ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী কেন বাতিল হলো কুকুরেয়ার গোল? ওয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে বিরতিতে স্পেন স্পেন-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১ ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০

ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যকরী মাধ্যম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩০ এএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যকরী মাধ্যম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
ডেঙ্গু মশার ছবি। সংগৃহীত

ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে, প্রতি বছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগের কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। সামগ্রিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি সবিশেষ মনোযোগী হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।


কালজয়ী জীবনাদর্শ ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজকে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ইসলামের অনন্য কিছু নিয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। পবিত্র এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় বারবার উৎসাহিত করা হয়েছে এবং যারা পবিত্র থাকবে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে প্রভূত কল্যাণ ও সওয়াবের। 


মদিনার নিকটবর্তী কুবা এলাকার লোকজন পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করত। তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সেখানে এমন লোকেরা রয়েছে, যারা ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে পছন্দ করে। আর আল্লাহতায়ালা পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৮)। আরও বর্ণিত আছে, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)। প্রিয়নবি (সা.) বলেন, তোমরা তোমাদের উঠান ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখো। (জামে তিরমিজি, ৭৭৬৯)


ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ, এই নামাজের জন্য পূর্বশর্ত আরোপ করা হয়েছে পবিত্রতা (অজু) অর্জনকে। আরেক হাদিসের মধ্যে পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধেক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আবু মালেক আশআরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম, হাদিস: ২২৩)। আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মুমিনরা, তোমরা যখন নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন নিজেদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, মাথা মাসেহ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে; যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে। তোমরা যদি পীড়িত হও কিংবা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নেবে। (সুরা: মায়িদাহ, আয়াত: ৬)। নবি (সা.) বলেন, নামাজ বেহেশতের চাবি; অজু (পবিত্রতা) নামাজের চাবি। (মিশকাত)


আল্লাহতায়ালা পবিত্রতা অর্জনের সরাসরি নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন, হে বস্ত্রাচ্ছাদিত, উঠুন, সতর্ক করুন এবং আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার কাপড় পবিত্র রাখুন, অপবিত্রতা পরিহার করে চলুন। (সুরা: মুদ্দাছছির, আয়াত: ১-৪)


এক মার্কিন গবেষক তার প্রবন্ধে লিখেছেন, আমি ডিপ্রেশন (মানসিক রোগে) আক্রান্ত কয়েকজন রোগীকে প্রতিদিন পাঁচবার মুখ ধৌত করিয়েছি। কিছুদিন পরে তাদের রোগ কমে যায়। অতঃপর, আরও কিছু রোগীদের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করলাম এবং সেই সঙ্গে দিনে পাঁচবার হাত, মুখ ও পা ধোয়ার ব্যবস্থা করলাম। এবার তারা অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেলেন। এই গবেষক তার প্রবন্ধের উপসংহারে অকপটে স্বীকার করেছেন, মুসলমানদের মধ্যে মানসিক রোগ কম দেখা যায়। কারণ, তারা দিনে কয়েকবার হাত, মুখ ও পা ধুয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপের সহজ ওষুধ হলো অজু।


এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন; উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীকে প্রথমে অজু করিয়ে দিন, তারপর ব্লাড প্রেশার পরীক্ষা করুন, দেখবেন প্রেশার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ মুসলিম গবেষক বলেন, মানসিক রোগের কার্যকরী চিকিৎসা হলো অজু। পশ্চিমা দেশের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শরীরে অজুর মতো করে দিনে কয়েকবার পানি ঢেলে দেন। এতে রোগের উপশম হয় দ্রুত। 


পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার আরেকটি উপায় হলো গোসল। এটিও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশিকা ও ইবাদত। সপ্তাহে ন্যূনতম একবার হলেও গোসল করাকে আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছে ইসলামে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন (শুক্রবার) গোসল করা প্রতিটি সাবালক ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ৪৭৯)। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালার জন্য প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য হলো (অন্তত) প্রতি সাত দিনের মাথায় নিজের মাথা ও শরীর ধৌত করা। (বুখারি, হাদিস: ৮৯৭; মুসলিম, হাদিস: ৮৪৯)


তাই আসুন ইসলামের অনন্য নির্দেশনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আমাদের যাপিত জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গরূপে গ্রহণ করে ডেঙ্গুসহ অপরিচ্ছন্নতাকেন্দ্রিক সব ধরনের রোগব্যাধি থেকে বেঁচে থেকে আনন্দময় জীবনযাপন করি।

 

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম, টঙ্গী, গাজীপুর।

আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়
বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাত। চারদিক নিস্তব্ধ, পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানার মোহ ত্যাগ করে পরম তৃপ্তিতে দাঁড়িয়ে যান জায়নামাজে। যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায়, তখনই শুরু হয় বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। দিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়ার এর চেয়ে দারুণ উপায় আর কী হতে পারে?

ইসলামে রাতের এই ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য সুন্নতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা একজন বিশ্বাসীকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়। ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহর কাছে এই সময়ের প্রার্থনার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো, রাতে উঠে নামাজ পড়া।’ (মুসলিম, ১১৬৩)

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হই, তখন রাতের এই শেষ প্রহরে আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হতে পারে সব সমস্যার সমাধান। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন–কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? কে আছো রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এই নামাজ শুধু পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করে মনকে করে তোলে শান্ত ও কোমল। সারা দিনের পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে রাতের এই নির্জন ইবাদত এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন, অলসতা কাটিয়ে অন্তত দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে হলেও রাতের এই সোনালি সুযোগকে কাজে লাগাই, জীবনকে করি সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

অহংকার ও অহংকারীকে চেনার উপায়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
অহংকার ও অহংকারীকে চেনার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

সকালের চায়ের টেবিলে বসে কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা প্রায়ই ভাবি, সমাজটা এত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে কেন? আসলে এই অসহিষ্ণুতার শেকড় লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ব্যাধিতে—যার নাম অহংকার। আমরা ভাবি অহংকার মানেই হয়তো কোটি টাকার দম্ভ। কিন্তু প্রতিদিনের যাপনে, আমাদের খুব চেনা মানুষের আচরণে, এমনকি নিজের অজান্তেই এই আত্মগর্বের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসলামি পরিভাষায় একে কিবির, তাকাব্বুর বা ইস্তিকবার বলা হয়। ইমাম রাগিব আল-আসবাহানির মতে, অহংকার হলো নিজের প্রতি এমন এক মুগ্ধতা, যা মানুষকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবায়। আর এর চূড়ান্ত রূপ হলো সত্যকে অস্বীকার করে স্রষ্টার অবাধ্য হওয়া। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) খুব চমৎকারভাবে বলেছেন, মানুষের সব নিন্দনীয় চরিত্রের মূল উৎসই হলো অহংকার ও হীনতা।

বাস্তব জীবনে একটু লক্ষ্য করলেই অহংকারের নানা রূপ আমাদের চোখে পড়বে। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো সত্যকে মেনে না নেওয়া। পবিত্র কোরআনে সুরা আন-নামলের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ অন্যায় ও অহংকারবশত সত্যকে অস্বীকার করে। আবার সমাজে অনেকে নিজের ক্ষমতা, পদবি বা শক্তির দম্ভ দেখান, যেমনটা করেছিল প্রাচীন আদ জাতি (সুরা ফুসসিলাত: ১৫)। এছাড়া অন্যের সাফল্যে হিংসা করা, অবজ্ঞাভরে পথ চলা (সুরা আল-ইসরা: ৩৭) কিংবা নিজের আমলকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করাও অহংকারের স্পষ্ট রূপ। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, কেউ যদি নিজের সম্মানে অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন অবধারিত করে নেয় (আবু দাউদ, ৫২২৯)।

কিন্তু যাপিত জীবনে একজন অহংকারী মানুষকে আপনি চিনবেন কীভাবে? মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কিছু চেনার উপায় নিচে দেওয়া হলো:

জনসমক্ষে একা চলতে অপছন্দ করা এবং সবসময় পেছনে অনুসারী বা চামচাবৃত দল রাখতে চাওয়া।

গরিব বা সাধারণ মানুষের দাওয়াত এড়িয়ে চলা এবং সমমানের না হলে অন্যের বাড়িতে যেতে অস্বস্তি বোধ করা।

অসুস্থ, দুর্বল বা নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে বসলে নিজের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় পাওয়া।

তর্কে নিজের ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তা মেনে না নেওয়া এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে শত্রু মনে করা।

নিজের সাধারণ কাজ বা বাজার নিজে বহন করতে লজ্জাবোধ করা।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অহংকার হলো এক প্রকার মিথ্যা শ্রেষ্ঠত্বের মরিচীকা, যা মানুষকে মানুষের থেকে এবং পরিশেষে স্রষ্টার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর একমাত্র প্রতিষেধক হলো—নিজের ক্ষুদ্রতা অনুধাবন করা, বিনয়ী হওয়া এবং সত্যকে অবলীলায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক