ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী মো. শাহীনুর আলম ইকবাল (১৯) হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার এবং কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজনকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১) ও শামছুল হক (৪৪), মো. গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম (২৪), হাজি আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আব্দুল হেলিম (৫১), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছা. খালেদা আক্তার (৪৯) ও মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলুর স্ত্রী মোছা. রেহেনা খাতুন (৪৮)।
নিহত শাহীনুর আলম ইকবাল ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক পীরজাদা মোস্তাছিনুর রহমান।
মামলার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের ৫ জুন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের পালাশকান্দা গ্রামে একটি সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে শাহীনুর আলম ইকবালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৩১ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চা খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন শাহীনুর। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে শাহীনুরের মরদেহ উদ্ধারের পর তারাকান্দা থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই সেলিম মিয়া। পরবর্তী সময়ে পুলিশ মামলার তদন্ত করে অভিযুক্তদের নামে চার্জশিট দেয়।’
আসামিপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন।’
কামরুজ্জামান/এসজি/