ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মাঝেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব

‘রোজ গার্ডেন’ ক্রয়: শেখ হাসিনার ইচ্ছাপূরণে ক্ষতি ৩৩২ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৩ পিএম
‘রোজ গার্ডেন’ ক্রয়: শেখ হাসিনার ইচ্ছাপূরণে ক্ষতি ৩৩২ কোটি টাকা
রোজ গার্ডেন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণে কেনা হয় রাজধানীর পুরান ঢাকার ‘রোজ গার্ডেন’ নামে একটি বাড়ি। বাড়িটি কিনতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা। বাড়িটি কেনা, দলিল রেজিস্ট্রি ও মূল্য পরিশোধে পরতে পরতে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদকের সহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে বিশেষ টিম। দুদক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে রোজ গার্ডেন কেনার ক্ষেত্রে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। যাবতীয় তথ্য প্রমাণ সংগ্রহে গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম। 

জানা গেছে, ওই বাড়িটি কিনতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণে সরকারি ক্রয় আইনসহ প্রচলিত তিনটি আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে বাড়িটির মূল্য পরিশোধের পাশাপাশি মালিককে অতিরিক্ত হিসেবে গুলশানের উচ্চ মূল্যের একটি সরকারি বাড়িও দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ অনুসারে, ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই বাড়িটিকে ‘পুরাকীর্তি’ দেখিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা (গুলশানের সরকারি বাড়ির মূল্যসহ) গচ্চা দেওয়ার ওই ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক সচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শহীদ উল্লা খন্দকার প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। বাড়িটি কিনতে অর্থছাড়ের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং দফায় দফায় দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন পলাতক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। কেনার পর বাড়িটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেন তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। কেনার সময় নথিতে বাড়িটিকে ‘রোজ গার্ডেন’ হিসেবে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির নাম ছিল ‘রশিদ মঞ্জিল’। বাড়ির মূল মালিক হুমায়ূন রশিদের নাম অনুসারে নামফলকেও রশিদ মঞ্জিল লেখা ছিল। 

২০১৮ সালের শুরুতে শেখ হাসিনা নিজের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে রোজ গার্ডেন নামের বাড়িটি অধিগ্রহণের নির্দেশ দেন। নির্দেশনাপত্রে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাড়িটি ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। শেখ হাসিনার অভিপ্রায় তুলে ধরে কাজী আবদুর রকিবের মালিকানাধীন বাড়িটি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়ে ওই বছরের ৪ এপ্রিল গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ। বাড়িটি কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর এর দাম নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, আশপাশের এলাকা ও অন্যান্য জমির দাম পর্যালোচনা করে বাড়িটির দাম ১০৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা হতে পারে বলে প্রতিবেদন দেয়। পরবর্তী সময়ে বাড়ির মালিকের আপত্তি ও তার অমতের কথা উল্লেখ করে দাম ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার্য করা হয়। বাড়িটি কেনার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ২৪ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ পাঠায়। শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে ওই সারসংক্ষেপ অনুমোদন করে বাড়িটি কেনার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বাড়ির মালিককে ক্ষতিগ্রস্ত উল্লেখ করে মূল্যের অতিরিক্ত হিসেবে গুলশানের ১১৬ নম্বর রোডের সিইএস (এ)-৮-এর ১১ নম্বর হোল্ডিংয়ের এক বিঘা (২০ কাঠা) আয়তনের সরকারি বাড়িটি বরাদ্দের নির্দেশ দেন। ধারণা করা হয় এই বাড়িটির মূল্য অন্তত ২০০ কোটি টাকা। যদিও ওই বাড়িটি তাকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বিনামূল্যেই দেওয়া হয়। রোজ গার্ডেনের মালিককে ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার্য করার পর ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়ে নথিতে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে রোজ গার্ডেনের মালিক মৃত কাজী আবদুর রকিবের পরিবার কত টাকা বুঝে পেয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

প্রতীকী মূল্য ১০০১ টাকায় মালিকানা পায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের রোজ গার্ডেনসংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়িটি যেহেতু আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই এটাকে সংরক্ষণ করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ শেখ হাসিনার অনুমোদনের জন্য পাঠায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেখানে ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ও বিক্রেতাকে গুলশানে ২০ কাঠার একটি বাড়ি দলিল করে দেওয়ার বিনিময়ে নেওয়া রোজ গার্ডেনের প্রতীকী দাম নির্ধারণ করা হয় ১০০১ টাকা। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর বাড়িটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দলিল করে ওই প্রতীকী দামে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে দেয়।

সারসংক্ষেপ তৈরির সঙ্গে যুক্ত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাড়িটি ১৯৮৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে সরকারের গেজেটভুক্ত করা হয়। বাড়িটির মালিক হাইকোর্টে রিট করলে গেজেট বাতিল করে বাড়িটি যথাযথ মালিকের ব্যক্তিগত মালিকানায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই থেকে কাজী আবদুর রকিব বাড়িটি ভোগদখল করে আসছিলেন। পুরাকীর্তি দেখিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই বাড়িটি বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের প্রাথির্তা বৈধ এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সব আইনি বাধা দূর হয়। এরপর আদালতের রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব আইনি বাধা দূর হয়।

এলিস/এএফ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।

শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

এসএন/

‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া নিষিদ্ধের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিল এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’—এই দুটি বেসরকারি বিল উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অনুরোধে তিনি বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিল দুটির উদ্দেশ্য বিদ্যমান আইনেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

এছাড়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মদ্যপান ও মদ্যজাতীয় পানীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই নতুন করে একই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, যেহেতু বিলের প্রস্তাবক আইনমন্ত্রীর অনুরোধে বিল উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, তাই বিল দুটি ভোটে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রত্যাহার হওয়া ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিলে বলা হয়েছিল, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ এবং তরুণ সমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার বিধান করা প্রয়োজন।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়, মদ্যপান ও জুয়ার আসক্তি তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার উন্নয়নে এ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলে ময়নাতদন্তের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। এতে বিশেষ করে নারীদের মরদেহ পর্দার আড়ালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা এবং সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের সুযোগ রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এলিস/এএফ

৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি
খবরের কাগজ ইনেফোগ্রাফিক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় বড় ধরনের সংশোধনী এনে ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ানো, ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা আগেভাগে প্রকাশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপনের বিধান রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়সূচি জানান।

এতে বলা হয়, ৩১ জুলাই ২০০৮ বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী এবং ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ৪ আগস্টের মধ্যে খসড়া তালিকার পিডিএফ মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হবে, ৯ আগস্ট খসড়া প্রকাশ, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি-আপত্তি গ্রহণ, ২৭ আগস্ট নিষ্পত্তি এবং ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন। 

অন্যদিকে, ভোটকক্ষ বরাদ্দের নিয়মে বড় পরিবর্তন এনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্থাটি।

গত ৭ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের যে কোনো সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন— উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। আগে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪০০ এবং ৩০০-৩৫০ জন।  উপনির্বাচনেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।  

সংশোধিত নীতিমালায় ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ দিন। ভোটকক্ষ কমলেও ভোটগ্রহণে গতি বজায় রেখে ভোটারের চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ মৌলিক বিধানগুলো অপরিবর্তিত থাকছে।

এলিস/এএফ

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আদনান আজাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আরিফুল আমিন

দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৬’ (স্বর্ণপদক) পেয়েছেন আদনান আজাদ (ফয়সাল বিন আজাদ)। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কারের ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিপর্যায়ে তিনি এই সম্মাননা লাভ করেন। আদনান আজাদ বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা ২০২৬, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর যৌথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আদনান আজাদের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘রেপটাইল ম্যান অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত আদনান আজাদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে আসছেন। গত ২৮ বছর ধরে লোকালয় ও মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়া অসংখ্য সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বুনো হাতির নিরাপদ করিডোর সংরক্ষণের দাবিতে ২০২১ সালে উচ্চ আদালতে রিট করেন, যা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে হাতি সংরক্ষণ নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি তিনি দেশের একজন অন্যতম বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী হিসেবেও সমাদৃত।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় আদনান আজাদ বলেন, এই স্বীকৃতি দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাঁর কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে। লোকালয়ে চলে আসা বন্যপ্রাণী হত্যা না করে, সেগুলোকে উদ্ধার ও অবমুক্ত করার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

/আবরার জাহিন