তা দিতে হতে পারে। আইএমএফ সন্তুষ্ট হলে তবে নতুন ঋণচুক্তি হওয়ার কথা। 

সোমবার (১৩ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের আর্থিক খাত, শেয়ারবাজার সংস্কার এবং কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও এ পর্যন্ত আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। 

সংবিধান সংশোধন-সংস্কার: মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ এএম
সংবিধান সংশোধন-সংস্কার: মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

সংবিধান ‘সংশোধন’ নাকি ‘সংস্কার’–এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি, বরং ‘ক্ষত’ গভীরতর হয়েছে।

জুলাই সনদের সাংবিধানিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের কাছেও এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য নাম চাওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট শুরু থেকেই এ ধরনের কমিটির বিরোধিতা করেছে। দলগুলো ঘোষণা করেছে, এই কমিটিতে কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হবে না। বারবার সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো সত্ত্বেও আগের ঘোষণায় অনড় বিরোধীদলীয় জোট। তাদের দাবি, গণভোটে জনগণ সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং মৌলিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই সংবিধান সংশোধন কমিটি নয়, আগে গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। 

সরকার ও বিরোধী জোটের এমন মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও চলমান বাজেট অধিবেশন শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সর্বদলীয় ঐকমত্যই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ। এ ছাড়া সমঝোতা না হলে শুধু কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক নয়, জুলাই সনদের সাংবিধানিক বাস্তবায়নও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ বিধির আওতায় ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কমিটির দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে–জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনী বিলের খসড়া প্রস্তুত করে সংসদে সুপারিশ পাঠানো। গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সরকারি দলের সাতজন সদস্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের মধ্যে বিরোধী দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এবং অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে নাম চাওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করা।

কমিটি গঠনের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইলে সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘কমিটি গঠনের সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বের অনুপাত বিবেচনায় রেখে কমিটিতে সব ধারার রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধি তালিকা পেলেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হবে।

সরকারের অবস্থান: সংশোধনই সাংবিধানিক পথ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট–সনদের সাংবিধানিক বিষয়গুলো সংসদের মাধ্যমে সংশোধনের বিকল্প নেই। গত ১ এপ্রিল সর্বদলীয় বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়েই সংবিধান সংশোধনের কাজ করতে চায়। সে লক্ষ্যেই বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ, যে কমিটিতে বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘সংস্কার যা হওয়ার হয়েছে, এখন হবে সংবিধান সংশোধন।’ তার মতে, জুলাই সনদের সুপারিশগুলোকে সাংবিধানিক রূপ দিতে সংসদীয় সংশোধন ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর পথ নেই। তিনি এখনো আশাবাদী, বিরোধী দলগুলো শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি দেবে, আলোচনায় অংশ নেবে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতেই পুরো প্রক্রিয়া এগোবে।

সংস্কার পরিষদের দাবিতে অনড় বিরোধী জোট

সরকারের এই উদ্যোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংশোধন একটি নিয়মিত সংসদীয় প্রক্রিয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ জনগণ গণভোটে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই গণরায় উপেক্ষা করে কেবল সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে বিষয়টির ফয়সালা রাজপথেই হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে জামায়াত কোনো প্রতিনিধি দেবে না।

জামায়াতের অবস্থানের সঙ্গে এ বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সরকারের প্রথম দায়িত্ব ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পালন না করে যদি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে সেখানে এনসিপির কোনো প্রতিনিধি থাকবে না। আমরা চাই গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় আমরা অংশ নেব না।’

সংসদে বিতর্ক, কিন্তু সমাধান অধরাই

মার্চের শেষ সপ্তাহে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে সংসদে দীর্ঘ বিতর্ক হয়। সরকার বিশেষ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দিলেও বিরোধী দল সংস্কার পরিষদ গঠন এবং আলোচনায় সমান প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলে। পরে এ ইস্যুতে বিরোধী দল ওয়াকআউটও করে। এরপর সরকার কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিলেও বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধি না পাওয়ায় তা আর এগোয়নি। চলমান বাজেট অধিবেশনের শেষ পর্যায়েও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু শুধু শব্দগত নয়; বরং গণভোটের রায়ের ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে। আসলে সংবিধানের যেকোনো মৌলিক বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনে সর্বসম্মত রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা খুব কঠিন হবে। আর সে কারণে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতা ছাড়া সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব খাটিয়ে সংবিধান সংশোধন-সংস্কার বিতর্কের দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া মনে করেন, সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার–এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা সংসদ। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট পুনর্বহালের প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না দিয়ে আদালত বিষয়টিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নেও সংসদীয় আলোচনাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরও বলেন, বর্তমান সংবিধানের অধীনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংশোধনের সাংবিধানিক সুযোগ সরকারের রয়েছে। তবে সংবিধানের মতো মৌলিক বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ঐকমত্যে পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সেই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করতে হবে। বিরোধী দল প্রতিনিধি না দিলে সরকার সাংবিধানিকভাবে এগোতে পারলেও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। 

ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে সরকারের প্রস্তাবিত ১৭ সদস্যের বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন, সংবিধান সংশোধনী বিল প্রণয়ন এবং জুলাই সনদের সাংবিধানিক বাস্তবায়ন–পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।