গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে জাতির পিতার সমাধিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়া আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা হেলিকপ্টারটি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পরে ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে ১০টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান রাষ্ট্রপাতি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে স্বাগত জানান।
১০টা ৩৮ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বেদিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বেজে ওঠে বিগউলের সুর।
পরে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতিহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধু ভবনে রক্ষিত মন্তব্য বইয়ে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতি ঢাকায় ফিরে যান।
এরপর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রধান হিসেবে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, বাহাউদ্দিন নাসিম, মোহাম্মদ ফারুক খান, শামসুল হক টুকু, আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবুল আলম হানিফ, খায়রুজ্জামান লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান, সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাব উদ্দিন আজম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বশার খায়ের, সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুলসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বেলা ১১টায় সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের ১ নম্বর গেটে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা শহরের মালেকা একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পিয়াসা জামিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিশু সমাবেশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারক, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি বক্তব্য রাখবেন।
এরপর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার, অসচ্ছল মেধাবী শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারক উপহার দেওয়া হবে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী দর্শক সারিতে বসে শিশুদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন এবং শিশুদের সঙ্গে ফটোসেশন করবেন।
এরপর জাতির পিতার সমাধি প্রাঙ্গণে আয়োজিত বইমেলা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রীয় সব কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
> বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
বাদল সাহা/অমিয়/