নাটোরের লালপুরের যুবলীগ নেতা খায়রুল ইসলাম হত্যা মামলায় জামায়াত-শিবিরের ১৩ নেতাকর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এদিকে, একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৫৪ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- নাটোর উপজেলার পুকুরপাড়া চিলান গ্রামের মো. সেকেন্দারের ছেলে মো. করিম, মো. বানু সরদারের ছেলে মতি সরদার, কদিমচিলান গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ প্রিন্স, পুকুরপাড়া চিলান গ্রামের মো. তৈয়ব সরদারের ছেলে মো. মকলেছ সরদার, মো. মকলেছ সরদারের ছেলে মহসিন সরদার, মো. সেকেন্দারের ছেলে মো. খলিল, মো. রুস্তম আলীর ছেলে মো. রানা, মো. ফরজের ছেলে মো. আনিসুর, লুৎফর প্রাংয়ের ছেলে মো. রাজ্জাক, মো. শাহজাহানের ছেলে মো. জার্জিস, কদিমচিলান গ্রামের মো. আন্দারুর ছেলে মো. কালাম, মো. মাজদারের ছেলে মো. মিজানুর রহমান, পুকুরপাড়া চিলান গ্রামের মো. কুদ্দুস প্রাংয়ের ছেলে মো. সানা প্রাং। তারা সবাই জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং বর্তমানে সবাই পলাতক রয়েছেন।
তাদের মধ্যে মহসিন নাটোর জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি এবং তার পিতা মকলেছ সরদার কদম চিলান ইউনিয়ন জামায়াতের বর্তমান আমির।
রায় ঘোষণার পর রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের সবার বিরুদ্ধে আনিত পেনাল কোডের (দণ্ডবিধির) ১৮৬০ এর ১৪৯ ও ৩০২ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এর দায়ে তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই রায়ে এই ১৩ আসামিকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডিতদের মধ্যে ১৩ জন আসামিই পলাতক। তাই তাদের বিরুদ্ধে সাজামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দণ্ডিত আসামিদের কেউ এই মামলার সংশ্রবে হাজতবাস করে থাকলে তা মূল সাজা থেকে বাদ যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়। আর দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের জামিনদারদের কাছ থেকে জামানতের অর্থ আদায়ের জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ৫১৪ ধারার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মামলার ঘোষিত রায়ে।
তিনি আরও জানান, ২০১৩ সালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পর নাটোরের বড়াই গ্রামে যুবলীগ নেতা খায়রুলকে হত্যা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। দীর্ঘ ১০ বছর পর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা নাটোরের লালপুর উপজেলার কদমচিলান ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় ওই এলাকার কয়েকটি বাড়ি ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুট করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এই মামলার মোট আসামি ছিলেন ৬৭ জন। এর মধ্যে তিনজন মারা যাওয়ায় তারা এমনিতেই খালাস। বাকি ছিলেন ৬৪ জন। এর মধ্যে ১৩ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাই খালাসের মোট সংখ্যা ৫৪ জন।
এনায়েত করিম/অমিয়/