রাজধানীর সাঁতারকুল বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে ৭ দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে থাকা আয়ান মারা গেছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনস্বার্থে এ রিট করেন অ্যাডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। রিটে এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১ কোটি টাকা দিতে ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতি নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত ডাক্তারদের সনদ বাতিলসহ হাসপাতালেরও নিবন্ধন বাতিলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
টানা সাত দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত রবিবার মধ্যরাতে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সন্তান হারানোর শোকে পাগলপ্রায় আয়ানের পরিবার।
গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর সাঁতারকুল ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে ভর্তি করা হয় শিশু আয়ানকে। অনুমতি ছাড়াই জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া (পূর্ণ অজ্ঞান) দিয়ে খতনা করান চিকিৎসক। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি শিশুটির। আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক আমাদের ডেকে বলেন যে, দুনিয়াতে আয়ান আর নেই। তারা খুব তড়িঘড়ি করে আমাদের বের করে দেন।’
আয়ানের পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় এমন ঘটনার পর অবস্থা বেগতিক দেখে সাঁতারকুল ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ থেকে আয়ানকে পাঠানো হয় গুলশান-২ ইউনাইটেড হাসপাতালে। এমনকি প্রথমে ১০ হাজার টাকার প্যাকেজে অপারেশনের কথা থাকলেও বিল ধরানো হয় প্রায় ছয় লাখ টাকা। আয়ানের চাচা জামিল খান বলেন, ‘আয়ান যদি দুনিয়াতে থাকত, তবে পুরো ৬ লাখ টাকাই নিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখনো তারা আমাদের কাছে এই বিলটাই চাচ্ছে। তারা বলছেন, এখন আপনারা চলে যান, বিলটা পরিশোধের জন্য পরে এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
স্বজনরা জানান, আয়ানের সুন্নতে খতনার দিন অপারেশন থিয়েটারে মূলত ওই মেডিকেল কলেজের ৪০ থেকে ৫০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক ভেতরে ছিলেন। আয়ানের দাদা আব্দুস সালাম কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খতনার কাজ করেছেন ডাক্তার মেহেরজেবিন। অ্যানেস্থেসিয়া বেশি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে তিনি এক ঘণ্টা ক্লাস নেওয়াতে আমার নাতি এভাবে মারা গেল।’ আয়ানের মামা রাসেল বলেন, ‘ডাক্তার কী ওষুধ ব্যবহার করেছেন, সে সবকিছু লিখা আছে। ফাইলটা এখানে নিয়ে এসেছি। কিন্তু আজকে যখন ওই ফাইলটা চাইলাম, তখন সেটা দেখছি গায়েব করে ফেলেছে।’ শিশু মৃত্যুর অভিযোগ এড়িয়ে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় চাপাচ্ছে সাঁতারকুল ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজের ওপর। গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালের নন-মেডিকেল ডিউটি ম্যানেজার সানাউল্লাহ কবির জানান, প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনাসহ পুরো প্রক্রিয়াতেই দুই প্রতিষ্ঠান আলাদা।
এদিকে এ ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এমএ/