বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। রাস্তার ওপর ইট, বালু, সুরকি ফেলে রাখা হয়েছে। মানুষের চলাফেরা করতে ভীষণ কষ্ট হয়। প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাই কেউ কিছু বলছে না। বললেও তিনি সে সব কথা কানেই নেন না। দিনের পর দিন বাড়ি করার নামে হাজারও মানুষকে কষ্ট দেন। আবার দেখা যায়, পানির মোটর ছেড়ে রাখা হয়েছে। পানিতে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। লোকজনের চলাচলে দারুণ কষ্ট। জুমার দিন। রাস্তার মাঝে নামাজের আগে গাড়ি রেখে ধোয়া হয়। পানিতে একাকার। মুসল্লিদের সে কী কষ্ট! আপনারা হয়তো দেখেছেন, ময়লা ফেলবার জন্য ডাস্টবিন আছে। নির্ধারিত স্থান আছে।
তবুও একদল মানুষ রাস্তার ওপর ময়লা ফেলেন। দূষিত হয় পরিবেশ। নাকে রুমাল চেপে পথচারীদের চলতে হয়। এতে শুধু মুসলমান ভাইদের কষ্ট দেওয়া হচ্ছে না; এর পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা যে অন্যের কষ্ট হয়, সেটা বোঝেন। বোঝার পরও এই কাজ করেন। এই যে এক মুসলমান ইচ্ছা করে অন্য মুসলমানকে কষ্ট দিচ্ছেন- ইসলামে এটা সম্পূর্ণ নিষেধ। মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই। আল্লাহ বলেন, যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্যে পাপের বোঝা বহন করে। (সুরা আহযাব, আয়াত ৫৮)
যে ব্যক্তি অহেতুক-অযথা মানুষকে কষ্ট দেয়, তার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কেউ নেই। রাসুল (সা.) বলেছেন, সেই ব্যক্তিই হচ্ছে প্রকৃত মুসলমান, যার হাত ও মুখ থেকে মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বোখারি, ১০; আহমদ, ৬৫১৫; নাসায়ি, ৪৯১০)। মুসলমানদের কষ্ট দেওয়ায় তো মুসলমানিত্বই তো খারিজ হয়ে যাচ্ছে। মানুষের ওপর যারা জুলুমবাজি করবে, অত্যাচার করবে, তাদেরকে আল্লাহ আজাবের সুসংবাদ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, অতঃপর তোমরা যা বল তারা তা মিথ্যা বলেছে। এতএব তোমরা আজাব ফেরাতে পারবে না এবং কোনো সাহায্যও করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে জুলুম করবে, তাকে আমি মহাআজাব আস্বাদন করাব। (সুরা ফুরকান, আয়াত ১৯)। দুনিয়া ও আখেরাত সর্বত্রই জালিমরা অপদস্থ, অপমানিত হবে। জালিমদের মৃত্যু হবে যন্ত্রণাদায়ক।
আল্লাহ বলেন, আর যদি তুমি দেখতে, যখন জালিমরা মৃত্যুকষ্টে থাকে, এমতাবস্থায় ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে আছে (তারা বলে) তোমাদের জান বের কর। আজ তোমাদেরকে প্রতিদান দেওয়া হবে লাঞ্ছনার আজাব। কারণ তোমরা আল্লাহর ওপর অসত্য বলতে এবং তোমরা তার আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে। (সুরা আল আনআম, আয়াত ৯৩)। দৃশ্যত জালিমরা নিজেদের লাভবান মনে করে। বস্তুত তারা ক্ষতিগ্রস্ত, অসফল। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় জালিম সফলকাম হয় না। (সুরা আনআম, আয়াত ২১)।
মুমিনের জন্য দুনিয়া তো কারাগারস্বরূপ। কখনোই তারা দুনিয়াকে প্রাধান্য দেবে না। অন্যকে কষ্ট দেওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না। তাই আমরা যা কিছুই করি না কেন, একটু ভেবে নেই না কেন- যেন অন্য ভাইয়ের কোনো কষ্ট না হয়। মুসলমান তো বটেই, অকারণে অন্য ধর্মের লোকদেরও কষ্ট দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। রাসুল (সা.) কোমল, নম্র আচরণের অধিকারী ছিলেন। উন্মতদেরকেও তিনি কোমল, নম্র, মধুর ব্যবহারের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে সাবধান করে বলেছেন, যে ব্যক্তি নম্র ও বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চাসনে আসীন করেন।
আর যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে অপদস্থ করেন। (মিশকাত)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ব্যবহার সম্পর্কে হযরত আয়শা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ করিম (সা.) কঠোরভাষী ছিলেন না, এমনকি প্রয়োজনেও তিনি কঠোর ভাষা প্রয়োগ করতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে শিক্ষা রেখে গেছেন, কেবল তাই গ্রহণ করলে আমাদের জন্য কল্যাণকর। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে- যেন কোনোভাবে আমার অপর মুসলমান ভাইবোন কষ্ট না পান।
লেখক: প্রাবন্ধিক