আরাফার ময়দান—হজের প্রাণকেন্দ্র। ৯ জিলহজ তারিখে এখানে সমবেত হন লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এই দিনের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে ইসলামে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হজ হলো আরাফাত।’ (তিরমিজি, মুসলিম)
আরাফার দিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ক্ষমা। এই দিনে আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের খুব কাছে আসেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তাদের নিয়ে গর্ব করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি বান্দাদের নিকটবর্তী হন এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি ফেরেশতাদের বলেন, ‘দেখো আমার এ সব বান্দা কেমন এলোমেলো চুল আর ধূলিমাখা দেহে আমার কাছে এসেছে! আমি তোমাদের সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।’ (মুসলিম, ১৩৪৮)।
শুধু তাই নয়, আরাফার দিনের দোয়াকে সর্বোত্তম দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।’ (তিরমিজি, ৩৫৮৫)। এই কারণে, এই পবিত্র ময়দানে অবস্থানকালে মুমিনদের হৃদয় আল্লাহর কাছে আরও বেশি নিবেদিত হয় এবং তাদের আবেগপূর্ণ মোনাজাত কবুল হওয়ার প্রবল আশা থাকে।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও আরাফার ময়দান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক খুতবা দিয়েছিলেন, যা আজও মানবাধিকার ও ইসলামী মূল্যবোধের এক অমূল্য দলিল। এই ময়দানেই অবতীর্ণ হয়েছিল কুরআনের সেই বিখ্যাত আয়াত, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম...’ (সুরা মায়িদা, ৩)।
আরাফাতে অবস্থান করা হজের অন্যতম অপরিহার্য স্তম্ভ। যারা এই ময়দানে উপস্থিত হতে পারেন না, তাদের হজ পূর্ণাঙ্গ হয় না। তবে শুধু হাজিরাই নন, সারা বিশ্বের মুসলমানের জন্যেও এই দিনটি দোয়া কবুলের এক বিশেষ সুযোগ। যারা হজ পালনের সুযোগ পাননি, তারাও এই দিনে রোজা রেখে এবং বেশি বেশি দুআ করে আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভ করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আশা করি, আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহ মাফ করাবে।’ (মুসলিম, ১১৬২)।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক