দবাদ্যযন্ত্র ও গান-বাজনার প্রসার লাভ কিয়ামতের অন্যতম আলামত। বর্তমানে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত করার পর গান-বাজনা ও নৃত্য শুরু হয়। মুসলমানদের মাঝে এই ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে, যা কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার বড় প্রমাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে।
তেমনি এমন অনেক দল হবে, যারা পাহাড়ের ধারে বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের নিকট কোনো অভাব নিয়ে ফকির এলে তারা বলবে, আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধসিয়ে দেবেন, আর বাকি লোকদেরকে তিনি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বানর ও শূকর বানিয়ে রাখবেন। (বুখারি, ৫৫৯০)
অন্যত্র তিনি বলেন, ‘শেষ জামানায় আমার উম্মতের কিছু লোককে বানর ও শূকরে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.)! তারা কি মুসলমান হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসুলুল্লাহ, তারা ছিয়াম পালন করবে এবং ছালাত আদায় করবে। জিজ্ঞেস করা হলো তাদের কি অপরাধ হে আল্লাহর রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, তারা বাদ্যযন্ত্র, নর্তকী ও ঢোল-তবলাকে ধারণ করবে এবং তারা এই মদ্যপান করবে।
অতঃপর তারা মদ্যপান ও খেল-তামাশা অবস্থায় আসবে। আর সকাল করবে আকৃতি বিকৃত অবস্থায়।’ (হিলয়াতুল আওলিয়া) তিনি আরও বলেন, ‘যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর শপথ! আমার উম্মতের একদল মানুষ রাত্রী যাপন করবে অনিষ্টতা, অহংকার ও খেল-তামাশার ওপর। অথচ তারা হারামকে হালাল, গান-বাজনায় মত্ত, মদ্যপান, সুদ ভক্ষণ ও রেশমের কাপড় পরিধান করা হালাল মনে করার অপরাধে সকাল করবে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত হয়ে।’ (আহমাদ, ২২৮৪২)
তিনি আরও বলেন, অবশ্যই এই উম্মতের একটি দল রাত অতিবাহিত করবে খাদ্য, পানীয় ও খেল-তামাশায় মত্ত হয়ে। তারা বানর ও শূকরে রূপান্তরিত অবস্থায় সকাল করবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক